kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

প্রযুক্তি ব্যবহারে নারীদের সফলতা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ১৫:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রযুক্তি ব্যবহারে নারীদের সফলতা

সমূহ সম্ভাবনার দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এখন প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের পণ্য বিশ্ববাজারে স্থান করে নিচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে, বাড়ছে স্থানীয় বাজারের সক্ষমতা এবং কর্মপরিধি।

মাছ, পাট ও ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানি করা হয় বিদেশে। এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্প ও কুটির শিল্প রপ্তানিতেও প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। এতসব সফলতার পেছনের মূল কারিগর এ দেশের নারীরা। নানা প্রতিবন্ধকতার ভেতরে সংসারের কাজ সামলে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দেশ পরিচালনার মতো গুরুদায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। 
তেমনই একজন পরিশ্রমী নারী যশোরের সালমা বেগম। পারিবারিকভাবে স্বচ্ছলতা এনেছেন ফ্রি-ল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জানতে পারেন ফ্রি-ল্যান্সিং করে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থ-উপার্জন সম্পর্কে। গ্রাফিকস ডিজাইনে ট্রেনিং করে খুলে ফেললেন ওডেস্কে অ্যাকাউন্ট। শুরুতে কাজ কম পেলেও, নিজ দক্ষতা ও কর্মগুণে আজ প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজ ভিত্তি। 
ফ্রিল্যান্সিংয়ের আরো বেশকিছু সুবিধা রয়েছে। পারিবারিক ব্যস্ততা সমন্বয়ের পর গৎবাঁধা পার্ট-টাইম চাকরি করা অনেকের জন্য চ্যালেঞ্জিং বিশেষ করে নারীদের জন্য। ফ্রি-ল্যান্সিংয়ে নিজের সময়, সুযোগ, সুবিধামতো কাজ করতে পারছেন নারীরা। 

দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্বল্পমূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে বিশেষ বিভিন্ন দেশে ঘরে বসেই কাজের সুযোগ পাচ্ছেন নারীরা। প্রসারিত হচ্ছে কর্মক্ষেত্র। বাড়ছে নারীদের অংশগ্রহণ। এ খাতে সুযোগ ও পরিসর বড় হওয়ায়, রয়েছে কাজ করার অপার সম্ভাবনাও। সালমার কাজের অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর পরিচিত অনেক নারীই ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করছেন। কাজ শিখে প্রোগ্রামিং, কনটেন্ট রাইটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং করে খুঁজে পেয়েছেন অর্থ উপার্জনের পথ।

সফল উদ্যোক্তা নারায়ণগঞ্জের নীলা। চাকরি ছেড়ে করছেন জামদানি শাড়ির ব্যবসা। তার সঙ্গে কাজ করেছেন আরও অনেকজন নারী। দেশের বাজারে চাহিদা মিটিয়ে এ শাড়ি রপ্তানি হচ্ছে পাশ্ববর্তী কয়েকটি দেশে। আগে পাইকারী বাজারে শাড়ি বিক্রিতে ঝামেলা হলেও এখন ঘরে বসেই ইন্টারনেট ও সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই দেশে-বিদেশের ক্রেতাদের কাছে নিজের কারখানায় তৈরি শাড়ির সে¤পল দেখাতে পারছেন এবং সেখান থেকে অর্ডার নিয়ে ঘরে বসেই অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। 

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এমন আরো অনেক নারী উদ্যেক্তাদের সফলতার গল্প আর তাদের কাজ দেখার সুযোগ থাকবে বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯-এর উইমেন জোনে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অবদান রেখে চলা নারীদের অর্জনকে সম্মান জানাচ্ছে বেসিস সফটএক্সপো। সফটএক্সপোত উইমেন জোনে উঠে আসবে তাদের সাফল্যগাঁথা। 

বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯-এ প্রথমবারের মতো ৬টি নারীদের দ্বারা পরিচালিত তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সেবা ও পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, বেসিস সফটএক্সপোতে উইমেন জোনের অংশিজন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার এবং কমনওয়েলথের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত শি-ট্রেডস প্রকল্প আরো ৮টি নারীদের দ্বারা পরিচালিত তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে সেবা ও পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ করে দিচ্ছে।

এছাড়া যেকোনও সময় বেসিসের উইমেন্স ফোরামে যোগাযোগের মাধ্যমে বেসিস সদস্য, সদস্য ব্যাতীত যেকোনও প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিবিশেষ এমনকি শিক্ষার্থীরাও সফটওয়্যার সংক্রান্ত কাজ বা ব্যবসা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া যাবে। একজন সফল উদ্যোক্তা হতে চাইলে তাহলে ১৯-২১ মার্চে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) তে 'বেসিস সফটএক্সেপা ২০১৯' এ  নিতে পারবেন আগ্রহীরা। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা