kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ব্লকচেইন হতে পারে ভবিষ্যতের তথ্য নিরাপত্তার একটি প্রযুক্তি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি   

১০ জানুয়ারি, ২০২১ ১৯:১৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ব্লকচেইন হতে পারে ভবিষ্যতের তথ্য নিরাপত্তার একটি প্রযুক্তি

Blockchain ব্যাপারটাকে অনেকেই Crypto Currency-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে। কিন্তু এটি হতে পারে ভবিষ্যতের অন্যতম তথ্য নিরাপত্তার একটি প্রযুক্তি। আমাদের বর্তমান অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে এর কাঠামোটা যদি সহজ করে বলি, একজন ব্যবহারকারী তার Client Application (যেমন- ব্রাউজার দিয়ে ফেসবুক, মোবাইল app দিয়ে কোনো অনলাইন শপ থেকে পণ্য অর্ডার করা ইত্যাদি) থেকে Server-এ রিকোয়েস্ট পাঠায়, যা Server side Application দ্বারা Authenticate (User name & Password যাচাই করে) করে, তার রিকোয়েস্ট অনুসারে মূল Database-এ তার প্রয়োগ করা হয়।

যেহেতু এখানে Database-ই সব তথ্য সংরক্ষণের কাজ করে থাকে, তাই বলা চলে এটিই কেন্দ্রীয় তথ্য উৎস। বিষয়টা শুনতে সহজ হলেও বর্তমান সময়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা যতটা কঠোর তাতে এসব System-এ ঢোকা এতটা সহজও নয়। কিন্তু কঠিন নিরাপত্তা থাকলেও কখনো কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেও থাকে। তাই তথ্য চুরি, বিকৃতি এমন ধরনের সমস্যার সমাধানে বিশ্বব্যাপী চলছে গবেষণা। যার ফলে আসছে নতুন নতুন ধারণা, প্রযুক্তি। তার মধ্যে একটি বহুল আলোচিত ও সম্ভাবনাময় প্রযুক্তির নাম Blockchain।

আমাদের দেশেও এ নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষামূলক কাজ চলছে। কেউ কেউ ছোট প্রোটোটাইপ বানিয়েছে। তবে অধিকাংশ কাজই এখনো থিসিস পেপার পর্যায়ে। তাদের মতো আমরাও চেষ্টা করেছি এই খাতে নিজেদের কিছু কন্ট্রিবিউশন রাখতে। ফলে আমরা ইতিমধ্যে একটি সম্পূর্ণ ফাংশন Blockchain Application বানাতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আমাদের এই কাজকে সরাসরি Blockchain বলছি, কারণ এটি পরিপূর্ণভাবে IBM ও Linux Foundation-এর একটি সুপ্রতিষ্ঠিত Framework-এর ওপর তৈরি।

এটি একটি Private Blockchain Network, যা বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের বিশেষ কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। এই প্রযুক্তির বিশেষ দিক হলো, এটি ব্যবহারবিধি Client side-এ আমাদের নিয়মিত প্রযুক্তির মতো হলেও Server side-এ এটি বিশেষ এক Data Structure হিসেবে কাজ করে। যেখানে প্রচলিত Database ভিত্তিক প্রযুক্তির মূল Database -এর কোনোভাবে তথ্য বিকৃত করা হলে তার ওপর নির্ভরশীল সব মাধ্যম সেই বিকৃত তথ্যে বিভ্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে, সেখানে ব্লকচেইন প্রযুক্তি সম্পূর্ণ বিষয়টিকে একটি ভিন্নভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষা করার কৌশলের ওপর নির্ভর করে।

প্রচলিত প্রযুক্তির একটি Database-এ যদি কোনো হ্যাকার কোনো তথ্য পরিবর্তন বা বিকৃত করে, তা কর্তৃপক্ষের নজর এ আসার পর তাদের ঠিক করতে হয়, অথবা দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিতে ব্যাকআপ ডকুমেন্ট থেকে তা আবার যাচাই করে নিতে হয়, যা যেকোনো বড় প্রতিষ্ঠান তাদের বিশালসংখ্যক গ্রাহকদের তথ্যের ব্যাপারে ভালোই অনিশ্চয়তায় থাকে, Blockchain এখানে সেই নিশ্চয়তাটি দিয়ে থাকে। কারণ permission based private Blockchain তার ডেভেলপমেন্ট বা সৃষ্টির শুরু থেকেই একটি বিশেষ স্ট্যান্ডার্ড ফলো করে গড়ে ওঠে। যেখানে digital signature থেকে শুরু করে private key-এর ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়।

একই তথ্য তার প্রতিটি শাখায় সে রাখতে পারে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো- এই নেটওয়ার্কে কেউ যেমন নিজের ইচ্ছায় ঢুকতে পারে না, তেমনি চাইলেই হঠাৎ নেটওয়ার্ক থেকে সরে যেতে পারবে না। ফলে এই নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা Registered User চাইলেই কোনো অঘটন ঘটানোর প্রবণতা দেখিয়ে নিজেকে রোষানলে ফেলতে চাইবে না। পাশাপাশি যদি কোনোভাবে তথ্য বিকৃত করতেও সক্ষম হয়, এই প্রযুক্তি নিজেই হাজার হাজার তথ্যের মধ্যে বিকৃত তথ্যকে বের করে নিজেই তা শুধরে নেবে।

এটি মূলত সব তথ্যকে decentralized করে রাখে। যখনই কোনো ব্যবহারকারী তথ্যে কোনো পরিবর্তন ঘটায়, তা বিশেষ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হয় এবং তা সঙ্গে সঙ্গে ডাটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত করে শেষ হয় না। তা একই সঙ্গে একটি নতুন information ব্লক হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এভাবে যখন পর্যাপ্ত তথ্য পরিবর্তন বা তথ্য সংযোজন করা হয়, তখন একটি পরিপূর্ণ ব্লক তৈরি হয়। এভাবে প্রতিবার নতুন নতুন ব্লক তৈরি হয়ে যে একটি বিশেষ খতিয়ানের সারি তৈরি হয়, তার জন্যই এই প্রক্রিয়াটিকে ব্লকচেইন বলা হয়।  

এখানে প্রতিটি ব্লক একটি বিশেষ নিরাপত্তা কাঠামোতে গড়ে ওঠে। যার জন্য একটি স্বাভাবিক ডাটাবেইসে যেভাবে চাইলেই তথ্য পরিবর্তন বা বিকৃত করা যায়, ব্লকচেইনে তা করা যায় না। পাশাপাশি decentralized সব ডাটাবেইস সব সময় আপডেটেড থাকে। তা যদি এই অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার বা নির্মাতা স্বয়ং পরিবর্তন করে, তাতেও এই প্রযুক্তি নিজেই আবার তা ঠিক করে ফেলবে।

আমাদের সরকারও বর্তমানে এই সম্ভাবনাময় প্রযুক্তির গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু এইখানে মূল বাধা হয়ে আছে জাতীয় নিরাপত্তা। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক প্রকাশিত 'National Blockchain Strategy : Bangladesh'-এ উল্লেখ করা হয় যে মাইক্রোসফট বা IBM-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠান সরকারকে এমন প্রযুক্তি দিলেও এর মূল তথ্য তারা তাদের কাছে রাখবে। এ ক্ষেত্রে সরকার নিজেও আশাবাদী, আমাদের নিজেদের দেশে এমন কিছু করা, যাতে সরকার নিজেই নিজের তথ্যের ওপর কর্তৃত্ব রাখতে পারে।  

দেশের এমন চাহিদা সামনে রেখে আমরা দুজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র নিজেদের অর্থায়ানে ক্ষুদ্র পরিসরে কিছু করার চেষ্টা করি। আমাদের লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্য খাতে নাগরিক সুবিধা নিয়ে কাজ করা। যার ফলে আমরা প্রথমে সম্পূর্ণ প্রজেক্টটি প্রচলিত প্রযুক্তিতে বানাই এবং পরে আবার তা ব্লকচেইনে তৈরি করি। এই প্রযুক্তিটি আমরা আমাদের ঘরে তৈরি সার্ভার থেকে বিশ্বব্যাপী ব্যবহারযোগ্য করতে পেরেছি। তাই আশা রাখি, এটি অবশ্যই দেশের যেকোনো ডাটাসেন্টার থেকে চালানো সম্ভব হবে। সুতরাং আমাদের তথ্য দেশে রেখেই এমন প্রযুক্তি দেশে তৈরি ও পরিচালনা করা সম্ভব।

বর্তমানে এই প্রকল্প নাগরিক স্বাস্থ্য সুবিধায় বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি থেকে শুরু করে সব অনলাইন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উপযোগী রয়েছে। ডাক্তারদের জন্য সময়োপযোগী সফটওয়্যার এবং সব শেষে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্রশাসনিক ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডাক্তারদের অন্তর্ভুক্তিকরণ, তথ্য যাচাইকরণ এবং ওষুধ নিয়ন্ত্রণ- সব কিছু করা সম্ভব হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা