kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

গৃহস্থালির যত অ্যাপ

অনলাইন ডেস্ক   

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ১০:২৭ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



গৃহস্থালির যত অ্যাপ

অ্যাপ ইনস্টল করলেই স্মার্টফোনটি হয়ে যাবে টিভি রিমোট

স্মার্টফোন আজ দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, পিছিয়ে নেই ঘরের টুকিটাকি কাজেও। প্রয়োজনমতো শুধু অ্যাপ ইনস্টল করেই ফোনকে বানিয়ে ফেলা যাচ্ছে গৃহস্থালি কাজের হরেক রকম যন্ত্রপাতিতে। কয়েকটি নমুনা দিচ্ছেন এস এম তাহমিদ

রিমোট কন্ট্রোল, কম্পাস, টাইমার থেকে শুরু করে লেভেল ফাইন্ডার, এমনকি দেয়ালে লুকিয়ে থাকা ইলেকট্রিক তারও খুঁজে বের করা যাবে হাতে থাকা স্মার্টফোনটি দিয়েই। আসবাব কেনার আগেই তা ঘরের সঙ্গে মানাচ্ছে কি না সেটা অগমেন্টেড রিয়ালিটিতে যাচাই করার সুযোগও করে দিচ্ছে এসব বিশেষায়িত অ্যাপ।

ফোনকেই বানান রিমোট
বাজারে থাকা অনেক ফোনে রিমোট কন্ট্রোল ফিচারটি থাকার পরও অনেকের কাছেই তা রয়ে গেছে অজানা। ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে স্মার্ট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং চিরচেনা টিভি বা এসির রিমোটের কাজই ফোনে করা সম্ভব। এ জন্য ফোনে লাগবে ‘আইআর ব্লাস্টার’ ফিচার। বেশির ভাগ শাওমি, এলজি, স্যামসাং ও রিয়েলমি ফোনে এ ফিচার দেওয়া থাকে। সেটির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন ডিভাইসের রিমোটের ডাটাসমৃদ্ধ অ্যাপ। এর মধ্যে আছে ইউনিভার্সাল আইআর টিভি রিমোট অ্যাপ ও পিল আইআর রিমোট। দুটি অ্যাপই মূলত টিভির জন্য তৈরি হলেও এসি বা সেট টপ বক্সের জন্যও ব্যবহার করা যাবে। টিভির মডেল নম্বর অনুযায়ী লে-আউট নামিয়ে নিলেই কাজ শেষ। টিভির প্রায় সব ফিচার ফোন থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, এজন্য টিভির স্মার্ট হওয়ার প্রয়োজন নেই। শাওমি ফোনে থাকা মি রিমোট অ্যাপটিও এ কাজে লাগানো যাবে, তবে সেটিতে লে-আউটের সংখ্যা কম। এলজি ফোনে থাকা কিউ রিমোটের সুবিধা, সেটি বর্তমান রিমোট থেকে কমান্ডগুলো পড়ে নিতে পারে, তবে ফিচারটি অন্যান্য ডিভাইসে পাওয়া যাবে না। দুটি অ্যাপই প্লেস্টোরে পাওয়া যাবে।

ঘরের কাজে ফোনের সেন্সর
স্মার্টফোনে বেশ কিছু সেন্সর থাকে, যার পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার প্রায় সময়ই আমাদের করা হয় না। যেমন—জাইরোস্কোপ সেন্সর স্ক্রিন রোটেশন ও গেমে ব্যবহার করা হয়; কিন্তু কজনই বা সেটি স্পিরিট বা বাবল লেভেল হিসেবে ব্যবহার করেছেন? কোনো পৃষ্ট সমতল বা একেবারে খাড়া হয়েছে কি না বা হেলানো থাকলে তার ডিগ্রি কত, সেটি মাপার জন্য স্পিরিট বা বাবল লেভেল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সে কাজটিই অ্যাপের মাধ্যমে স্মার্টফোনে সেরে ফেলা যাবে, শুধু প্রয়োজন স্মার্ট টুলবক্স অ্যাপ।

বেশির ভাগ স্মার্টফোনেই এখন ব্যারোমিটার সেন্সর দেওয়া থাকে, যার মূল কাজ ম্যাপস অ্যাপে উচ্চতা দেখানো। চাইলে সেটি ব্যবহার করে বায়ুচাপ দেখাও সম্ভব। বায়ুচাপের ওপর ভিত্তি করে আবহাওয়া নিয়ে পূর্বাভাস করা যায়, যা অনেক সময় আবহাওয়া অফিসের চেয়েও নিখুঁত হতে পারে। সেটিও এ অ্যাপেই করা যাবে।

ফোনের মধ্যে থাকা আরো একটি কাজের সেন্সর—ম্যাগনেটোমিটার। সেটি বেশ কিছু কাজে লাগানো সম্ভব। কম্পাস অ্যাপের সঙ্গে প্রায় সবাই পরিচিত, কিন্তু কিবলা কম্পাস অ্যাপটি ব্যবহার করা আরো সহজ। নতুন কোথাও গেলে কিবলা কোন দিকে তা বের করার সবচেয়ে সহজ উপায় এ অ্যাপ। এ ছাড়া ম্যাগনেটোমিটার ব্যবহার করে দেয়ালের ভেতরে থাকা বৈদ্যুতিক লাইন বের করা সম্ভব, দেয়াল ফুটো করার সময় যা খুবই জরুরি। সে জন্য লাগবে স্টাড ফাইন্ডার অ্যান্ড মেটাল ফাইন্ডার অ্যাপ। দেয়ালে থাকা রড, বৈদ্যুতিক লাইন এবং লুকানো লোহার ওপর ফোন ধরলে ম্যাগনেটিক ফিল্ড বেড়ে যায়। এর ওপর ভিত্তি করেই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে।

সিসি ক্যামেরায় রাখুন ঘর সুরক্ষিত
বাসার নিরাপত্তার জন্য ক্লোজ সার্কিট বা সিসি ক্যামেরার ব্যবহার ইদানীং তুমুল জনপ্রিয়। প্রায় প্রতিটি সিসি ক্যামেরা সিস্টেমেরই আছে স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে তদারকির সুবিধা। অ্যাপগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিটি নির্মাতার জন্য আলাদা; কিন্তু ‘আইক্যামভিউয়ার আইপি ক্যামেরা ভিউয়ার’ অ্যাপটি প্রায় সব আইপি ক্যাম সুবিধাসংবলিত ক্যামেরার সঙ্গেই কাজ করে। ফলে একাধিক ব্র্যান্ডের ক্যামেরা ব্যবহার করলেও ফোনে অনেক অ্যাপ রাখার দরকার নেই। ‘অ্যালফ্রেড হোম সিকিউরিটি ক্যামেরা’ অ্যাপটি বিষয়টিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে চাইলে পুরনো স্মার্টফোনকে সিসি ক্যামেরায় রূপান্তর করা সম্ভব। ‘সিসিটিভি রেকর্ডার’ অ্যাপ ব্যবহার করে আইপি ক্যামেরার ফুটেজও রেকর্ড করা যাবে ফোনেই। ঘরের নিরাপত্তার জন্য অ্যাপগুলো বেশ কার্যকর।

গাছপালার পরিচর্যা
গাছ লাগানোর শখ অনেকের থাকলেও, কিভাবে তা শুরু করবেন বা কোন গাছের কী যত্ন প্রয়োজন—তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন অনেকেই। সে বিষয়ে সাহায্য করার অ্যাপের অভাব নেই; এর মধ্যে অন্যতম ‘ইনডোর প্ল্যান্ট গাইড’ ও ‘লিফ স্ন্যাপ’। ইনডোর প্ল্যান্ট গাইডকে বলা যায় বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ গাছবিষয়ক ডাটাবেইস। এতে আছে হাজার হাজার গাছের নাম, ছবি, সেগুলোর উপকারিতা, তার জন্য প্রয়োজনীয় মাটি, সার ও পরিচর্চার উপায়ের সব তথ্য। গাছ পরিচর্চার নিয়ম-কানুন অনেক সময়ই আমরা মানি না, ঘরের পরিবেশ অনুযায়ী গাছ নির্বাচনও করি না। ফলে দেখা যায়, দ্রুতই সেগুলো মরে যায় বা অপরিপুষ্ট হয়ে থাকে। সে সমস্যার সমাধান এ অ্যাপ। লিফ স্ন্যাপও ডাটাবেইসভিত্তিক অ্যাপ, তবে এটির কার্যকরণ ভিন্ন। গাছ চেনার জন্য এ অ্যাপের ব্যবহার। অ্যাপটি ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দেবে সেটি কোন গাছ, তার প্রকৃতি, ধরন এবং অন্য সব তথ্য।

অগমেন্টেড রিয়ালিটিতে ঘর সাজানো
আইকিয়া ও অ্যামাজন কিছুদিন আগেই তাদের অগমেন্টেড রিয়ালিটি ব্যবহার করে কিভাবে ঘর সাজানোর সামগ্রী না কিনেই তা ঘরের সঙ্গে মিলবে কি না সেটা পরীক্ষা করার ফিচারের ডেমো দেখিয়েছিল। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে ‘হাউস : হোম ডিজাইন অ্যান্ড রি-মডেল’ অ্যাপটি। এটিকে বলা যায় পিন্টারেস্ট আর সেবা অ্যাপের মাঝামাঝি কিছু। এখানে বাসা সাজানোর এবং নতুন করে মডেলিং করার আইডিয়া পাওয়া যাবে। অগমেন্টেড রিয়ালিটির মাধ্যমে সেসব আইডিয়ার আসবাব, বাঁধাই করা ছবি, শোপিস ঘরে কেমন লাগবে দেখতে সেটাও পরীক্ষা করা যাবে। অবশেষে পছন্দমতো সাজানো বা রি-মডেলিংয়ের জন্য মিস্ত্রিও পাওয়া যাবে অ্যাপে, যদিও শেষ ফিচারটি দেশে কাজ করে না।

ঘরের কাজ করুন সহজ
‘দ্য টিম টম’ অ্যাপ একটি বড় সমস্যার সহজ সমাধান বলা যায়। বর্তমানের তরুণ ও যুবক বয়সীদের প্রায় সবাই গেমিং করেই বড় হয়েছেন বলা যায়। গেমের মধ্যকার মিশন সিস্টেমের সঙ্গে তাঁরা খুব ভালোভাবে পরিচিত। দেখা যায় শুরুতে কী কাজ, কখন করতে হবে—তার একটি ব্রিফিং দেওয়া হয়; তার পর প্রতিটি পদক্ষেপকে অবজেক্টিভ হিসেবে তুলে ধরা হতে থাকে। একে একে ছোট ছোট অবজেক্টিভ শেষ করতে করতেই মিশনের পুরো কাজ হয়ে যায়। বাসার কাজকেও এমন ছোট ছোট অবজেক্টিভে পরিণত করে সেটাকে গেমের মতো করাই এ অ্যাপের কাজ। শুনে মনে হতে পারে, এই ছোট গিমিক আর কী এমন কাজ করবে; কিন্তু দেখা গেছে অ্যাপটির এই স্ট্রাকচার দৈনন্দিন কাজকে করেছে অনেকটাই সহজ। বিরক্তিকর কাজগুলো এভাবে ভাগ করে নিলে শিডিউল ধরে রাখা সহজ হয়ে যায়।

রেসিপি অ্যাপ
প্রতিদিনের রান্নাবান্নার জন্য কজনই বা প্রতিনিয়ত নতুন রেসিপি খুঁজে বের করেন? সে কাজের জন্য আছে অ্যাপ ‘টেস্টি’। এতে আছে ৩০০০-এরও বেশি রেসিপি। প্রতিটি রেসিপির জন্য দেওয়া আছে একেবারে ধাপে ধাপে বিস্তারিত নির্দেশনা। রান্নার সময় কী কী করতে হবে সেটার ভিডিও দেওয়া আছে। তবে বলা যায়, সবচেয়ে বড় ফিচার—নিজ থেকেই রেসিপি সাজেশন। সকালে নাশতার রেসিপি, দুপুরে লাঞ্চের রেসিপি বা ছুটির দিনে বিশেষ ডিশের রেসিপি রান্নার অভিজ্ঞতাই বদলে দেবে। বলা যায়, এটি শুধু রেসিপি অ্যাপই নয়, রান্নার প্রশিক্ষক ও সুপারিশকারী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা