kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে তাঁত কারিগররা

ভারতীয় শাড়ির প্রবেশে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতীয় শাড়ির প্রবেশে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা

ঈদ ঘিরে শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সিরাজগঞ্জ তাঁতপল্লীর কারিগররা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদ আনন্দে প্রায় সব বয়সী নারীদের অন্যতম পছন্দ তাঁতের শাড়ি। ক্রেতাদের তাই নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি উপহার দিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সিরাজগঞ্জ তাঁতপল্লীর কারিগররা। তাতের খট খট শব্দে মুখরিত সিরাজগঞ্জের বেলকুচি, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার তাঁতপল্লীগুলো। তবে এর মাঝেও চিন্তার ভাঁজ ফেলছে দেশে অবাধে প্রবেশ করা ভারতীয় শাড়ি।

ভারতীয় শাড়ির চাইতে দেশীয় শাড়ির মান ভালো হলেও চাকচিক্য ও কম দাম হওয়ায় ক্রেতারা প্রলুব্ধ হচ্ছে ভারতীয় শাড়িতে। ভারতীয় শাড়ির উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় ও চোরাই পথে অবাধে দেশে আসায় এগুলো কম দামে বিক্রি করেও লাভবান হতে পারে বিক্রেতারা। তামাইয়ের তাঁত মালিক সোহরাব আলী ও ব্যবসায়ী জয়নুল আবেদিন জানান, ঈদের মৌসুমে পুরোদমে কেনাবেচা হওয়ার সময়। এখন কিছু পাইকার বাজারে এলেও সামনে ভারতীয় শাড়ি এলে তেমন পাইকার আর পাওয়া যাবে না। যে কারণে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে হিমসিম খেতে হয়। এমন হলে এবার ঈদে ছেলে-মেয়েদের জন্য নতুন পোশাক কেনা কিংবা ঈদের আনন্দ তেমন আর থাকবে না। তাঁরা আরো বলেন, দেশে ভারতীয় শাড়ির অবৈধ প্রবেশ ও বিক্রি দেশীয় বাজর নষ্টের জন্য মূলত দায়ী। যদিও ভারতীয় শাড়ির চেয়ে দেশীয় শাড়ির মান ভালো। তবুও টেলিভিশনে সিরিয়ালে ভিন্নভিন্ন শাড়ির নাম চাকচিক্য দেখে নারীরা ভারতীয় শাড়িতে আকৃষ্ট হচ্ছে। ফলে মার খাচ্ছে দেশীয় তাঁত। বেলকুচি বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন প্রামাণিক জানান, রোজার প্রথম হাটের অবস্থা দেখে হতাশ তাঁত মালিকরা। দেশের বড় হাট ও বাজারগুলো ভারতের কাপড়ের দখলে থাকায় এ বছর দেশীয় শাড়ি-লুঙ্গির বাজার মন্দা। তিনি আরো বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা তাঁতশিল্প আজ ধ্বংসের পথে। সরকারের সঠিক নজরদারি না থাকলে এ শিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

ক্রেতারা বলছেন, বিদেশি শাড়ির তুলনায় সিরাজগঞ্জের শাড়ির মান অনেক ভালো। তবে বিদেশি শাড়ির বিভিন্ন ধরনের নকশা হয়ে থাকে। যদিও তাঁতের শাড়ির মান তেমন উন্নত নয়। আমরা চাই দেশীয় শাড়ির নতুন নতুন নকশা তৈরি করা হোক।

বেলকুচি উপজেলার তাঁত মালিক আব্দুলাহ জানান, বিগত সময়ে মন্দা গেলেও এখন ঈদ উপলক্ষে ব্যবসা কিছুটা ভালো। জ্যোতি শাড়ির মালিক বোদ্যনাথ রায় বলেন, এখন ব্যবসা ভালো হলেও ভারতের শাড়ির দখলে পুরো বাজার। এমন চললে ঈদের আগে ব্যবসা পড়ে যাবে। তাই কাপড়ের বাজারে সরকারি নজরদারি প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সাইফুর রহমান জানান, তাঁতশিল্প রক্ষায় প্রশাসন ব্যাপক তৎপর। নিয়মিত বাজার মনিটরিংসহ বর্ডার এলাকায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে কাস্টমসকে। কোনোভাবেই যেন অবৈধ কাপড় দেশের বাজারে আসতে না পারে সে জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

মন্তব্য