kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

করোনা : দ্রুততম সুপার কম্পিউটারে শনাক্ত এক উপকারী কেমিক্যাল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মার্চ, ২০২০ ১৬:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা : দ্রুততম সুপার কম্পিউটারে শনাক্ত এক উপকারী কেমিক্যাল

কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে মহাবিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় দুই লাখ ৪৭ হাজার মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজারের ও বেশি। আশ্চর্য ক্ষমতাধর এই ভাইরাসের হাত থেকে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায় সেটা নিয়ে চিন্তিত সবাই। এখনও আবিষ্কৃত হয়নি কোনো কার্যকরী ভ্যাকসিন বা টিকা। তবে আশার কথা হচ্ছে করোনার দ্রুত বিস্তার রোধ করতে সক্ষম এমন একটি কেমিক্যালের সন্ধান পেছেন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত গতির সুপার কম্পিউটার। এই কেমিক্যালের মাধ্যমে করোনার দ্রুত ছড়িয়ে পড়া থামানো যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

আইবিএম-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা 'এআই এর মস্তিষ্ক' সমৃদ্ধ সুপার কম্পিউটার 'সামিট' হাজার খানেক নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে হোস্ট কোষগুলিকে সংক্রামনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে এমন একটি যৌগ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে। এটি ভাইরাসটিকে কার্যকরভাবে আটকাতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

করোনাভাইরাসকে আটকানো যাবে এমন ৭৭টি যৌগ সনাক্ত করেছে সুপার কম্পিউটার সামিট। এটি করোনার সবচেয়ে কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরিতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষকরা তাদের গবেষণাগুলি কেমআরক্সিভ জার্নালে প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির (ওআরএনএল) তৈরি সুপার কম্পিউটারটির নাম 'সামিট'। বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য মার্কিন ডিপার্টমেন্ট আব এনার্জি ২০১৪ সালে এই 'সামিট' সুপার কম্পিউটার স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে এটা স্থাপন করা হয়। যেটা এখন করোনা রোধে কাজে লাগছে। এই সুপার কম্পিউটারের শক্তি ২০০ পেটাফ্লপ, এর মানে হচ্ছে এটি প্রতি সেকেন্ডে ২০০ কোয়াড্রিলিয়ন তথ্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। বর্তমানে প্রচলিত সবচেয়ে শক্তিশালী ল্যাপটপের চেয়েও এটা এক মিলিয়ন গুণ বেশি শক্তিশালী।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে এটি স্থাপন করা হয়েছে। সামিট সেলুলার সিস্টেম এমন সব নিদর্শনগুলি সনাক্ত করেছে যা আলঝাইমারের পূর্বে দেখা যায়, জিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে আফিম আসক্তির কারণগুলো সনাক্তেও এটি অবদান রাখে এবং জলবায়ুর বিশ্লেষণের মাধ্যমে চরম আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেয়।

'সামিট' কিভাবে করোনা বিরুদ্ধে কাজে লাগবে

এ বিষয়ে ৭৭টি যৌগ চিহ্নিত করেছে সুপার কম্পিউটার সামিট। কার্যকারিতার দিক থেকে ৭৭টি যৌগের একটি ক্রম তৈরি করে ফেলেছে এ সুপার কম্পিউটার। ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষকরা এই তথ্য দিয়েছেন।

গবেষকরা বলেছেন, ভাইরাস কোষগুলোকে আক্রমণ করে তাদের স্পাইক দিয়ে। এটি একটি জিন গঠিত বস্তু। একে স্পাইক প্রোটিনও বলে। সামিটের কাজ ছিল, এমন একটি রাসায়নিক যৌগ খুঁজে বের করা যেটি এই স্পাইকের সঙ্গে জড়িয়ে যাবে এবং কোষে ভাইরাসের বিস্তার আটকে দেবে। সুপার কম্পিউটার ৮ হাজারের বেশি যৌগের সিম্যুলেশন করেছে এই কাজ করতে গিয়ে। তার মধ্যে ৭৭টি যৌগকে বেছে নিয়েছে সামিট।

সেই গবেষণাগারের পরিচালক জেরেমি স্মিথ বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের চিকিৎসা পেয়ে গেছি, এমন কিন্তু নয়। তবে এই ৭৭টি যৌগ কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজে লাগবে বলে আশা করছি আমরা। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাস বিস্তার রোধ করতেও এই তথ্য কার্যকর হবে।’ প্রসঙ্গত, সামিট সুপার কম্পিউটারটি ২০১৪ সালে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়েছিল। জটিল সমস্যার সমাধান খুঁজতে এই সুপার কম্পিউটারের সিম্যুলেশন ক্ষমতা কাজে লাগানো হয়।

ভাইরাস সংক্রমণে হোস্ট সেলের জেনেটিক পদার্থকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। সামিটের কাজ হল ড্রাগের এমন যৌগগুলির সন্ধান করা যা সেই কোষের সাথে আবদ্ধ হতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে ভাইরাসটির বিস্তার বন্ধ করে দিতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা