kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

গ্রামীণফোনের ওয়েবিনারে বক্তারা

করোনা ফ্রিল্যান্সিংয়ের পরিধিকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ নভেম্বর, ২০২০ ২২:১৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনা ফ্রিল্যান্সিংয়ের পরিধিকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ও সংক্রমণ রোধে ঘোষিত লকডাউনে অন্যান্য ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজের পরিধি আরো কয়েক ধাপ বেড়েছে।

আজ মঙ্গলবার গ্রামীণফোন আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এই কথা বলেন। জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে গ্রামীণফোন আয়োজিত ‘তারুণ্যের সাথে, সম্ভবনার পথে’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী ওয়েবিনার সিরিজের তৃতীয় দিনে গতকাল সোমবারের বিষয়বস্তু ছিল ‘ফ্রিল্যান্সিং - সম্ভাবনা বিশ্বজুড়ে’।

ওয়েবিনারে সম্মানিত বক্তার বক্তব্যে স্কিল ফর ইম্পাওয়ারমেন্ট ইনভেস্টমন্টে প্রোগ্রাম (এসইআইপি) এর নির্বাহী প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল হক বলেন, এসইআইপি মূলত পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করে। আমাদের তরুণ সমাজকে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে বৈশ্বিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে এইইআইপির যাত্রা শুরু হয়। আমরা মূলত পার্টনারশিপের মাধ্যমে দক্ষতার প্রশিক্ষণকে সম্ভব করে তুলি। পার্টনারশিপের ক্ষেত্রে আমরা মূলত অর্থযোগানের কাজটি করি আর পার্টনার প্রতিষ্ঠান দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। আইটি, গার্মেন্টস সেক্টর, কনস্ট্রাকশন সেক্টরসহ দেশের জনপ্রিয় ১০ টি খাতে প্রশিক্ষণের জন্য আমরা অর্থ সহায়তা প্রদান করে থাকি। আমাদের দেশে শ্রমিকের সংখ্যা প্রচুর থাকলেও দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা খুব কম। অনেকক্ষেত্রে হয় শ্রমিকদের কোনো দক্ষতা থাকে না অথবা তার দক্ষতা খুবই স্বল্প পরিসরে। এর ফলে দেশে কিংবা বিদেশে শ্রমিকদের যে পরিমাণ শ্রম খরচ হয় সেক্ষেত্রে তাদের প্রাপ্তি অনেক কম। শুরুতে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ের দক্ষতা প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করি। কিন্তু এখন আমরা মধ্যম পর্যায়ের দক্ষতা প্রশিক্ষণে কাজ করছি এবং শীঘ্রই উচ্চ দক্ষতার প্রশিক্ষণ নিয়েও কাজ শুরু করবো।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, আমাদের দেশটি একটি তরুণ্য নির্ভর দেশ যেখানে আমাদের গড় বয়স ২৭ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের মাধ্যমে আমরা কীভাবে সফলভাবে সুফল পেতে হলে আমাদের কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের চারপাশে জ্যাম, সবখানে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব সহ কিছু সমস্যা বিদ্যমান। এই সমস্যাগুলো নিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তা ধারার মাধ্যমে আমাদের তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। করোনার কারণে যখন নিত্যপ্রয়োজীয় দ্রব্য বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার একটি চাহিদা তৈরি হয়ে গেল তখন আমরা তরুণরা সফলভাবে সে চাহিদা মিটিয়ে নিজেরাও উপর্জান করছে, কাজের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। আমাদের তরুণদের নতুন নতুন চিন্তাধারা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সব বিষয়ে অল্প অল্প না জেনে বরং একটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে হবে। আর ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টে আমরা তখন ই যেতে পারবো যখন আমাদের এই বিশাল সংখ্যাক তরুণ জনগোষ্ঠিকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো। তরুণদের এখন দক্ষ করে গড়ে তুলতে না পারলে এই বিশাল জনসংখ্যা এক সময়ে দায়বদ্ধতায় পরিণত হবে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)’র সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরীফ বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সার শব্দটিকে অনলাইন প্রফেশনাল হিসেবে দেখতে পারি। সম্প্রতি বাক্য’র তত্ত্বাবধানে অনলাইন প্রফেশনাল ফোরাম নামের একটি নতুন ফোরাম নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে। অনেকদিন ধরেই বেশ বড় একটি অংশ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করে আসছে। সেক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব কিছু বিষয় আছে যেগুলো তারা যথাযথ ভাবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে পারছিলো না। কাজ করে তারা যে টাকা টা আয় করছে সেটি দেশে নিয়ে আসা আবার দেশ থেকে বাইরে কিছু খরচ করতে চাইলে সেক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। একটি প্লাটফর্মে এসে এই বিষয়গুলো নিয়ে যেন কথা বলা হয় সেজন্যই ওই ফোরামের আয়োজন করা হয়। এখন যারা নিজেদের চেষ্টায় ফ্রিল্যান্সিং করছে তাদেরকে যদি একটু প্রশিক্ষণের মধ্যে নিয়ে আসা যায় তাহলে যে ছেলেটি এখন ১০০ ডলার আয় করছে সে ছেলেটি দক্ষ হয়ে ৫০০ ডলার আয় করতে পারবে।

দি স্পিক ইজি সোসাইটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ফ্রিল্যান্সার তাসফিয়া জামান বলেন,‘২০১৩ সালে আমি যখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করি তখন মেয়ে তো দূরের কথা ছেলেদের জন্যও ফ্রিল্যান্সিং অনেক কঠিন ছিল। আমি মূলত ফটোশপ ও লিখতে পছন্দ করতাম জন্য আমার এই বিশেষত্বকে কীভাবে ব্যবসায়িকভাবে কাজে লাগাতে পারি সেজন্য খোঁজ করতে গিয়েই ফ্রিল্যান্সিংয়ে জড়িয়ে পড়া। সে সময়ে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আমরা প্রশিক্ষণ বা অবকাঠামোগত সুবিধা পাইনি। আশার কথা হচ্ছে এখন সেই সুযোগটি তৈরি হয়েছে। আমাদের তরুণদের সেই সুযোগটি গ্রহণ করতে হবে। আমাদের অনেকে ভালো কাজ জানলেও সেটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারার কারনে ভালো সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেজন্য ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যারিয়াার দূর করতে হবে। আর শুধু টাকার কথা না ভেবে প্রথম দিকে সবাইকে আগে দক্ষতা অর্জন করতে হবে, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অর্জন করতে হবে তাহলে পরবর্তীতে টাকা ওই তরুণের পেছনে ছুটবে।’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্রামীণফোনের সাম্মু ফারহানা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা