kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ধারাবাহিক মূল্য পতনে দিশাহারা বিনিয়োগকারীরা

সব প্রবৃদ্ধির ভিড়ে শুধু নিম্নগামী শেয়ারবাজার

বাজার সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় চট্টগ্রাম ইনভেস্টরস ফোরাম

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব প্রবৃদ্ধির ভিড়ে শুধু নিম্নগামী শেয়ারবাজার

২০১০ সালের ডিসেম্বরে শেয়ারবাজার ধস থেকে যে ক্রান্তিকাল শুরু হয় সেখান থেকে মাঝেমধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা হলেও সফলতা আসেনি। অথচ শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতন এমন এক সময়ে ঘটছে যখন দেশের অর্থনীতির সব সূচকই স্মরণকালের সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই মুহূর্তে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি, জাতীয় রপ্তানি আয়, বিদেশি বিনিয়োগ এবং মাথাপিছু আয় সব কিছুই সরকারের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই যখন বাড়ছে, ঠিক সেই সময় কেবল পুঁজিবাজারের সূচকই ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে। সব প্রবৃদ্ধির ভিড়ে শুধু পুঁজিবাজারের এমন ধারাবাহিক পতনে বিনিয়োগকারীরাও এখন দিশাহারা।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার। আগের বছর একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এফডিআই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩২ শতাংশের বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ইপিবি) তথ্য মতে, এপ্রিল পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ৩৩ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭.২ শতাংশ বেশি এবং প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১.৬১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮.১৩ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে গত এক বছরে মাথাপিছু আয় এক বছরে এক হাজার ৭৫১ ডলার থেকে বেড়ে এক হাজার ৯০৯ ইউএস ডলারে উন্নীত হয়েছে। এসব সূচকেই অর্থনীতির অগ্রগতি দৃশ্যমান। কিন্তু শেয়ারবাজারের দিকে দৃষ্টি ফেরালেই চারদিকে শুধু হতাশার দীর্ঘশ্বাস। চলতি অর্থবছরের ২৯ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন ছিল সর্বোচ্চ। এ সময় বাজার মূলধন ছিল বার লাখ ২১ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। আর সূচক ছিল পাঁচ হাজার ৯২৪ পয়েন্ট। আর গত ১৫ মে পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসের ব্যবধানে মাত্র ৭০ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার মূলধন হারিয়েছে ৩৮ হাজার ৭৪ কোটি টাকা। সূচক কমেছে ৭২৪ পয়েন্ট। একই সময়ে দেশের অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক কমেছে ২ হাজার ৩২১ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন হারিয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এ প্রসঙ্গে সিএসইর সাবেক সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, ‘পুঁজিবাজার অবশ্যই ভালো হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু হচ্ছে না। এর বিশেষ কারণও আছে। কিছুদিন আগে একটা অনলাইন পত্রিকায় দেখেছি, সার্ভেইল্যান্স পাসওয়ার্ড রয়েছে মার্কেট প্লেয়ারদের হাতে। যদি এটাই হয় তাহলে অর্থমন্ত্রী যেমন বললেন, লাখো কোটি টাকা দিলেও কাজ হবে না আমিও সেটাই মনে করি। বাজার চরিত্র ঠিক করতে হবে আগে। ব্যাংকে তারল্য সংকট রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সত্ত্বেও ব্যাংকের সুদের হার কমছে না। এসব কিছুর প্রভাব পড়ছে পুঁজিবাজারে।’

বাজারকে সচল করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন চট্টগ্রাম ইনভেস্টরস ফোরামের আহ্বায়ক আসলাম মোরশেদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা