kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

কেমন বাজেট চাই : কালের কণ্ঠ’র গোলটেবিল বৈঠক

অর্থবছর ও কর্মদিবস পরিবর্তন প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্থবছর ও কর্মদিবস পরিবর্তন প্রয়োজন

সরকারের বাজেট বাস্তবায়নে গতিশীলতা আনতে অর্থবছর ও সাপ্তাহিক কর্মদিবস পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেন, এর কারণে বাজেট বাস্তবায়নে অনেক সমস্যা হয়, টাকার অপচয় হচ্ছে এবং প্রচুর দুর্নীতিও হচ্ছে, যা সবার জানা। একই সঙ্গে সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সোম-শুক্রবার সাপ্তাহিক কর্মদিবস করার দাবি তোলেন তিনি। গতকাল শনিবার বিকেলে কালের কণ্ঠ আয়োজিত ‘কেমন বাজেট চাই’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচক হিসেবে এ দাবি তোলেন এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, ‘কর বছর পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে দিতে তো হয়রান হয়ে গেলাম। অর্থবছর জুন-জুলাই হওয়াতে কী কী ধরনের আর্থিক অপচয় হচ্ছে, দুর্নীতি হচ্ছে সেটা আমরা সবাই জানি। এটা কেন জানুয়ারি-ডিসেম্বর করা যাবে না তা বুঝতে পারি না। এ বছর না হলেও আগামীর জন্য এটা চিন্তা করা যেতে পারে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেন সোম-শুক্র অফিস সপ্তাহ করতে পারি না? সরকার চাইলেই এটা করতে পারে। সারা বিশ্বেই কিন্তু অফিস সপ্তাহ সোম-শুক্রবার।’ 

তবে অর্থবছর পরিবর্তন সম্ভব না হলেও কর্মদিবস পরিবর্তন করা যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, অর্থবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর—এটা বাস্তবসম্মত নয়। এতে অনেক সমস্যা তৈরি হবে। তবে সাপ্তাহিক কর্মদিবস পরিবর্তন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে শনি ও রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ রেখে সোমবার থেকে কার্যদিবস শুরুর চিন্তা করা যেতে পারে।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, অর্থবছর এখন যেমনটা আছে এটাই সবচেয়ে ভালো। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর অর্থবছর করলে অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বড় একটা সময় বর্ষাকাল থাকে। এ সময়টা অস্বীকার করা যায় না। কেনাকাটার বিষয় থাকে। এসব কারণে অর্থবছর পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না।’

আসন্ন বাজেট নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরে ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘বিদেশে দেখেছি, একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যাংক থেকে অর্থ তোলা বা জমার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক। আমি মনে করি, ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি যদি কেউ জমা দিতে বা তুলতে যান তাকে টিআইএন প্রদর্শন করতে হবে। এতে উপকার পাওয়া যাবে বলে মনে করি। তবে ১০ হাজার টাকার বেশি যত লেনদেন হবে, সবগুলো অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে করা যেতে পারে।’ একই সঙ্গে ব্যাংকে টাকা রেখে যাঁরা সুদ পান সেই সুদের হারের ওপর থেকে কর নেওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দেন তিনি। অপ্রদর্শিত আয়ের বিষয়ে সাবেক এই গভর্নর বলেন, অপ্রদর্শিত আয়ের একটা অংশ কিন্তু সরকারের নীতির কারণে অপ্রদর্শিত থাকে। জমি বিক্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি অনেক বেশি। এটা অনেকে দিতে চায় না। আরেকটা নেহায়েত কালো টাকা। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অপ্রদর্শিত আয় প্রচলিত হারে যে স্ল্যাবে পড়বে সে স্ল্যাবের হারে ট্যাক্স নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু তাকে ভবিষ্যতে যাতে কোনো ট্যাক্স কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে না পারে সে জন্য একটা ঘোষণা সরকার থেকে দেওয়ার অনুরোধ করেন, যাতে তাকে কেউ এটার জন্য ধরবে না। তবে এর ওপরে হলে অনেক বেশি হারে ট্যাক্স নিতে হবে। এই সুযোগ থাকবে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত। এর মধ্যে যাঁরা ঘোষণা দেবেন না, কর  দেবেন না, তাঁরা যদি ধরা খান তাঁদের সব টাকাই জব্দ করা হবে এবং তাঁর কোনো আপত্তি কোর্টেও শোনা হবে না।

তিনি বলেন, করহার যদি কমিয়ে দেওয়া যায় তবে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বাড়বে। এর জন্য একটা স্ল্যাব পুনর্গঠন করা যায় কি না তা রাজস্ব বোর্ডকে ক্ষতিয়ে দেখতে অনুরোধ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা