kalerkantho

শনিবার। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৫ ডিসেম্বর ২০২০। ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

ঘরবন্দি সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের রেমিটেন্স সেবা দিচ্ছে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুন, ২০২০ ১৫:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘরবন্দি সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের রেমিটেন্স সেবা দিচ্ছে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা

করোনা ভাইরাসের ঝড় বইছে পুরো পৃথিবীতে। এই ঝড় এর সবচেয়ে বড় একটা ধাক্কা লেগেছে প্রবাসীদের জীবনেও। ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে এই ঝড় বয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরে থাকা প্রবাসীদের মাঝেও।

তবে বলা যেতেই পারে, সবচেয়ে ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে সিঙ্গাপুরে থাকা প্রবাসীরাই। সিঙ্গাপুর সরকার প্রথম থেকেই প্রবাসীদের তাদের নাগরিকের সমান গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুরের সরকারের কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সার্কিট ব্রেকার নিয়মানুসারে প্রবাসী শ্রমিকরা নিজেদের বাসস্থান ডর্মেই জীবন কাটাচ্ছে এখন।

এরমাঝে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোতে সমস্যায় পড়েছে । অনেকেই ক্যাশ টাকা আর ব্যাংকে বেতন পায়। কিন্তু বাইরে যাওয়ার অনুমতি না থাকায় কেউ ই পরিবারকে সময়মতো টাকা পাঠাতে পারছেন না। যার দরুণ দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

প্রবাসী শ্রমিকদের এই সমস্যা দূর করতে সিঙ্গাপুরের মিনিস্ট্রি অফ ম্যানপাওয়ার এবং মনেটরি অথোরিটি অফ সিঙ্গাপুর (MAS) অনুরোধ করে বাংলাদেশি উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠান মাইক্যাশকে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা অভিবাসীদের রেমিটেন্স সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মালয়েশিয়াতে কাজ করছিল মাইক্যাশ। 

মাইক্যাশ এর গ্রুপ সিইও সুমন মালয়েশিয়ায় একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সুপরিচিত এবং গত ৫ বছর ধরে মালয়েশিয়াতে ১ লাখ ৩০ হাজার এর বেশি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোতে সহযোগিতা করে আসছেন।

করোনা ভাইরাসের প্রেক্ষিতে মাইক্যাশ খুব অল্প সময়ের মাঝেই তার দুয়ার প্রসারিত করে সিঙ্গাপুরের প্রবাসীদের জন্য এবং মাইক্যাশ অ্যাপের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সার্ভিস চালু করে মনেটরি অথোরিটি অফ সিঙ্গাপুর ( MAS) এর সহযোগিতায়। 

মাইক্যাশ অ্যাপের সাহায্যে অনলাইনে যেকোনো সিঙ্গাপুর প্রবাসী মাত্র ১০ মিনিটে দেশে বিকাশ করতে পারছেন এখন এবং দেশের যেকোনো ব্যাংক একাউন্টে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন।

করোনা ভাইরাসের কারণে অভিবাসীদের ডর্মের বাইরে যাওয়ার অনুমতি না থাকায় সিঙ্গাপুরে মাইক্যাশের একটি দল গত ১লা জুন থেকে ডর্মে গিয়ে বুথের মাধ্যমে প্রবাসীদেরকে রেমিট্যান্স সেবা দিয়ে আসছে।

ইতোমধ্যে উডল্যান্ড, লিও, জুরং পাঞ্জারো  এবং মান্ডাই  ডর্মে বুথের মাধ্যমে রেমিট্যান্স সেবা পৌঁছে দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে তুয়াস এভিনিউ এবং কালাং এভিনিউত ডর্মে রেমিট্যান্স সেবা পৌছে দিতে যাচ্ছে।  আগামী দুই মাসের মধ্যে সিংগাপুরের বাংলাদেশি অধ্যুষিত সকল ডর্মে এই ধরনের বুথ সার্ভিসের মাধ্যমে রেমিট্যান্স সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য মিনিস্ট্রি অফ ম্যানপাওয়ারের সাথে কাজ করে যাচ্ছে মাইক্যাশ। 

সুমন জানান,  আমাদের স্বংকল্প হচ্ছে প্রবাসীদের বিপদের দিনে আমরা আমাদের সার্ভিস নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমরা আমাদের জায়গা থেকে তাদের সহযোগিতা চালিয়ে যাবো, এতে দেশে যেমন রেমিট্যান্সের প্রবাহ ঠিক থাকবে, তেমনি এই প্রবাসীদের পরিবারগুলোও দেশে অসহায়ত্ব থেকে রক্ষা পাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা