kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

ডাব্লিউআরসির প্রতিবেদন বিতর্কিত : বিজিএমইএ

উচ্চহারে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে পোশাক খাতে কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডাব্লিউআরসির প্রতিবেদন বিতর্কিত : বিজিএমইএ

গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও জীবনযাপনের ব্যয়ের (লিভিং ওয়েজের) তুলনায় অপর্যাপ্ত। বিশ্বে লিভিং ওয়েজ নিয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা না থাকলেও প্রতিবেদনে এমন অনেক বিষয় উপেক্ষা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। ওয়ার্কার রাইট কনসোর্টিয়ামের (ডাব্লিউআরসি) সাম্প্রতিক ‘ব্যানিং হোপ : বাংলাদেশ গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স, সিকিং অ্যা ডলার অ্যান আওয়ার ফেইস মাস ফায়ারিং, ভায়োলেন্স অ্যান্ড ফরস অ্যারেস্টস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দেশের পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর জবাবে বলেছে, ডাব্লিউআরসির প্রতিবেদনে মজুরিসংক্রান্ত বিষয়গুলোর বেশির ভাগই বিতর্কিত। সরকার গঠিত ন্যূনতম মজুুরি বোর্ড সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে সুপারিশ করেছে।

উচ্চহারে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে তৈরি পোশাক খাতে কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাঁচটি কেসস্টাডি নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ডাব্লিউআরসি। এই কেসস্টাডিগুলো নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে। প্রতিবাদপত্রে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে বিজিএমইএ—মজুরি বিতর্ক ও নির্বাচনপূর্ব সহিংসতা।

বিজিএমইএ জানায়, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেকোনো দেশে গুরুত্ব দেওয়া হয় সেখানকার জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং আয়ের স্তরে। ডাব্লিউআরসির প্রতিবেদনে শ্রমিকদের চাহিদা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় হিসেবে নেওয়া হলেও উৎপাদনশীলতার হার, বিশাল কর্মসংস্থানকে অক্ষুণ্ন রেখে উৎপাদন কর্মকাণ্ড পরিচালনা, জনগণের গড়পড়তা অবস্থান ও আয় একই রকম গুরুত্ব নিয়ে বিবেচনা করা হয়নি। এ ছাড়া পোশাকের মূল্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কখনোই এ ধরনের প্রতিবেদনগুলোতে উঠে আসে না। সার্বিক বিবেচনায় মনে রাখা জরুরি, উচ্চহারে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হলে তা কর্মসংস্থানের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে।

ডাব্লিউআরসির প্রতিবেদনে বলা নির্বাচনপূর্ব সহিংসতা প্রসঙ্গে বিজিএমইএ বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ন্যূনতম মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ হয়। নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতির স্পর্শকাতর হওয়ায় বিক্ষোভ সৃষ্টির মাধ্যমে এ খাতকে শঙ্কার দিকে ঠেলে দেওয়া খুবই সহজ। ডাব্লিউআরসির প্রতিবেদনে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি উঠে আসেনি। প্রতিবেদনে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ধর্মঘটের কারণে সাড়ে সাত হাজার থেকে ১১ হাজার ৬০০ শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে বলা হলেও তা যাচাইয়ের উপযুক্ত সূত্র নেই।

ডাব্লিউআরসির প্রতিবেদনে মাহমুদ ফ্যাশনসের দায়ের করা এক মামলায় ভুলে আতাউর ও সবুজ নামে দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার, অবন্তী কালার টেক্সের এক হাজার ২০০ কর্মী বরখাস্তের বিষয়ে বিজিএমইএ জানায়, মামলাটি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আর অবন্তী কালার টেক্সের কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না সে বিষয়ে আলোচনা করছে বিজিএমইএ। এ ছাড়া ডাব্লিউআরসির বলা অন্য বিশেষ কেসস্টাডিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর কাছে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ চেয়েছে বিজিএমইএ। কারখানাগুলোতে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানায় সংগঠনটি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা