kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

বাতাস থেকে সুপেয় পানি বানাচ্ছেন ইসরায়েলি ধনকুবের!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ মে, ২০২০ ১৮:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাতাস থেকে সুপেয় পানি বানাচ্ছেন ইসরায়েলি ধনকুবের!

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার মানুষদের পানীয় জলের অভাব প্রকট। এবার সেই সঙ্কট সমাধানে এগিয়ে এসেছেন একজন ইসরায়েলি ধনকুবের। হামাস শাসিত গাজা উপত্যকায় তিনি এমন কিছু যন্ত্র স্থাপন করতে চান যেগুলো বাতাস থেকে আর্দ্রতা বের করে নিয়ে সেটাকে সুপেয় পানিতে রূপান্তরিত করবে।

মাইকেল মরিলাশভিলি নামের ওই ধনকুবের গাজায় এমন কয়েকশ জেনারেটর স্থাপন করতে চান যেগুলো বায়ুর আদ্রতা শুঁষে নিয়ে সুপেয় পানি উৎপাদন করে।

তার কম্পানি ওয়াটারজেন হামাস শাসিত অঞ্চলটিতে গত সপ্তাহে এমন একটি যন্ত্র পাঠিয়েছে। ইসরায়েলি-প্যালেস্টাইনের সহযোগিতার বিরল দৃষ্টান্ত এটা। এই যন্ত্রগুলো গাজা এলার মানুষের পানির কষ্ট দূর করবে।

২০০৭ সালে হামাস উপত্যকাটির দখল নেওয়া পর থেকে গাজায় পানীয় জলের ভয়াবহ সংকট চলছে। সে সময় থেকে জনাকীর্ণ ফিলিস্তিন এই অঞ্চলটির প্রায় ২০ লাখ মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টে আছে। এই অঞ্চলের মানুষের পানীয় জলের জন্য ইসরায়েল ও মিশরের ওপর নির্ভরশীল। তবে হামাস দখল নেওয়ার পরে অঞ্চলটির ওপর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। ফলে পানীয় জল সংগ্রহ করা তাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

উপত্যকাটি ১৩ বছর ধরে ইসরায়েলি অবরোধ এবং তিন বছর ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের স্বাক্ষী। দীর্ঘসময় ধরে চলা অবরোধের কারণে বিদ্যুতের অবকাঠামো ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানীয় জলের সংকটের এটাও একটা বড় কারণ।

গাজাবাসীকে মূলত বোতলজাত পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এই অঞ্চলের পানির ৯৭ শতাংশ পানের অযোগ্য।

মরিলাশভিলি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছিলেন যে, 'আমি গাজায় আরো ওয়াটারজেন জেনারেটর প্রেরণ করতে চাই। কারণ তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং তাদের পানীয় জলের কষ্ট দেখে আমরা অত্যন্ত মমত্ববোধ করি।' গাজা শহরের আল-রান্তিসি মেডিকেল সেন্টারের ছাদে তার প্রথম মেশিনটি বসানোর কয়েক দিন পরে তিনি কথা বলেছেন।

একটি ভেন্ডিং মেশিনের আকৃতির নীল রঙের এই জেনারেটর মোটামুটি একটি বড় হাসপাতাল বা এলাকার জন্য প্রয়োজনীয় পানি উৎপাদন করতে পারে। এটা কোন একটা ফাঁকা মাঠ বা ছাদে স্থাপন করলেই চলে। বাতাস থেকে আর্দ্রতা শুষে সুপেয় পানি উৎপাদন শুরু করে।

যন্ত্রটি অনেকটা ডিহমিডিফায়ারের মতো কাজ করে। এটি বাতাস থেকে আর্দ্রতা বের করে এবং এটিকে পানীয় জলে রূপান্তরিত করে। গাজা হাসপাতালে যে মেশিনটি বসানো হয়েছে সেটি মাঝারি আকারের মডেল এবং এটি প্রতিদিন প্রায় ৮০০ লিটার পানি উৎপাদন করতে পারে।

ওয়াটারজেন বলেছে যে, এর সবচেয়ে বড় মডেলের জেনারেটর কয়েক হাজার মানুষকে পরিষ্কার পানীয় জল সরবরাহ করতে পারে।

সূত্র- এলবিসি নিউজ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা