kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

বাজেট বিনিয়োগ বান্ধব না হলে উন্নয়ন থমকে যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাজেট বিনিয়োগ বান্ধব না হলে উন্নয়ন থমকে যাবে

আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বিনিয়োগ, ব্যবসাবান্ধব এবং কর্মসংস্থানমুখী করা জরুরি। এটা করা না গেলে দেশের উন্নয়নসহ বড় বড় যেসব মেগা প্রকল্প চলমান তা স্থবির হয়ে পড়বে। এ জন্য সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার পাশাপাশি করপোরেট কর কমপক্ষে আড়াই শতাংশ নামিয়ে আনতে হবে। গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠ’র আয়োজনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। কালের কণ্ঠের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় এতে সূচনা বক্তব্য রাখেন কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

শেখ ফজলে ফাহিম : দেশের অর্থনীতি এখন অপ্রতিষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরশীল। এটাকে একটি কাঠামোতে আনা জরুরি। সে জন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ব্যবসায়ীদের ভ্যাট ও কর বাড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন। নতুন ভ্যাট আইন বিভিন্ন স্তরভিত্তিক করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, জাতীয় বাজেট হতে হবে বিনিয়োগবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব এবং কর্মসংস্থানমুখী। বিনিয়োগ শিল্পায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার পাশাপাশি করপোরেট কর আড়াই শতাংশ নামিয়ে আনা জরুরি।

ড. রুবানা হক : পোশাক খাতে প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করে। সাধারণ নারী শ্রমিকের এত বড় একটি শিল্প; নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক। তিনি এই শিল্প রক্ষায় সরকারের আমদানি বিকল্প প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, বাজেটে শ্রমিকদের কল্যাণে রেশনিং সুবিধা, গৃহায়ণ ও গণপরিবহনের সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।

সেলিমা আহমাদ : নারীদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন নারী উদ্যোক্তা এবং সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ। এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০০ কোটি টাকার তহবিলের যথাযথ ব্যবহারে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। সেলিমা আহমাদ দেশের বিভিন্ন শোরুমে নারী উদ্যোক্তাদের বিক্রীত পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার দাবি করেন।

হাবিব উল্ল্যাহ ডন : বারবিডার সভাপতি ও এফবিসিসিআইর পরিচালক হাবিব উল্ল্যা ডন অটোমোবাইল খাতে অবচয় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, গত দুই বছরে ৫ শতাংশ করে ১০ শতাংশ কমিয়ে তা ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে। এটা আগের মতো ৪৫ শতাংশ করার দাবি জানান তিনি। এর ফলে নতুন গাড়ির সঙ্গে পুরনো গাড়ির দামের পার্থক্য কমেছে অনেক।

সাব্বির হাসান নাসির : এসিআই লজিস্টিকের (স্বপ্ন) নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, দেশের সুপারশপগুলো শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকের পণ্য সরাসরি কিনে দেশের মানুষের এবং সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অথচ এই খাতে মূসক ৫ শতাংশ নেওয়া হয়। একই ধরনের ব্যবসা সাধারণ বাজারে করা হলেও তাদের এই হারে কর দিতে হয় না। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর মওকুফ করে দেওয়া হলে বর্তমান কর্মসংস্থান ১৩ হাজার থেকে ৮০ হাজারে নিয়ে যাওয়া হবে।’

হেলাল উদ্দিন : বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, মূসক আইন ২০১৯ সালের জুলাই থেকে বাস্তবায়ন হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাসহ সবার কথা মাথায় রেখে যেন এটা বাস্তবায়ন হয়। এ ছাড়া যেসব ব্যবসায়ীর বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত তাদের মুসকের আওতার বাইরে রাখার দাবি জানান তিনি।

মন্তব্য