kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

সস্তা ফোন টেকনো, ইনফিনিক্স ও আইটেল মালিকের দামি পরিকল্পনা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ এপ্রিল, ২০১৯ ১২:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সস্তা ফোন টেকনো, ইনফিনিক্স ও আইটেল মালিকের দামি পরিকল্পনা

চীনের স্থানীয় স্মার্টফোন নির্মাতাদের বাজারটি বিশাল। তাদের শীর্ষস্থানীয়রা অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছে। এর মধ্যে শেনঝেনের স্বল্পপরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান গোটা বিশ্বের লাখ লাখ মোবাইল ব্যবহারকারীর পকেটে পৌঁছতে চাইছে। মাত্র ১০ ডলার থেকে শুরু হওয়া মোবাইল দিয়েই তারা ভিন্ন কিছু ঘটিয়ে দিতে চায়। 

ট্রান্সিওন হোল্ডিংস সস্তা দামের স্মার্টফোন এবং ফিচার ফোন নিয়ে সামনে এগোবে। এসব ফোনে প্রযুক্তিগত সুবিধা কম থাকবে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রতিষ্ঠানটি এই নয়া পরিকল্পনা নিয়ে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাবে। এ কৌশল প্রয়োগ করে তারা ইতোমধ্যে আফ্রিকার বৃহত্তম মোবাইল ফোন সরবরাহকারী হয়ে ওঠেছে। 

আইএইচএস মার্কিট এর জ্যেষ্ঠ শিল্প বিশ্লেষক জাকের লি বলেন, ট্রান্সিওন যে ধরনের বাজার বিস্তৃতির দিকে যাচ্ছে, তার বেশিরভাগ ভোক্তাই দামের বিষয়ে স্পর্শকাতর। কাজেই প্রতিষ্ঠানের এই নতুন বিজনেস মডেল সহসা বদলে যাবে না। 

প্রতিষ্ঠানটি "দেশের বাইরের ক্রমবর্ধমান বাজারে উচ্চমানের মোবাইল সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিশেষ করে 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে"। বেল্ট অ্যান্ড রোড মূলত প্রেসিডেন্ট জি শিংপিনের মস্তিষ্কপ্রসূত উদ্যোগ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্যে চীন আরো ৬৫টি দেশকে একজোট করেছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মোট জিডিপি বিশ্বের মোট জিডিপর ৩০ শতাংশের বেশি এবং এদের জনসংখ্যা বিশ্বের ৬২ শতাংশ। 

ট্রান্সিওন নিজেদের 'চাইনিজ প্রতিষ্ঠান বিদেশ যাচ্ছে' ধারণার ওপর ভিত্তি করে নিজেদের ব্যবসা প্রসারিত করবে। বিশেষ করে চীনের সাথে আফ্রিকার সুসম্পর্কের জেরে তারা নিজেদের কর্মপন্থ নির্ধারণ করেছে। 

লি বলেন, ইতোমধ্যে আফ্রিকায় বেশ কয়েক বছর ধরে ট্রান্সিওন তাদের শেকড় গেড়েছে। 

২০০৬ সালে ট্রান্সিওন প্রতিষ্ঠা করেন জর্জ ঝু ঝাওজিয়াং। আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো ডুয়াল সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি মড্যুল (সিআইএম) মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারী হিসেবে সুপরিচিত ট্রান্সিওন। এমনিতেই সেখানে ক্রেতারা বিভিন্ন অপারেটরের সিমে কলকে সাশ্রয়ী করতে ফোনের সিম বার বার বদলাতেন। এ প্রতিষ্ঠান এমনও ফোন বানিয়েছে যা একবার চার্জ দিলেও প্রায় এক মাস পর্যন্ত মোবাইল সচল থাকে। কাজেই আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব ফোনের কদর অনেক বেড়ে যায়। 

ট্রান্সিওন প্রাথমিকভাবে টেকনো টেলিকম হিসেবে হং কংয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতো। আফ্রিকায় এরাই প্রথম মোবাইল প্রস্তুতকারী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। তাদের কারখানা ছিল ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায়। এর কার্যকলাপ শুরু হয় ২০১১ সালে। চীন, ভারত এবং বাংলাদেশেও তাদের কারখানা আছে। বিশ্বজুড়ে এ প্রতিষ্ঠানে ১৪ হাজার কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। ২০১৮ সালে বিশ্বে তাদের স্মার্টফোনের বিপণন ৪.১ শতাংশ কমে এসেছে। তবে ২০১৫ সাল থেকে আফ্রিকায় প্রতিবছর তাদের বাজার বেড়ে চলেছে। এসব তথ্য দেয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি। তাদের সবচেয়ে বড় বাজার রয়েছে নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মিশরে। আফ্রিকায় তাদের বাজার ২.৩ শতাংশ বেড়ে শিপমেন্ট পৌঁছেছে ৮৮.২ মিলিয়ন ইউনিটে।   

ট্রান্সিওনের ব্র্যান্ড টেকনো, ইনফিনিক্স এবং আইটেল সম্মিলিতভাবে আফ্রিকার গত বছর ফিচার ফোনের  ৫৮.৭ শতাংশ বাজার দখল করেছিল। গত বছর আফ্রিকায় স্মার্টফোনের বাজারের ৩৪.৩ শতাংশ ট্রান্সিওনের দখলে ছিল। তার পরে ২২.৬ শতাংশ ছিল স্যামসাংয়ের এবং ৯.৯ শতাংশ হুয়াউইয়ের দখলে। 

আইডিসি'র হিসেবে, গত বছর ট্রান্সিওন তার ৭০টি দেশের বিপণন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১২৪ মিলিয়ন মোবাইল বিক্রি করে।  

এ প্রতিষ্ঠানের দাম নির্ধারণ সফলতার অন্যতম কৌশল। এদের টেকনো, ইনফিনিক্স এবং আইটেল ব্র্যান্ডের ফিচার ফোনগুলোর গড় দাম ১০ ডলার। আর এদের স্মার্টফোনের গড় দাম ৬৮ ডলার। কম মূল্যের ফোন নির্মাণের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতি যেমন সচল রয়েছে, তেমনই ট্রান্সিওন তাদের গবেষণা, উন্নয়ন ও ডিজাইন খাতকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সব কর্মযজ্ঞ নিয়ে তারা চীনের হুয়াউই, অপ্পো, ভিভো এবং শাওমি কর্পোরেশনের মতো বিশাল স্মার্টফোন নির্মাতাদের সমান্তরালের চলছে। 

ট্রান্সিওন জানায়, তাদের বাজার মূলত দরিদ্র অর্থনীতির দেশ ও জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে। অনেক সময়ই এসব দেশের অস্থির ভূরাজনৈতিক অবস্থা বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করে। তবে সবমিলিয়ে ট্রান্সিওন নতুন নতুন পণ্য আনয়ন এবং ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মোবাইল পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে খুব ভালো করে যাচ্ছে বলেই মনে করেন আইএইচএস মার্কিটের বিশেষজ্ঞ লি। 
সূত্র: এসসিএমপি 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা