kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদ আনন্দ নেই শেয়ারবাজারে

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদ আনন্দ নেই শেয়ারবাজারে

আর মাত্র কদিন পরেই ঈদ আনন্দে মাতবে পুরো দেশ। শ্রমজীবী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী সবাই কমবেশি সামর্থ্য অনুযায়ী সেই প্রস্তুতিতেই ব্যস্ত। তবে এই আনন্দ আয়োজনের মধ্যেও কোনো উত্তাপ নেই দেশের পুঁজিবাজারে। বোনাস তো দূরের কথা, অনেক হাউসে নিয়মিত বেতন দিতেও হিমশিম খাচ্ছে। খরচের সঙ্গে আয়ের সংগতি মেলাতে না পেরে গত এক বছরে চট্টগ্রামে অনেক ব্রোকারেজ হাউস জনবল যেমন কমিয়েছে তেমনি অনেক শাখাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ ২০১০ ও ২০১১ সালে দেশের পুঁজিবাজারে যখন রমরমা অবস্থা তখন এক ঈদে ছয়টি বোনাস পাওয়ার উদাহরণও আছে। সেই ঈদ তাদের কাছে আনন্দের চেয়ে এখন কষ্টের।

সিএসই সূত্র জানায়, ২০১০ সালে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গড় লেনদেন ছিল ১৩৯ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে এসে সেই লেনদেন মাত্র ১৫ থেকে ২০ কোটিতে এসে ঠেকেছে। লেনদেনের এই দৈন্যতার প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর পরিচালন খাতে। লেনদেনের এই অস্বাভাবিক পতনে এক বছর ধরেই ধারাবাহিক লোকসানের মধ্যে আছে ট্রেকহোল্ডাররা। ঈদের আগে এই বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো লক্ষণও নেই।

রয়েল সিকিউরিটিজের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘১০ বছর ধরে এই লাইনে আছি। সুদিন যেমন দেখেছি, তেমনি এখন দুর্দিনও দেখছি। ২০১০ ও ২০১১ সালে বছরে ১০টি বোনাস পাওয়ার রেকর্ডও আছে। এ ছাড়া অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তো আছেই। আর এখন প্রতি মাসে বেতন পেতেই কষ্ট হয়ে যায়। সামনে ঈদ, বোনাস কবে নাগাদ পাব তা বলা মুশকিল। মালিককেও চাপ দিতে পারি না। কারণ শেয়ারবাজারের দুরবস্থা নিজেই তো দেখছি। লোকসানের মধ্যেও যে বেতন পাচ্ছি সেটাই তো মিরাকল।’

সিএসই সদস্য বি রিচ লিমিটেডের এমডি কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১০ সালের ঈদে আমাদের স্টাফদের সর্বোচ্চ ছয়টি পর্যন্ত বোনাস দিয়েছিলাম। এখন পুরো সিএসইতে যা লেনদেন হয় এককভাবে বি রিচে তার চেয়ে বেশি লেনদেন হতো। তাই স্টাফদেরও সুযোগ-সুবিধা দিতে কোনো কার্পণ্য ছিল না। কিন্তু গত এক বছর ধরে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয়। লাভ তো দূরের কথা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে তিন মাস বাজার খারাপ থাকলে পরের দুই মাস ভালো থাকত। এভাবে লোকসান কাভার দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যেত। গত ১০ বছর শেয়ারবাজার এভাবেই চলে আসছিল। কিন্তু গত এক বছরে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগই পায়নি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অবস্থা আরো শোচনীয়। অনেকেই লোকবল কমিয়ে শাখা অফিস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।’

কবির সিকিউরিটিজের সিইও শহীদুল হক বলেন, ‘শুধু ট্রেডিং আয় দিয়ে হাউস চালানো খুবই কঠিন। ২০১৭ সালটা যখন ভালো গেল আমরা আশা করেছিলাম ২০১৮ সালও ভালো যাবে। কিন্তু সেটা হয়নি। আর ২০১৯ সালটা এখন পর্যন্ত বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়নি। প্রতিটি হাউস কমবেশি লোকসানে আছে। স্বাভাবিকভাবে বাড়তি জনবল সবাই কমিয়েছে। ব্রোকারেজ চালাতে কষ্ট হচ্ছে।’

ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে যেমন এবারের ঈদ আনন্দ নিয়ে আসেনি তেমনি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ঈদের কোনো আমেজ নেই। টানা দরপতনে রমজানের আগেও ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিনিয়োগকারীরা একই সময়ে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী আশরাফুল আলম যেমন বললেন, ‘অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিও বলতে কিছু নেই। লোকসানে লোকসানে জর্জরিত বিনিয়োগকারীরা এখন ব্রোকারেজ হাউসমুখীও হচ্ছে না। প্রতিটি শেয়ার এমন পতন হয়েছে যে কেউ চাইলেও বের হতে পারছে না। যারা আয়ের জন্য শুধুই শেয়ারবাজারের ওপর নির্ভরশীল তাদের অবস্থা সত্যিই করুণ। ঈদ তাদের কাছে আনন্দের চেয়ে বেশি আতঙ্কের।’

তবে শেয়ারবাজারকে আয়ের একমাত্র উৎস হিসেবে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ জহুর। তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ছাড়া অন্য বিনিয়োগকারীদের জন্য এটা পেশা হতে পারে না। বরং আয়ের অনেক বিকল্পের মধ্যে পুঁজিবাজার একটি হতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা