kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

ছোলার ক্রেতা নেই খাতুনগঞ্জে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছোলার ক্রেতা নেই খাতুনগঞ্জে

রমজান শুরুর প্রথম সপ্তাহেই ছোলার ক্রেতা সংকটে পড়েছে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে। বাজারে পর্যাপ্ত ছোলা থাকলেও চাহিদা নেই; এমনকি ছোলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন যে দর বেঁধে দিয়েছে এর চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে আমদানীকৃত এই ছোলা। জেলা প্রশাসনের দেওয়া দরের চেয়ে কেজিতে তিন থেকে চার টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান আলম বাদশা বলেন, শবেবরাতের শুরু থেকেই ছোলার বাজার স্থিতিশীল ছিল; তখনো আমরা বলেছিলাম, এবার বাজারে দাম বাড়বে না। এখন সত্য প্রমাণিত হলো।

তিনি বলেন, বাজারে ছোলার ক্রেতা নেই; তাই প্রতিযোগিতা দিয়ে কেজিতে তিন থেকে চার টাকা কমে বিক্রি করছি। শবেবরাতের পর মিয়ানমারের ছোলা কেজি ৭২ থেকে ৭৩ টাকা বিক্রি করলেও এখন বিক্রি করছি ৬৯ টাকা। অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬২ টাকা, আগে ছিল ৬৬ টাকা। এদিকে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের কারণে চট্টগ্রাম পাইকারি ও খুচরা দুই বাজারেই দাম কমার প্রভাব পড়েছে। রমজান শুরুর আগেভাগে বাজার তদারকি শুরু করা এবং দোকানে মূল্য তালিকা টানানো নিশ্চিত করার সুফল মিলেছে এবার।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবার পাইকারি বাজারে আগেভাগে গিয়ে সতর্ক করার পর থেকেই খুব বেশি তদারকিতে যেতে হয়নি। পাইকারিতে দাম না বাড়ায়  আমরা এর সুফল দিতে খুচরা বাজারেই বেশি মনোযোগ দিয়েছি। এতে সুফল মিলেছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ছোলার দাম না বাড়ার পেছনে ছিল তিনটি কারণ। সেগুলো হচ্ছে, গত বছর চাহিদার অতিরিক্ত আমদানীকৃত ছোলা অবিক্রীত থাকা; সেগুলো এবার আগেভাগেই বাজারে আসা। সেই সঙ্গে এই বছরও চাহিদার চেয়ে বেশি ছোলা আমদানি হওয়া। আর চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট না থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ছোলা আমদানিকারকের গুদাম হয়ে বাজারে পৌঁছে যাওয়া। এসব কারণে ছোলার বাজারে কোনো ধরনের সরবরাহ সংকটের সৃষ্টি হয়নি। ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভেড়ানো তিন দিন বন্ধ থাকলেও এর প্রভাব পড়েনি; কারণ এর আগেই সব ছোলা আমদানিকারক ও আড়তদারদের গুদামে পৌঁছেছে।

খাতুনগঞ্জের বাজারে বিক্রি ছোলার মধ্যে মিয়ানমারের ছোলার দামই এখন সবচেয়ে বেশি। গত রবিবার সেই মিয়ানমারের ছোলা বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ২৪৩০ টাকা, রমজানের শুরুতে এই দাম ছিল ২৬৫০ টাকা। আর অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হয়েছে ২৪০০ টাকার নিচে। শবেবরাতের পর অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হয়েছিল ২৫৫০ টাকায়।

চাহিদা ক্রমাগত কমার কারণ হিসেবে চট্টগ্রাম ডাল মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম মহিউদ্দিন মনে করেন, মানুষের খাওয়ার রুচির পরিবর্তন হয়েছে; ভোক্তারা মনে হয় খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনছেন। তা না হলে রমজানের এক সপ্তাহ হয়নি; চাহিদা এতটা কমার কথা নয়। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীরা ১৫ দিনের জন্য এসব ছোলা কিনে নিয়ে গেছেন; তাই খাতুনগঞ্জে ছোলার এখন ক্রেতা নেই। ক্রেতা নেই তাই চাহিদাও নেই, এ জন্য দামও ক্রমাগতভাবে কমেছে। দাম আরো কমার শঙ্কায় খুচরা ব্যবসায়ীরা নতুন করে ছোলা কিনে রাখছেন না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানে চাহিদার সমপরিমাণ ছোলা বিক্রি হয়ে গেছে শবেবরাতের পর থেকেই; বাজারে প্রচুর ছোলা, বিক্রেতা প্রচুর কিন্তু সে পরিমাণ ক্রেতা নেই। এখন পাইকাররা চাইছেন রমজানের মধ্যেই বাকি ছোলা দ্রুত বিক্রি করে ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা