kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

লঞ্চের খোঁজ মিলবে যে ফেসবুক পেইজে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ জুন, ২০১৯ ১১:৪৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লঞ্চের খোঁজ মিলবে যে ফেসবুক পেইজে

কোন লঞ্চের কী সেবা, অবস্থান, কখন কোন অভিমুখে ছেড়ে যাবে—এ রকম নানা বিষয়ে নিয়মিত আপডেট দেয় ‘লঞ্চ স্পটারস বাংলাদেশ’। বিস্তারিত আতিফ আতাউরের কাছে

আলিম শিকদার ও ফাইজুল হক দুই বন্ধু। বাড়ি ভোলা। ছোটবেলা থেকেই তাঁদের লঞ্চের সঙ্গে পরিচয়। নতুন কোনো লঞ্চ আসার খবর শুনলেই স্কুল ফাঁকি দিয়ে নদীর পারে চলে যেতেন! চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত দেখতেন লঞ্চের চলে যাওয়া। উচ্চ শব্দে ভেঁপু বাজিয়ে নদীতে ভেসে যাচ্ছে লঞ্চ—দৃশ্যটা খুবই ভালো লাগত তাঁদের। এভাবেই লঞ্চের প্রতি ভালো লাগা গড়ে ওঠে দুজনের। সময় পেলেই ছুটে যেতেন লঞ্চ ভ্রমণে। ২০১৪ সালে ‘প্লেন স্পটারস বাংলাদেশ’ নামের একটি ফেইসবুক পেইজ চোখে পড়ে তাঁদের। বিমানের সুন্দর সুন্দর ছবি প্রকাশ করা হয় পেইজটিতে। দুই বন্ধু মিলে সে বছরই শুরু করেন ‘লঞ্চ স্পটারস বাংলাদেশ’ (https://www.facebook.com/launchspottersbd/) নামের এই ফেইসবুক পেইজ।

কেন পেইজটি শুরু করলেন জানতে চাইলে আলিম বলেন, ‘শখের বশে শুরু করেছিলাম। লঞ্চের সুন্দর সুন্দর ছবি প্রকাশ করতাম। সেটাই যে এতগুলো মানুষের ভালো লাগার সঙ্গে মিলে যাবে ভাবিনি। পরে অনেক লঞ্চ মালিক, চালক, সহকারী থেকে শুরু করে লঞ্চঘাটের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। এখন লঞ্চসংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য কেউ আমাদের কাছে জানতে চাইলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমরা জানিয়ে দিতে পারি।’

পেইজটির সাফল্য নিয়ে শুরুতে বেশ চিন্তায় ছিলেন আলিম ও ফাইজুল। মনে করেছিলেন লঞ্চভক্ত বোধ হয় তাঁরা দুজনই! কিন্তু শুরুর পর এমন অনেক ভক্তের দেখা পেয়েছেন, যাঁরা সপ্তাহে এক দিন লঞ্চ দেখার জন্যই সদরঘাট গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন! পেইজটিতে পরে যোগ হন আকাশ, সাকিব, মনিসহ আরো কয়েকজন লঞ্চভক্ত। বিভিন্ন ডকে গিয়ে লঞ্চবিষয়ক নতুন নতুন তথ্য ও ছবি দিতে শুরু করেন পেইজে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পেইজটির ভক্ত সংখ্যা। এখন পেইজটির সদস্য সংখ্যা প্রায় অর্ধ লাখের কাছাকাছি।

ফাইজুল পড়াশোনা করতে এখন যুক্তরাষ্ট্রে, আলিমও চাকরি আর ব্যবসার কারণে খুব বেশি একটা সময় দিতে পারেন না। তবে সেই অভাব পূরণ করছেন আরেক অ্যাডমিন মাহমুদুল হাসান সাকিব। লঞ্চ ফটোগ্রাফি করতে খুব ভালোবাসেন। নিজের সেই ছবি লঞ্চ ভক্তদের দেখাতেই পেইজটিতে যুক্ত হন তিনি। পেইজটির কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঝড়ের পূর্বাভাস, কোনো লঞ্চের যাত্রা বাতিল, নতুন কোন লঞ্চ কী সেবা নিয়ে আসছে—এ রকম নানা খবর পেইজটিতে প্রকাশ করা হয়। এতে খুব সহজেই খবরগুলো প্রায় ৫০ হাজার লঞ্চভক্তের কাছে চলে যায়।’

ঈদ উপলক্ষে লঞ্চযাত্রার পরিমাণ অন্য সময়ের চেয়ে বেশ বৃদ্ধি পায়। এ সময় রাতের বেলা মালবাহী জাহাজগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষ লেগে দুর্ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে লঞ্চ মালিকরাই এখন দ্বারস্থ হন তাঁদের। আলিম বলেন, ‘এখন বেশির ভাগ লঞ্চ মালিকই বয়সে তরুণ। তাঁরা অনেকেই নিয়মিত ফেইসবুক ব্যবহার করেন। আমাদের গ্রুপে এক তরুণী একটি লঞ্চের লাইটিং নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেটা দেখে পরদিনই সেই লঞ্চ মালিক লাইট মেরামত করেন।’

এই পেইজটির ১০ জন অ্যাডমিন আছেন, তাঁরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন আপডেট দিয়ে থাকেন। তাঁদের একেকজনের বাড়ি মাদারীপুর, ভোলা, চাঁদপুর, পিরোজপুরে। এ জন্য বিভিন্ন এলাকার তথ্য পেতেও সুবিধা হয়। পেইজটি নিয়ে আরো বহুদূর যাওয়ার স্বপ্ন তাঁদের। সাকিব বলেন, ‘লঞ্চ সম্পর্কিত বেশ কিছু পেইজই আছে। তাঁদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত পাল্লা দিয়ে মানুষকে তথ্য সেবা দিতে চাই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিভিন্ন লঞ্চঘাটের সমস্যা, কুলিদের নিয়ে অভিযোগ, লঞ্চের গতি প্রতিযোগিতা, লঞ্চচালকদের প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা