kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

উদ্যোক্তা

সন্ধ্যার সুচে সফলতার কাহিনি

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

২৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সন্ধ্যার সুচে সফলতার কাহিনি

সন্ধ্যা রানী

পরিবারের কন্যাসন্তান হিসেবেই সন্ধ্যা রানী হাতের কাজ বিশেষত : সুচের কাজ শিখেছিলেন। কাজটি ছিল নেশার মতো। পড়ার টেবিলে বসেও চলত সুচের কাজ। এ নিয়ে মায়ের অনেক বকুনিও খেতে হয়েছে। পড়ার টেবিলে বসে একদিন না পড়ে সুচের কাজ করছিলেন, কিন্তু মাকে বললেন তিনি পড়ছেন। মায়ের কাছে মিথ্যাটা ধরাও পড়ে গেল।

মা কষ্ট পেয়ে বলেছিলেন, ‘পড়ার টেবিলে বসে মিথ্যে কথা, তোর সেলাই করেই খাতি হবে।’ সন্ধ্যা রানী মনে করেন, মায়ের অভিশাপেই তিনি সেলাইয়ের কাজ করেন। তবে অভিশাপ মনে হলেও এই কাজে তিনি সফল হয়েছেন। একজন সফল উদ্যোক্তা তিনি। একদিন নিজে একাকী যে কাজ করতেন, শতাধিক কর্মী নিয়ে তিনি এখন সেই কাজ করেন। দেশের প্রায় অর্ধেক জায়গায় তাঁর তৈরি পণ্য পৌঁছে যায়। তিনি মূলত পাইকারি বিক্রেতার কাছেই পণ্য বিক্রি করেন।

১৯৯২ সালে প্রায় শূন্য হাতে শুরু করেছিলেন। ১৯৯৪ সাল নাগাদ তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যেই নানান পণ্য তৈরি করেন। এখন শতাধিক কর্মী নিয়ে তাঁর পণ্য উৎপাদনের পরিধি বাড়িয়েছেন। শুরু করেছিলেন শাড়িতে সুচের কাজ করার মধ্য দিয়ে, এখন তা বিস্তৃত হয়েছে নানা সামগ্রীতে। আছে নকশী কাঁথা, শাড়ি, থ্রিপিস, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, বেডশিট, কুশন-কভার, সোফার ম্যাট, ওয়াল ম্যাট, বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ। দেশের নানা প্রান্ত থেকে মূলত পাইকাররা তাঁর কাছে পণ্যের চাহিদাপত্র দেন, তিনি চাহিদামতো পণ্য কুরিয়ারে সরবরাহ করেন। সেই অনুযায়ী তাঁরা টাকা পাঠান। প্রতি মাসে গড়ে দুই থেকে তিন লাখ টাকার পণ্য তিনি সরবরাহ করে থাকেন। ২০ শতাংশ নিট মুনাফা হলেও তাঁর মাসে গড়ে আয় ৫০ হাজার টাকা।

মাগুরার আরালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী সন্ধ্যার লেখাপড়া বেশি দূর এগোয়নি। বিয়ে একই জেলার শ্রীপুর উপজেলার আন্তোই গ্রামে। স্বামী শঙ্কর বিশ্বাস পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কাজ করতেন। ২০১৪ সালে তিনি প্রয়াত হয়েছেন। স্বামীর চাকরির সুবাদেই তাঁর খুলনায় আসা। পরিবারের ঘরকন্নার কাজ করার পাশাপাশি তিনি তাঁর হাতের কাজ করেছেন। নিজের দক্ষতা বাড়িয়েছেন, আবার অনেককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাঁর প্রশিক্ষণ পেয়ে অনেকেই এখন একেকজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। সন্ধ্যা রানীর নিজের কোনো শোরুম নেই। তিনি প্রধানত বাড়ি বাড়ি থাকা তাঁর কর্মীদের দিয়েই কাজ করান। তিনিই কাপড়, সুতা ও আনুসঙ্গিক প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সরবরাহ করেন। কী কাজ করতে হবে, তারও নির্দেশনা দেন, সেই অনুযায়ী তাঁরা কাজ করে দেন। প্রতিটি কাজের জন্য কর্মীরা আলাদা পারিশ্রমিক পান। নিজে তিনি সুচের কাজে খুবই দক্ষ হওয়ায় ইচ্ছুক নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলেছেন। তাঁদের দিয়েই তিনি এখন কাজ করেন। তৈরি হওয়া পণ্য এনে রাখেন খুলনার সিঅ্যান্ডবি কলোনিতে তাঁর বাসায়। সন্ধ্যা বুটিকস নামে তাঁর পণ্য যায় পাইকারদের হাত ধরে দেশের নানা প্রান্তে।

নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি খুলনার মহিলা অধিদপ্তর থেকে সম্মানিত হয়েছেন। সম্প্রতি খুলনায় অনুষ্ঠিত নারী উদ্যোক্তা মেলায় তিনি অংশ নিয়েছিলেন। পেয়েছেন প্রথম পুরস্কার।

মন্তব্য