kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

নিষেধাজ্ঞায় ঝুঁকির মুখে হুয়াওয়ের বৈশ্বিক যাত্রা!

হুয়াওয়ের চেয়ে আমেরিকান কম্পানিগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিষেধাজ্ঞায় ঝুঁকির মুখে হুয়াওয়ের বৈশ্বিক যাত্রা!

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি হুয়াওয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল। এতে স্মার্টফোন বাজার ও ফাইভজি প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক নেতৃত্বের আসনে থাকা হুয়াওয়ের অগ্রযাত্রা হোঁচট খাবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। যদিও হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন জেংফি বলেছেন, ‘আমাদের শক্তিকে খাটো করে দেখা হচ্ছে। হুয়াওয়ের বৈশ্বিক যাত্রা যুক্তরাষ্ট্র থামাতে পারবে না।’

গত ১৫ মে এক আদেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে টেকনোলজিস ও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ৭০ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেন। এতে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় বা আদান-প্রদান করতে পারবে না হুয়াওয়ে। এর পরই গত ১৯ মে ইন্টারনেট জায়ান্ট গুগল জানিয়ে দেয় তারাও হুয়াওয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় দেশটির বেশ কিছু কম্পানি সাময়িকভাবে সংকটে পড়ায় হুয়াওয়ের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক রক্ষায় ৯০ দিনের অবকাশ দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ফলে হুয়াওয়ের ফাইভজি যাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অন্যান্য বাধাগুলোও আমরা দুই-তিন বছরে কাটিয়ে উঠতে পারব। তিনি বলেন, এতে হুয়াওয়ের প্রবৃদ্ধি কমলেও সেটা খুব বেশি হবে না। রাজস্ব ২০ শতাংশ কমতে পারে। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য কম্পানি প্রস্তুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সরঞ্জাম ক্রয়-বিক্রয় নাও করে তাতে হুয়াওয়ে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

তবে গুগলের সম্পর্ক ছেদের ঘোষণা যে হুয়াওয়ের জন্য বড় হুমকি তাতে সন্দেহ নেই। বিশ্বের সিংহভাগ স্মার্টফোনই চলে গুগলের অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে। গুগল জানিয়েছে, হুয়াওয়ে থেকে অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমসহ কয়েকটি মৌলিক সেবা পাবে না গ্রাহকরা। যদিও পরে জানিয়ে দেওয়া হয় বিদ্যমান ব্যবহারকারীরা এ সুবিধা আগের মতোই পাবে, নতুনরা পাবে না। গুগল প্লেস্টোর, জিমেইল এবং গুগল ম্যাপস ব্যবহার করতে পারবে না হুয়াওয়ে গ্রাহকরা।

তবে গুগলকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল কম্পানি আখ্যা দিয়ে রেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে গুগলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, হুয়াওয়ের ব্যবহৃত চিপস এর অর্ধেক আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, বাকিগুলো নিজেরাই তৈরি করি। ফলে গুগলের এ সিদ্ধান্তে আমরা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হব না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন কম্পানি হয়ে ওঠা হুয়াওয়ে যখন স্যামসাংকে অতিক্রম করে শীর্ষে আসার প্রতিযোগিতায় তখন গুগলের এ সিদ্ধান্ত তাদের পথচলা ব্যাহত করবে। হুয়াওয়ের ব্যাবসায়িক আয়ের অনেকাংশে জুড়ে রয়েছে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এবং স্মার্টওয়াচের মতো পরিধেয় ডিভাইস। ২০১৮ সালে এ খাত থেকে আয় আসে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রাজস্বের ৪৫ শতাংশ। আইডিসির বিশ্লেষক ব্রিয়ান মা বলেন, হুয়াওয়ে হয়তোবা নিজস্ব সফটওয়্যার ও অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে চীনের বাজার ধরে রাখতে পারবে। কিন্তু চীনের বাইরে কোটি কোটি ব্যবহারকারী গুগলের অ্যাপস ও সেবা ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে তাদের স্মার্টফোন আকর্ষণ হারাবে।

ক্যানলিসের বিশ্লেষক নিকল পেংগ বলেন, যখন গ্রাহকরা দেখবেন হুয়াওয়ের মাধ্যমে গুগলের ইকোসিস্টেমে ঢোকা যাচ্ছে না তখন তাদের আস্থা হারাবে কম্পানিটি। অনেক প্রতিষ্ঠান যেমন রাইড শেয়ার ও খাদ্য সরবরাহ কম্পানি সেবা দেওয়ার জন্য গুগল ম্যাপসের ওপর নির্ভর করে, যা হুয়াওয়ে ডিভাইসে পাওয়া যাবে না।

এদিকে গুগলের অ্যানড্রয়েড হারালে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম চালুর কথা জানিয়েছে হুয়াওয়ে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে নিজেদের পরবর্তী সংস্করণের ডিভাইসে অ্যানড্রয়েডের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানানো হয়। অপারেটিং সিস্টেমটির প্রাথমিক নাম ‘হংমেং’। তবে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হুয়াওয়ে নতুন অপারেটিং সিস্টেম চালু করলেও তা গ্রাহকদের আস্থায় আনা সহজ হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে হুয়াওয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অ্যান্ডি পার্দি বলেন, ‘হুয়াওয়েকে থামানোর যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রচেষ্টা তা সফল হবে না। বৈশ্বিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। হুয়াওয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলোর লেনদেনে ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার ফলে হুয়াওয়ের চেয়ে আমেরিকান কম্পানিগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ রয়টার্স, এএফপি, সিএনএন মানি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা