kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আপনার মোবাইল ফোনটি আসল ও বৈধ কিনা জেনে নিন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৮:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আপনার মোবাইল ফোনটি আসল ও বৈধ কিনা জেনে নিন

অবৈধ ও চোরাই পথে মোবাইল ফোন আমদানি বন্ধ করে বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে ‘এনওসি অটোমেশন অ্যান্ড আইএমইআই ডাটাবেজ’ (এনএআইডি) চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) আর্থিক সহায়তায় এনএআইডি চালু করা হয়েছে।

ডাক, টেযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) বিটিআরসি ভবনে এ সেবার উদ্বোধন করেন।

নতুন মোবাইল কেনার ক্ষেত্রে প্যাকেটের গায়ে লেখা ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর (*#/,. ইত্যাদি বিশেষ চিহ্ন বাদে শুধুমাত্র ১৫টি নম্বর) এবং ব্যবহৃত মোবাইলের ক্ষেত্রে *#০৬# চেপে প্রাপ্ত ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর KYD১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বরলিখেলিখে ১৬০০২ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে আইএমইআই নম্বরটি বিটিআরসি’র ডাটাবেইজে সংরক্ষিত রয়েছে কিনা তা জানা যাবে।

দেশে মোবাইল ফোন তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, মাদারবোর্ড তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। এটিও হবে গর্বের বিষয়। পাশাপাশি বাংলা তৃতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হতে একটি কনসোর্টিয়ামে যুক্ত হতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের জন্য কাজ শুরু হয়েছে। ফাইভ-জি থেকেও এক মুহূর্ত দূরে থাকতে চাই না।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, ডাটাবেজ তৈরি করে অবৈধ বাজার বন্ধ এবং মোবাইল ফোন চুরি-ছিনতাই বন্ধ হবে। পাশাপাশি নিশ্চিত হবে রাজস্ব হারানোর ক্ষতি।

বিটিআরসির স্পেট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ বলেন, আনুমানিক ৯ কোটি মানুষ ১৫ কোটি সিম ব্যবহার হয়। এজন্য আনুমানিক ১০ কোটি হ্যান্ডসেট ব্যবহার হয়। মানুষ ২৫-৩০ শতাংশ সেট অবৈধ বাজার থেকে কেনে। এতে সরকার এক হাজার থেকে ১২শ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। নিম্নমানের সেট স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এই ডাটাবেজ তৈরি হওয়ায় রাজস্ব হারানো বন্ধ হবে এবং ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

বিদেশ থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে নিয়ে আসা হ্যান্ডসেট সম্পর্কে নাসিম পারভেজ বলেন, কাস্টমসকে বলে সেট নিয়ে আসলে ট্যাক্সসহ বা ট্যাক্স ছাড়া রশিদ দেবে, তাতে ওইসব হ্যান্ডসেট ব্যবহার করা যাবে। যারা ইতিমধ্যে নিয়ে এসেছেন তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ, ভবিষ্যতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) স্থাপিত হলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যাবেন।

এনএআইডির সুবিধা
মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে সকল হ্যান্ডসেটের আইএমইএ (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুপমেন্ট আইডেন্টিটি) ডাটাবেজ তৈরি ও সংরক্ষণ করা হবে।

মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট আমদানিকারকদের আমদানির অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে অনলাইনে আবেদন এবং অনলাইনেই অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে পারবে। জনসাধারণ মোবাইল ফোন কেনার আগে ডাটাবেজ হতে তথ্য যাচাই করতে পারবে, ফলে অবৈধ আমদানি করা সেটের তথ্য পাওয়া যাবে না। এতে মানুষ তা ক্রয় করতে নিরুৎসাহিত হবে, যার প্রেক্ষিতে অবৈধ আমদানি হ্রাস পাবে। অবৈধ আমদানি হ্রাস করার মাধ্যমে এ খাত থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া দেশের মোবাইল ফোন খাতের সার্বিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে, যা বিশ্লেষণ করে গ্রাহকের ধরন, ফিচার ফোন হতে স্মার্টফোন গ্রহণের প্রবণতা, কী পরিমাণ হ্যান্ডসেট প্রতি বছর দেশের বাজারে বিক্রি হয়, বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের সেট সংখ্যা ইত্যাদি তথ্য যাচাই বাছাই করে টেলিকম সেক্টরের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সিস্টেমটিতে কাস্টম হাউজের জন্য আলাদা মডিউল এবং একটি ডিভাইস থাকবে যাতে কমিশন প্রদত্ত অনাপত্তিপত্রতে উল্লেখিত আইএমইআই নম্বর যাচাই করে শুল্কায়ন করতে পারবে। ফলে ভুল আইএমইআই নম্বরের মোবাইল ফোন প্রবেশ করতে পারবে না।

ভবিষ্যতে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) স্থাপন করা হলে এই সিস্টেমটি তার ডাটাবেজ হিসাবে কাজ করবে। তখন সিস্টেমটির ডাটাবেজ ব্যবহার করে মোবাইল ফোন চুরি, ছিনতাই রোধসহ অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শুধুমাত্র ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি হতে বৈধভাবে আমদানিকৃত বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের বেশির ভাগ আইএমইআই নম্বর ডাটাবেইজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর বাইরে অন্য যে কোন ধরনের আইএমইআই নম্বর বিটিআরসি’র ডাটাবেইজে আপাতত পাওয়া যাবে না।

তবে এখন থেকে যত হ্যান্ডসেট বৈধভাবে আমদানি বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হবে তা যথাযথ যাচাই বাছাই করে বিটিআরসি’র ডাটাবেইজে সংরক্ষণ করা হবে।

বিটিআরসি’র বিদ্যমান সার্ভার কক্ষেই সিস্টেমটির ডাটাবেইজ ও সার্ভার স্থাপন করা হয়েছে। এনএআইডি সেবা পেতে কোন ধরনের রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা