kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

স্বাস্থ্যের দেখভালে অ্যাপ?

অ্যাপ কি আমাদের স্বাস্থ্যের দেখভাল করার দায়িত্ব নিতে পারে? আমাদের শরীরের অবস্থা অনুযায়ী খাদ্য পরিকল্পনা থেকে ব্যায়াম, ওজন, ঘুম থেকে সময় করে ওঠা—এসব কিছুরই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে অ্যাপকে। এমনই এক অ্যাপ ‘জয়েন্ট একাডেমি’ সম্পর্কে জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ

৩ অক্টোবর, ২০২১ ১০:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বাস্থ্যের দেখভালে অ্যাপ?

বেশ কিছু শারীরিক সমস্যার একমাত্র সমাধান রুটিন ঠিক রাখা। এ কাজ বলাটা যত সহজ, করা ততটাই কঠিন। প্রতিদিন সব কিছু সঠিক সময়ে মনে করা যেমন কঠিন, ঠিক তেমনি প্রেরণা ধরে রাখাও সহজ নয়। সে জন্যই দেখা যায় নিয়মানুবর্তিতা ধরে রাখার জন্যই থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হতে হয়। তেমনি একটি রোগ আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা, যার জন্য নিয়মমাফিক ফিজিওথেরাপির নেই কোনো বিকল্প। অথচ বর্তমান মহামারিতে বেশির ভাগ রোগীর পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না সময়মতো ফিজিওথেরাপি সেন্টারে হাজির হওয়া।

এ সমস্যা সমাধানে সুইডেনের জয়েন্ট একাডেমি সিদ্ধান্ত নেয় একটি অ্যাপ তৈরির। ২০১৪ সালে চালু হওয়া এই অ্যাপের মাধ্যমে তাদের সেন্টারে ফিজিওথেরাপি নেওয়া রোগীরা শুধু থেরাপিস্টের সঙ্গে যোগাযোগই করতে পারবেন তা নয়, নতুন সব ব্যায়ামের সঠিক কৌশল ইন্টারঅ্যাকটিভ ভিডিওর মাধ্যমে শিখতেও পারবেন। কিন্তু অ্যাপটির ব্যবহারকারীরা বলছেন, তাঁরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন অ্যাপটির নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে ব্যায়াম করার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার ফিচারটিতে। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সঠিক সময়ে সঠিক ব্যায়ামের ফলে তাঁদের বাতের সমস্যা দূর হয়ে গেছে, যেটা গাফিলতির ফলে বহুদিন হয়নি।

অ্যাপভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সুইডেন ২০২০ সালে জোরেশোরে কাজ শুরু করে। জয়েন্ট একাডেমি অ্যাপের মাধ্যমে সেবা দেওয়া শুরু করার পর থেকে ৫০ হাজার মানুষ তাদের নানা ধরনের ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন অ্যাপের মাধ্যমে থেরাপিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, যেখানে অ্যাপ চালুর আগে মাত্র ১৫ হাজার মানুষকে তারা সেবা দিতে পেরেছেন। জয়েন্ট একাডেমির দাবি, অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা লম্বা ওয়েটিং লাইনে না থেকে যেমন সেবা চটপট পাচ্ছেন, তেমনি শুধু পরামর্শের জন্য একটি পুরো বিল্ডিং ও চেম্বার পরিচালনার প্রয়োজন না থাকায় কনসাল্টিং ফিও যাচ্ছে কমে। বেশির ভাগ রোগীরই আসলে হাতে ধরে ব্যায়াম করানো বা থেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, ফলে তাঁদের চেম্বারে এনে কনসাল্টিং করার প্রয়োজন আদতে নেই।

জয়েন্ট একাডেমির পাশাপাশি আরো তিনটি অ্যাপভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা চালু রয়েছে সুইডেনে, যার মাধ্যমে রোগীরা রক্তচাপ থেকে মানসিক সমস্যা, প্রায় সব রকমের রোগেরই চিকিৎসা পাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটিতে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন অ্যাপের মাধ্যমেই সেবা নিতে পারছেন। সুইডেনের নাগরিকরা প্রযুক্তিপ্রেমী হওয়ার ফলেই অ্যাপগুলো এত দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

তবে অ্যাপভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা কতটা নির্ভরযোগ্য হতে পারে তা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ থেকেই যায়। সুইডিশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সোফিয়া রিজেন স্টালে বলেছেন, অ্যাপে স্বাস্থ্যসেবা এখনো নতুন হওয়ায় এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ লাভ করার চেষ্টা করবে অনেক সংস্থা, ফলে রোগীদের স্বার্থহানি হতে পারে। তিনি আরো বলেন, আরো গবেষণা করে বের করতে হবে কী ধরনের সেবা অ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব, আর কোনগুলো সামনাসামনি রোগী না দেখে দেওয়া সম্ভব নয়।

আগামী দিনগুলোতে ওষুধের সময় মনে করিয়ে দেওয়া, ব্যায়ামের কসরত দেখানো ও রুটিন তৈরি, ডাক্তারের সব প্রেসক্রিপশন ও টেস্টের ফলাফল সংগ্রহ করে অ্যাপের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কনসালটেন্সি করার মতো কাজগুলো যে অ্যাপেই হবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এর জন্য অবশ্য নাগরিকদের প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ওয়াকিফহাল করতে হবে, অ্যাপগুলোর মাধ্যমে দেওয়া সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য গঠন করতে হবে বোর্ড। তবে সঠিক ওষুধ প্রয়োগে ক্রনিক রোগ, যেমন—আর্থ্রাইটিস, কিডনির সমস্যা, হার্ট ডিজিজ বা মানসিক সমস্যার রোগীদের বর্তমানের চেয়েও উচ্চমানের সেবা দেওয়া সম্ভব বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সুইডেনের এ সাফল্য বিশ্বের অন্যান্য দেশেও পৌঁছে যাবে দ্রুতই।



সাতদিনের সেরা