kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

ভারত বা চীনের অক্সিমিটার, কোনোটাতেই ভরসা নেই ব্যবহারকারীদের

অনলাইন ডেস্ক   

২ আগস্ট, ২০২০ ১২:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারত বা চীনের অক্সিমিটার, কোনোটাতেই ভরসা নেই ব্যবহারকারীদের

করোনাকালে কিছু জিনিসপত্র মানুষের ঘরে ঘরে ঠাঁই করে নিয়েছে। জ্বর মাপার থার্মোমিটার তো আছেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেহের অক্সিজেন মাপার অক্সিমিটার। সচেতনরা অনেকেই ঘরে অক্সিমিটার কিনে রাখছেন। এখন তো আর চাইলেই হাসপাতাল বা ডাক্তারখানায় গিয়ে চট করে অক্সিজেন মেপে আসা যায় না। তবে সম্প্রতি এই যন্ত্রটির ওপর মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। কাজেই কমছে বিক্রি। বলা হচ্ছে, এই যন্ত্রটি আদৌ ঠিকঠাক কাজ করে কিনা বা সঠিক পরিমাপ দেয় কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। 

এটা ছোট একটি যন্ত্র, অনেকটা ক্লিপ-অন ডিভাইস। যন্ত্রটি আপনার দেহের অক্সিজেনের মাত্রা এবং হৃদস্পন্দন পরিমাপ করে। এটা হাতে ঘড়ির মতো পরে থাকা যায়। যন্ত্রের একটা দিক ক্লিপের সাহায্যে আটকে থাকে আঙুলের সঙ্গে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রতি মুহূর্তে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ও হৃদস্পন্দন দেখা যায়। করোনা আবহে এই অক্সিমিটারের বিক্রি বেড়েছে। 

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনাভাইরাস সবার আগে মানুষের হৃদয় ও ফুসফুসে আঘাত করে। তাই সবার আগে তার হৃদস্পন্দন ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রায় পরিবর্তন দেখা যায়। আর সেই কারণেই এই অক্সিমিটারের বিক্রি বেড়েছে। কিন্তু অনেকেই জানাচ্ছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। অনেক ক্ষেত্রেই ভুল মাপ দেখাচ্ছে এই যন্ত্র।

দিল্লির ৬০ বছরের নিশা সাক্সেনা জানান, অনেক সময় ভুল মাপ দেখায় এই যন্ত্র। নিশা জানিয়েছেন, তারা দুটি অক্সিমিটার কিনেছিলেন। একটির দাম ১৮০০ টাকা ও অন্যটির দাম ১৫০০ টাকা। কিন্তু যখন দুটি যন্ত্র তারা ব্যবহার করেছেন, কখনও দুটি থেকে সমান মাপ পাননি। অর্থাৎ দুটি যন্ত্রে অক্সিজেনের মাত্রা ও হৃদস্পন্দন সবসময় আলাদা দেখিয়েছে। একজনের শরীরে সেটা কীভাবে হওয়া সম্ভব।

একই রকমের অভিজ্ঞতা গুরুগ্রামের বাসিন্দা প্রিয়াল খট্টরের। তিনি জানিয়েছেন, অক্সিজেনের মাত্রায় বিশেষ সমস্যা না হলেও হৃদস্পন্দন প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তন হয়েছে। কখনও বসে থাকা অবস্থায় তার হৃদস্পন্দন দেখিয়েছে ৬৮। পরের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তা দেখিয়েছে ১০৫। কোনরকম শারীরিক পরিশ্রম ছাড়া তা কীভাবে সম্ভব? ৩০০০ টাকা দিয়ে অক্সিমিটার কিনেও এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাকে।

মুম্বাইয়ের এক ৩০ বছরের শিক্ষক আবার অন্যরকমের সমস্যায় পড়েছেন। তার বাবা-মা বয়স্ক। তাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে। তাই অক্সিমিটার কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু তা রিডিং দেখাতে দেখাতে মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়। তখন ব্যাটারি খুলে তা ফের লাগিয়ে ডিভাইস চালু করতে হয়। যদিও এই তিনটি পরিবারই কোনো পরিচিত ব্র্যান্ডের অক্সিমিটার কেনেননি। ফলে বদল করতেও পারছেন না তারা।

এই বিষয়ে অক্সিমিটারের কম্পানির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, ভারতে তৈরি হওয়া অক্সিমিটারের বেশিরভাগই সরকারের পর্যবেক্ষণের বাইরে থাকে। তাদের গুণগত মানও পরীক্ষা করা হয় না। অনেক অক্সিমিটার আবার চীন থেকেও আমদানি করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরো জানা যায়, বর্তমানে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বন্ধ থাকায় ভারতীয় কম্পানিগুলো এই যন্ত্র তৈরি করছে। অভিজ্ঞতা না থাকায় তাতে অনেক গরমিল থেকে যাচ্ছে। ফলে যারা সেই যন্ত্র কিনছেন, তারা সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। এই বিষয়ে অবশ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষস থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা তা জানানো হয়নি।

সূত্র: দ্য প্রিন্ট

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা