kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

গ্রামীণফোনের ওয়েবিনারে বক্তারা

দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ নভেম্বর, ২০২০ ২২:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা। এজন্য দেশে বেশ কিছু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও পলিসি লেভেল ভিত্তিক কাজগুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক প্রশিক্ষণগুলোতে জোর দিতে হবে। 

আজ শুক্রবার গ্রামীণফোন আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা একথা বলেন। জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে গ্রামীণফোন আয়োজিত ‘তারুণ্যের সাথে, সম্ভবনার পথে’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী ওয়েবিনার সিরিজের আজ ষষ্ঠ দিনের বিষয়বস্তু ছিল ‘অদম্য উদ্যোক্তা’।

ওয়েবিনারে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব আখতারুজ্জামান খান কবির বলেন, ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর মূলত কৃষি ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণগুলো দিয়ে থাকি। বর্তমানে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো একসময় কৃষিভিত্তিক ছিল। যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণগুলোও এখনো মূলত মাছ চাষ কিংবা পশুসম্পদ সম্পর্কিত প্রশিক্ষণকে প্রাধান্য দিয়ে থাকছি। 

এছাড়া প্রযুক্তির প্রশিক্ষণে মোবাইল, রেফ্রিজারেটর মেরামত, কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণগুলো আমরা দিয়ে থাকি। গত তিন বছর ধরে আমরা ট্যুরিজম, ফুড এন্ড ব্রেভারেজ, হাউজকিপিংসহ কয়েকটি নতুন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। এখন আমাদের যেমন তারুণ্য নির্ভর সমাজ ২০৩০ কিংবা ৪০ এর পরে কিন্তু সেই সংখ্যা কমে যাবে। সেই বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমরা এখন থেকেই ‘কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণের জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছি।

এছাড়াও আন্ডার ওয়াটার ওয়েল্ডিং প্রশিক্ষণ নিয়েও আমরা কাজ করছি। শুধু এগুলোই নয়, প্রয়োজন ভিত্তিক যে কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য আমরা কাজ করছি।’ বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘আমরা যদি সামগ্রিকভাবে দেখি তাহলে আমাদের দেশের প্রাথমিক লেভেল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি ডক্টরেট লেভেল পর্যন্ত দক্ষ লোকের সংখ্যা ৪০ শতাংশের একটু নিচে। আমরা ২০২১ সালে মাধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছি। বিশ্ব ব্যাংকের হিসেব মতে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হতে হলে আমাদের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ দক্ষ মানুষের প্রয়োজন হবে। 

সেক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আমাদের জন্য। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আমাদের দেশে বেশ কিছু কাজ শুরু হয়েছে। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই মূলত প্রকল্পভিত্তিক। আমাদের কোর্ডিনেশন গ্যাপ কমিয়ে দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য দেশে ভালো একটি সিস্টেম গড়ে তুলে কীভাবে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় সেজন্য বিশ্ব ব্যাংক কাজ করছে যার মাধ্যমে বিদেশের সমমানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।’

ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির ভারপ্রাপ্ত প্রধান তাসমিয়া রহমান বলেন, ‘ব্র্যাকের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পটি মূলত অনানুষ্ঠানিক খাতকে প্রাধান্য করেই। আমাদের ৮৭ ভাগ ছেলে মেয়ে যারা অনানুষ্ঠানিক খাতে চাকরি করে তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। ব্র্যাকের এই প্রকল্পটি ২০১২ সালে শুরু হয় যেখানে ‘ওস্তাদ সাগরেদ’ শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়। দেশের ৪৬টি জেলায় আমাদের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছে যার মাধ্যমে বছরে ৪০ হাজার ছেলে মেয়েকে আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারছি।’

গ্রামীণফোনের হেড অফ লার্নিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট সৈয়দ মাসুদ মাহমুদ বলেন, ‘গ্রামীণফোন তাদের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। আমরা যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা বলে আসছি সেটির দিকে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আরো কয়েক বছর পরে আসার কথা থাকলেও করোনার কারণে সেটি অনেক এগিয়ে এসেছে। এখন আমাদের ই-কমার্স খাতের পরিধি বেড়েছে, অনলাইনে ব্যবসা ও অংশগ্রহণ বেড়েছে। আগে ই-কমার্স খাতে ২০ ভাগ অংশগ্রহণ থাকলেও এখন সেটি বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ হয়ে গেছে।

এছাড়াও এখন আমাদের অনেক কিছুই ক্লাউডভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে। তাই এখন সাইবার সিকিউরিটি ও নিরাপদ ইন্টারনেটের কথাও বেশি আসছে। এই প্রেক্ষিতে আমাদের এখন কি কি করা দরকার এবং কাদের ভূমিকা রাখা দরকার সেটি আমরা জানি কিন্তু তার বাস্তবায়ন সহজে হচ্ছে না। এর মানে আমাদের কোথাও গ্যাপ থেকে যাচ্ছে। সেই গ্যাপ আমাদের পূরণ করতে হবে। আমাদের পলিসি লেভেল, করপোরেট লেভেল এবং প্রাতিষ্ঠানিক লেভেলকে যদি এক করতে পারি তাহলে কাজটি অনেক সহজ হয়ে যাবে। 

মোট কথা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় কোন কোন বিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে হবে আমরা সেটি জানি, কিন্তু কীভাবে সেই দক্ষতা আমরা অর্জন করব সেটি নিয়ে আমাদের এগোতে হবে।’ ষষ্ঠ দিনের এই ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন গ্রামীণফোনের সাম্মু ফারহানা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা