kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

১৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

এক বছরে হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি যুক্ত চট্টগ্রাম বন্দরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক বছরে হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি যুক্ত চট্টগ্রাম বন্দরে

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিগত ২০১৮ সালে এক হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কিনে চট্টগ্রাম বন্দরের বহরে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে কনটেইনার পরিবহনে গতিশীলতা বেড়েছে ৩০ শতাংশ। জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় কমেছে, কম সময়ে বেশি জাহাজ জেটিতে ভিড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে আরো চারটি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হবে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের শহীদ মুন্সি ফজলুর রহমান অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় এই কথা বলেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই দিনটিকে প্রতিবছরই ‘চট্টগ্রাম বন্দর দিবস’ হিসেবে পালন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ উপলক্ষে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে বন্দর চেয়ারম্যান বন্দরের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নির্মাণাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বন্দরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মিত হচ্ছে; যেখানে পাওয়া যাবে চারটি জেটি। এটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নির্মান শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বহুল প্রতীক্ষিত বে টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ৮৭০ একর জমি এরই মধ্যে অনুমোদন পেয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ বর্গমিটার ইয়ার্ড এবং ট্রাক টার্মিনাল নির্মিত হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই টার্মিনাল পরিচালনার বিদেশি অপারেটর নিয়োগপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যেই এই টার্মিনাল দৃশ্যমান হবে।

লালদিয়া চরে লালদিয়া মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখানে পাঁচটি জেটি থাকবে; এক হাজার মিটার এবং ৩০০ মিটার প্রস্থের ব্যাকআপ ইয়ার্ড থাকবে। বন্দর মূল জেটির চেয়েও বড় ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারবে। এই টার্মিনাল ২০২১ থেকে ২০২২ সালে চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।’

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট নেই উল্লেখ করে রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, ‘২০১৮ সালেও একটি জাহাজকে ১৪ দিন অপেক্ষা করেই জেটিতে ঢুকতে হতো এখন সেই অপেক্ষমাণ সময় মাত্র এক থেকে চার দিনে নেমেছে। যন্ত্রপাতি সংযোজন, জাহাজের পণ্য পরিবহনে নজরদারি এবং দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এই সফলতা অর্জন সক্ষম হয়েছি।’

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, কর্ণফুলী নদীর সদরঘাটে পাঁচটি লাইটার জেটি নির্মাণ শেষে পরিচালনার জন্য বেসরকারি শিল্প গ্রুপকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে কম সময়ে পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মোট ১৫টি লাইটার জেটি নির্মিত হবে। লালদিয়া ইনকনট্রেড ডিপোর পাশে আরো পাঁচটি লাইটার জেটি নির্মাণকাজ চলছে। চান্দগাঁওয়ের হামিদচরে পাঁচটি জেটি এবং সীতাকুণ্ডে আরো পাঁচটি জেটি নির্মিত হচ্ছে।

মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি বন্দর নির্মাণের বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্টে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, সেখানে দেশি-বিদেশি শিল্প-কারখানা চালুর সঙ্গে মিল রেখে সেই বন্দর বাস্তবায়িত করা হবে।

কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিংকাজ কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না স্বীকার করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘নদীতে পলির সঙ্গে ইট, কাঠ ও কাঠের গুঁড়া, পাথর ও পলিথিন মিশে থাকার কারণে ড্রেজার মেশিন সঠিক গতিতে কাজ করতে পারছে না। এর পরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা ছয় গুণ বাড়ার পর রাজস্ব আয় বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন বাড়তি এলাকার নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কাজ করছি।’

 

মন্তব্য