kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

দূর করা হবে বন্ধু দেশগুলোর ঋণ উদ্বেগ

যোগাযোগের মহাপ্রকল্প নিয়ে এগোবে চীন

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যোগাযোগের মহাপ্রকল্প নিয়ে এগোবে চীন

বাণিজ্যের প্রাচীন পথ সিল্ক রোড ফিরিয়ে আনতে চীন সরকার যে মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় তাতে যুক্ত হচ্ছে অনেক দেশ। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) নামক এ উদ্যোগকে চীন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্ম বললেও সমালোচকরা বলছেন, মূলত এটি হচ্ছে প্রতিবেশীদের ঋণ ফাঁদে ফেলার উদ্যোগ। চীন শতকোটি ডলার আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোকে ঋণে বেঁধে ফেলতে চায়।

মূলত এসব সমালোচনার জবাব মিলবে গতকাল বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে শুরু হওয়া ‘দ্বতীয় বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম’ সম্মেলনে। তিন দিনের এ সম্মেলনে বিশ্বের ৩৮ দেশের প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান, মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

চীনের ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হুওয়াং কুনমিং বলেন, ‘আমাদের বিআরআই প্রকল্প নিয়ে বেশ কিছু ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে এবং কিছু গুজব ছড়িয়েছে, আমরা এবারের সম্মেলনে বন্ধু দেশগুলোর মধ্যে সেই ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে চাই এবং ঋণ নিয়ে যে উদ্বেগ আছে তাও দূর করতে চাই।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো দীর্ঘদিন থেকে অভিযোগ করে আসছে, অবকাঠামোর নামে চীন যা করে আসছে তা আসলে আন্তঃসারশূন্য, বরং এটি একটি ঋণফাঁদ, যাতে পাকিস্তানসহ অনেক দেশকেই বেঁধে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে চীনের অর্থমন্ত্রী লি কুন বলেন, দেশগুলোর মধ্যে ঋণঝুঁকি মোকাবেলায় একটি কাঠামোগত পরিকল্পনা প্রকাশ করবে চীন।

২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ‘নতুন সিল্ক রোড’ হিসেবে পরিচিত ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড (ওবিওআর)’ নামের এই উদ্যোগ শুরু করেন। এর পর থেকে দেশটি এশিয়া ও আফ্রিকায় বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। প্রথম সম্মেলনে চীন বিভিন্ন দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ১২৪ বিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গীকার করে। চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকও প্রায় ৯০০টি প্রকল্পে ৮৯০ বিলিয়ন ডলারের জোগান দেবে বলে জানায়। প্রাচীন সিল্ক রোড ধরে তিন মহাদেশের বিভিন্ন দেশে সড়কপথ, রেলপথ, সমুদ্রবন্দর, পাইপলাইনের মতো অবকাঠামো তৈরি করে যোগাযোগের নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় চীন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে অন্য দেশগুলোর বাণিজ্য বেড়ে যাবে।

বিআরআই প্রকল্প নিয়ে অনেকের অভিযোগ, বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেই চীন এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মাধ্যমে অনেক দেশকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে ঋণের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। তবে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) কোনো ভূরাজনৈতিক হাতিয়ার নয় বরং এটি বৈশ্বিক সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্ম। এবারের ফোরামে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বের অন্তত ৩৭ দেশের নেতারা যোগ দিয়েছেন। দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত ফোরামের প্রথম সম্মেলনে উপস্থিত থাকলেও এবার আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তুরস্কসহ ইউরোপের অনেক দেশ।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিদল নিয়ে সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। গতকাল ‘ব্যাপক পরামর্শ, যৌথ উদ্যোগ এবং অংশীদারির মাধ্যমে সুফল ভোগের জন্য নীতি সহায়তা ও সম্মিলিত প্রয়াস জোরদারকরণ’ শীর্ষক থিমেটিক সেশনে বত্তৃদ্ধতাকালে শিল্পমন্ত্রী বলেন, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি জোরদারের সুযোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

বেইজিংয়ের চায়না ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সেশনে জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) মহাপরিচালক লি ইয়াংয়ের সঞ্চালনায় বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী মুক্ত অর্থনীতির উন্নয়ন এবং বহুপক্ষীয় বাণিজ্য স্বার্থ সুরক্ষায় বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ একটি সম্মিলিত প্রয়াস। এ উদ্যোগের সুফল ভোগে বাংলাদেশ এশিয়া অঞ্চল এবং এর বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্য কানেক্টিভিটি জোরদারে কাজ করছে। ফোরামে গতকাল ১২টি থিমেটিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্বের ১৫০টি দেশ ও সংস্থা থেকে পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

মন্তব্য