kalerkantho

নিখোঁজ কিশোরীকে পরিবারের সঙ্গে মেলাল গুগল ম্যাপ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ১০:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিখোঁজ কিশোরীকে পরিবারের সঙ্গে মেলাল গুগল ম্যাপ

নিজের পরিচয়, বাড়ির ঠিকানা কোনও কিছুই বলতে পারছিল না ১২ বছরের মেয়েটি। বার বার জিজ্ঞাসা করা হলে শুধু দুটো শব্দই বল‌ছিল, ‘খুরজা’ ও ‘জিতন’। এই দুটি শব্দে ভর করেই অনুসন্ধানের কাজ শুরু করে দিল্লি পুলিশ। অবশেষে গুগল ম্যাপের সাহায্যে খুরজা গ্রামের খোঁজ পেয়ে তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।   

জানা গেছে, চার মাস আগে চিকিৎসা করাতে এসে দিল্লিতে হারিয়ে যায় মানসিক ভারসাম্যহীন এই মেয়েটি। এরপর হোলির দিন রাতে দিল্লির কীর্তিনগর থেকে রিকশায় ওঠেছিল কিশোরীটি। কোথায় যাবে ঠিক মতো বলতে না পারায় চালক তাকে সোজা পুলিশের কাছে নিয়ে যান। ঠিকানা-পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে সে পুলিশকে জানায়, তার গ্রামের নাম খুরজা, বাবার নাম জিতন। আরও জানায়, পিন্টু নামে তার এক চাচার সঙ্গে ট্রেনে করে দিল্লিতে এসেছিল সে। ট্রেনের ওয়াশ রুমে তার পোশাক খুলে নেয় পিন্টু। তার পর তাকে ফেলে রেখে চলে যায়। অনুসন্ধান চালানোর জন্য এই তথ্যটুকুই ছিল দিল্লি পুলিশের কাছে।

এরপরে পুলিশ প্রথমে আশপাশের এলাকায় খুরজা গ্রামের খোঁজ করে। কিন্তু ওই নামে কোনও গ্রাম দিল্লিতে নেই বলে জানতে পারে তারা। খুরজার কাছাকাছি নাম হওয়ায় খাজুরি খাস ও খুরেজি এলাকাতেও খোঁজ চালায় পুলিশ। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি। তার পরে উত্তরপ্রদেশে খুরজা গ্রামের খোঁজ পায় পুলিশ। মেয়েটিকে সেখানেও নিয়েও যায় উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লি পুলিশের একটি দল। কিন্তু ওই গ্রামে জিতন বলে কেউ থাকে না বলে জানিয়ে দেন গ্রামবাসীরা। শুধু তাই নয়, মেয়েটিকেও কোনও দিন ওই গ্রামে দেখেননি তাঁরা-এমনটাও জানিয়ে দেন গ্রামবাসীরা। ফলে আরও সমস্যায় পড়েন তদন্তকারীরা। কিন্তু হাল ছাড়েননি। মেয়েটির কাছে ফের তার গ্রাম এবং আশপাশের কোনও একটা এলাকার নাম জানতে চান তদন্তকারীরা। তখন সে পুলিশকে জানায়, সোনবারসায় তার মামা বাড়ি। সাকাপার নামে একটি গ্রামও আছে পাশে। এর পরই পুলিশ সোনবারসার অবস্থান জানতে গুগল ম্যাপের সাহায্য নেয়। ম্যাপ থেকে পুলিশ জানতে পারে সোনবারসা ও সাকাপার এই দুটি গ্রামই উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগর জেলায়। সেখানে গিয়ে খুরজা গ্রামেরও খোঁজ পান তদন্তকারীরা। তার পরই কিশোরীটির পরিবারের খোঁজ পেয়ে গত শুক্রবার  তাকে তাদের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।

মেয়েটি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরও তার বাবা জিতন কেন পুলিশকে জানাননি সে বিষয়েই জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের এক পুলিশ কর্মকর্তা।
সূত্র : আনন্দবাজার 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা