kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে চীনের পাশে রাশিয়া

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ জুন, ২০১৯ ১৮:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে চীনের পাশে রাশিয়া

স্মার্টফোন কম্পানি হুয়াওয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতির কঠোর সমালোচনা করে চীনের পাশে দাঁড়ালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, এ ধরণের কর্মকাণ্ড কেবল বাণিজ্য যুদ্ধই নয়, বিশ্বকে সত্যিকারের যুদ্ধের দিকেও ঠেলে দিতে পারে।

শুক্রবার সেইন্ট পিটার্সবুর্গ ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তার এ বক্তব্যকে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ‘চমৎকার সম্পর্কের’ নজির হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

কয়েকদিন আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন মস্কো ও বেইজিংয়ের এখনকার সম্পর্ককে ইতিহাসের যে কোনো সময়ের মধ্যে ‘সবচেয়ে ভালো’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

সেইন্ট পিটার্সবুর্গ ইকোনমিক ফোরামে রুশ প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘লাগামহীন অহমিকার’ অভিযোগ তোলেন।

পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপে রাশিয়ার কোম্পানির গ্যাস সরবরাহ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতারও সমালোচনা করেন তিনি।

‘যে রাষ্ট্রগুলো এতদির মুক্ত বাজার অর্থনীতি প্রসারে কাজ করে এসেছিল তারাই এখন বাণিজ্যযুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে। অ-বাজারি পদ্ধতিতে তারা এখন প্রতিদ্বন্দ্বিদের সরিয়ে দেয়ার কৌশল নিয়েছে।’

‘হুয়াওয়ের উদাহরণটাই দেখুন। তারা কেবল প্রতিষ্ঠানটিকে সংকুচিত করারই চেষ্টা চালাচ্ছে না, চেষ্টা করছে একে বিশ্ববাজার থেকে হটিয়ে দিতে। কিছু কিছু অঙ্গনে এরই মধ্যে একে ডিজিটাল যুগের প্রথম প্রযুক্তি যুদ্ধ হিসেবেও ডাকা শুরু হয়েছে,’ বলেছেন পুতিন।

পুতিন এ ধরনের ‘আগ্রসী আচরণের’ ফলাফল নিয়েও সতর্ক করেছেন।

‘এটা অনিঃশেষ সংঘাত ও বাণিজ্য যুদ্ধের পথ। সম্ভবত এটি কেবল বাণিজ্য যুদ্ধেই থেমে থাকবে না। সত্যি করে বললে, এই পথ নিয়মনীতি বহির্ভূত এমন একটি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে যেখানে সবাই সবার বিরুদ্ধে লড়বে,’ শঙ্কা রুশ প্রেসিডেন্টের।

পুতিনের ভাষ্যে কড়া ভাব থাকলেও একই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্টের সুর ছিল তুলনামূলক নরম।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যবিরোধ শিগগিরই কেটে যাবে বলেও আশাবাদ শুনিয়েছেন তিনি।

‘আমরা (বিবাদে) আগ্রহী নই, আমাদের মার্কিন অংশীদাররাও সম্ভবত আগ্রহী নন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমার বন্ধু, এবং তিনিও যে এরকমটা চান না সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত,’ দোভাষীর মাধ্যমে শি এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের দরকষাকষিতে হুয়াওয়ে কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

হুয়াওয়ের প্রযুক্তিকে চীন বিশ্বজুড়ে নজরদারি চালানোর কাজে ব্যবহার করতে পারে এমন উদ্বেগ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে চীনা এ টেলিকম জায়ান্টকে বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে।

হুয়াওয়ে শুরু থেকেই চীনা সরকারের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের সরঞ্জামে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে দাবি করে আসছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা