kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

অস্ট্রেলিয়ার নতুন আইন

জেল-জরিমানার শিকার হতে পারে ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৪:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জেল-জরিমানার শিকার হতে পারে ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম

সোশ্যাল মিডিয়ায় হিংসাত্মক ভিডিও ও ছবি প্রকাশ ঠেকাতে 'বিশ্বের প্রথম' যে আইন করা হয়েছে তার আওতায় জেল হতে পারে ফেসবুক, ইউটিউব এবং ফোরচ্যান এর কর্মকর্তাদের। নিউ জিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার সংসদে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার আইনটি পাস করা হয়েছে। এ আইনে সোশ্যাল সাইট থেকে 'জঘন্য হিংসাত্মক বিষয়বস্তু' সরাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নির্বাহীদের ব্যাংক অংকের জরিমানা গোনাসহ জেলও হতে পারে। 

আইনটি একদিক থেকে অনন্য। যারা এ ধরনের ভিডিও বা ছবি আপলোড করছে তাদের নয়, বরং যেসব সোশ্যাল নেটওয়ার্কে তোলা হচ্ছে তার কর্ণধার এবং ইন্টারনেট প্রোভাইডারদের ওপর আইন প্রয়োগ করা হবে।  

এ আইনে বলা হয়েছে, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট প্রোভাইডার এবং 'কনটেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার'দের এসব হিংসাত্মক বিষয়বস্তু সরানোর কাজটি নিশ্চিত করতে হবে। সেইসঙ্গে এর অস্তিত্ব সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশকে 'যথাসময়ে' অবহিত করতে হবে। 'জঘন্য হিংসাত্মক বিষয়বস্তু' বলতে নির্যাতন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, খুন, ধর্ষণ এবং অপহরনের মতো ঘটনার ফুটেজ বা অডিওকে বোঝানো হয়েছে। 

শাস্তি হিসেবে দোষীদের প্রত্যেকের ৩ বছর পর্যন্ত জেল এবং প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভারের ১০ শতাংম জরিমানা গুনতে হবে। 

এ ধরনের ভিডিও বা অডিও ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়া রোধে এ আইন তৈরি করেছে অস্ট্রেলিয়া। ঠিক যেমনটা ঘটেছিল নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ হামলার সময়। ওই ঘটনায় খুনী ফেসবুকে ১৭ মিনিট লাইভ-স্ট্রিমিং করেছে যা কিনা সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলোতে লাখ লাখ বার শেয়ার হয়েছে। এ ঘটনা প্রমাণ করেছে যে সংশ্লিষ্ট ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ ঠেকাতে সোশ্যাল সাইটগুলো ব্যর্থ। 

এ আইনকে 'অনেকটা পৃথিবীর প্রথম' হিসেবে উল্লেখ করেছে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান পর্টার। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনা অস্ট্রেলিয়ানরা অসংখ্যবার দেখেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব বিষয় প্রকাশ পায় তার দায়-দায়িত্ব কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। 

তিনি ফোরচ্যান, ফেসবুক এবং ইউটিউবের কথা তুলে ধরে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা এ আইনে শাস্তি পেতে পারেন। যদি আপনি হোস্টিং সার্ভিস ফোরচ্যানের কথাই ধরেন, এ প্রতিষ্ঠানটি একজন ব্যক্তি পরিচালনা করেন। সম্মান প্রদর্শনপূর্বক দোষী হিসেবে ফেসবুক এবং ইউটিউবের মতো বড় প্লাটফর্মের সেই ব্যক্তিকেও নির্দেশ করা হচ্ছে, যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েও এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ বন্ধ করতে পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছেন।  

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার এই আইনকে মেনে নিতে নারাজ ফেসবুক, গুগল এবং টুইটারের মতো প্রতিষ্ঠান। এক বিবৃতিতে ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপ ইনক. (এর মধ্যে এই তিনটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রয়েছে আমাজন এবং ভেরিজন মিডিয়া) জানায়, কেউ-ই তার ওয়েবসাইটে এ ধরনের বিষয় দেখতে চায় না। ডিজি সদস্যরা যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে নিতে কাজ করে যান। কিন্তু যেখানে প্রতি সেকেন্ডে প্রচুর ঘটনা আপলোড হয়, সেখানে এগুলো পুরোপুরি বন্ধ করা জটিল বিষয়। তবে সমাধান পেতে প্রযুক্তি ও আইন বিশেষজ্ঞ, মিডিয়া এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন আছে। 
সূত্র: সি নেট 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা