kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

রেলভক্তদের পেইজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ মে, ২০১৯ ১০:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেলভক্তদের পেইজ

হাতে গোনা কয়েকজন গ্রুপ মেম্বার নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে গ্রুপের যাত্রা শুরু। ১০ বছরে সেই সংখ্যা এখন এক লাখ ৩১ হাজার। নানা সমস্যার সমাধান, পরামর্শ, ট্রেনের অবস্থান, তথ্য, ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায় গ্রুপটির ফেইসবুক পেইজে। জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পারে যানজটে এক ঘণ্টার বেশি আটকে আছেন পাবনার আশিকুর রহমান। ফেইসবুক পেইজ ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে’-তে দেখলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পারে দাঁড়িয়ে আছে রংপুর এক্সপ্রেস। স্টেশনটিতে ট্রেনটি ১০ মিনিট যাত্রাবিরতি করবে। কালক্ষেপণ না করে বাস থেকে নেমে দ্রুত হেঁটে রেলস্টেশনে পৌঁছেন আশিকুর। টিকিট কেটে চেপে বসেন। একটু পরই চলতে শুরু করে ট্রেন। সেতু পার হওয়ার সময় দেখলেন, দুর্ঘটনার কারণে পুরো সেতুর ওপর যানজট। গ্রুপটির প্রতি কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে তাঁর মন। ট্রেনের এমন তাত্ক্ষণিক অবস্থান, তথ্য, ছবি ও ভিডিও শুধু নয়; রেলবিষয়ক আরো অনেক কিছুর অন্যতম এক তথ্যভাণ্ডার বাংলাদেশ রেলওয়ে গ্রুপের ফেইসবুক ফেইস ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে’।

২০১০ সালে মাত্র ১৫৩ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে গ্রুপটি। বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান ফেইসবুকে গ্রুপটি চালু করেন। ২০১১ সালে গ্রুপটিতে অ্যাডমিন হিসেবে যুক্ত হন শোভন হোসেন। আস্তে আস্তে ট্রেনের বিভিন্ন তথ্য, সেবা, সমস্যা ও তার সমাধান তুলে ধরতে শুরু করেন গ্রুপে। একই বছর  গ্রুপটির দায়িত্ব অ্যাডমিনদের কাছে ন্যস্ত করেন রোকনুজ্জামান। গ্রুপটিকে সেবামূলক করার প্রচেষ্টা নিয়ে এগোতে গিয়ে একটু বিপাকেও পড়েন তাঁরা। সদস্যরা রেলের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় ও সমস্যার সমাধান চেয়ে গ্রুপে পোস্ট করেন। কিন্তু সেসবের বেশির ভাগই অ্যাডমিনদের অজানা। একদিন দেখলেন, রেলওয়ের তেজগাঁও স্টেশনের একজন কর্মী গ্রুপে ট্রেনবিষয়ক জিজ্ঞাসার জবাব দিয়েছেন। এরপর রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো শুরু করেন অ্যাডমিনরা। এখন রেলের অনেকেই যুক্ত হয়েছেন তাঁদের এই প্রচেষ্টার সঙ্গে।

শোভন বলেন, ‘ট্রেনের যাত্রাবিলম্ব একটি নিয়মিত ঘটনা। মানুষ স্টেশনমুখী হতে দ্বিধায় ভুগত। আগে ট্রেন ট্র্যাক করে জানার উপায়ও ছিল না। বিভিন্নভাবে ট্রেনের অবস্থান জেনে প্রতিমুহূর্তে ট্রেনগুলোর আপডেট দেওয়ার চেষ্টা করতাম। এতে মানুষ উপকৃত হতো। ট্রেনে কোথাও যাওয়ার আগে তারা গ্রুপে ঢু মারত। প্রয়োজন হলে গ্রুপে আমাদের কাছে জিজ্ঞেস করত। এ কারণেই এত দ্রুত গ্রুপটি সফলতা পেয়েছে।’

এখন গ্রুপটির এতটাই বিস্তৃতি যে, যে কেউ কোনো ট্রেনের অবস্থান জানতে চাইলে মুহূর্তেই সেটা বলে দিতে পারেন অ্যাডমিনরা। এ কাজে তাঁদের সহায়তা করেন কন্ট্রোলরুম কর্মী, লোকো মাস্টার, স্টেশন মাস্টার থেকে শুরু করে স্থানীয় স্টেশনগুলোর কাছাকাছি থাকা গ্রুপ মেম্বাররা। তাঁরা প্রায় প্রতিটি ট্রেনেরই তাত্ক্ষণিক তথ্য, ছবি, ভিডিও গ্রুপটিতে প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের সব রকম খবরাখবরও নিয়মিত সদস্যদের কাছে তুলে ধরে।

২০১৯ সালে এসে সারা দেশের সব জায়গার মানুষই যুক্ত হয়েছেন গ্রুপটির সঙ্গে—জানালেন আরেক অ্যাডমিন মাহমুদুল হাসান সোয়েব।

গ্রুপটির বদৌলতে নানা তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি সমস্যার সমাধানও মিলছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে রেললাইন মেরামত ও ধূমকেতু ট্রেনে টিকিটের অনিয়ম গ্রুপে তুলে ধরা হয়। চোখে পড়ে রেলের কর্তাদের। অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থাও নিয়েছেন তাঁরা। শুধু তা-ই নয়, সাবেক রেলসচিব ফিরোজ সালাহউদ্দিন গ্রুপটির কার্যক্রম জেনে রেল ভবনে অনুষ্ঠিত মাসিক শুদ্ধাচার ও অংশীজনসভায় ডাকেন অ্যাডমিনদের, মতামত নেন। এই-ই প্রথম সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো ফেইসবুক গ্রুপ সদস্যদের অংশগ্রহণ বলে জানালেন অ্যাডমিন আশরাফ রুমেল। বৈঠকে তাঁদের দেওয়া নানা পরামর্শমতো বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে রেল। সুবর্ণ ও সোনার বাংলা ট্রেনের শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বদলে দেওয়া হয়েছে তাঁদের দাবি মেনে। নতুন আনা ট্রেনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করেছে। তার পর থেকে নিয়মিতই এই সভায় অংশ নিচ্ছেন গ্রুপটির সদস্যরা।

১৮ এপ্রিল রেলমন্ত্রীদের সঙ্গে এক সভায় অংশ নিয়েছিলেন গ্রুপটির সদস্যরা।

ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ, ঢিল ছোড়া বন্ধসহ নানা প্রচার-প্রচারণাও চালান তাঁরা। আগে আখাউড়া থেকে কসবা পর্যন্ত ট্রেনে প্রচার চালিয়েছেন। ঈদের পর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন গ্রুপটির সদস্যরা। গ্রুপটির অ্যাডমিন থেকে শুরু করে সদস্যরা এসব করেন বিনা মূল্যে, নিজেদের কাজের ফাঁকে।

পেজটির লিংক https://www.facebook.com/groups/b.railway/?ref=nf_target&fref=nf

মন্তব্য