kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

‘কর্মপরিবেশের উন্নতি হলেও শ্রমিক অধিকার অবহেলিত’

এম সায়েম টিপু   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘কর্মপরিবেশের উন্নতি হলেও শ্রমিক অধিকার অবহেলিত’

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার ছয় বছরে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশে উন্নতি হলেও শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়গুলো এখনো অবেহেলিত। শ্রমিক স্বার্থ সুরক্ষায় স্বাধীন ও কাঠামোগত প্রতিষ্ঠান নেই। মজুরিবৈষম্যের পাশাপাশি চিকিৎসা ও আবাসনের অধিকার তারা এখনো পায়নি। ফলে কারখানার পর্যায়ে অগ্রগতি হলেও চ্যালেঞ্জ এখনো অনেক।

এসব চ্যালেঞ্জ সমাধান করা না গেলে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর, বিশেষ করে কর্মস্থলে শ্রমিকদের অগ্নিনিরাপত্তা, ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, মাতৃত্বকালীন ছুটি, মধ্যপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নানা রকমের হয়রানি, কারখানা অটোমেশনের ফলে কাজ হারানো, মজুরিবৈষম্য, প্রকৃত মজুরি না পাওয়া এবং নিরাপত্তাবিষয়ক বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

ড. সেলিম রায়হান বলেন, পোশাক খাতের কারখানাগুলো আধুনিকায়ন করা হলেও শ্রমিকদের টিকে থাকতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়নি। কিছু কারখানায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও তা অনেকটা দায়সারা পর্যায়ের।

তিনি বলেন, শ্রমিকরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ প্রয়োজনীয় অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এ ছাড়া বেশ কিছু কারখানায় যন্ত্রের দাপটে মহিলা শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কমেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একসময় কারখানাগুলোতে মোট শ্রমিকের ৮০ শতাংশই ছিল নারী শ্রমিক। বর্তমানে তা প্রায় ৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

তিনি জানান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার আগে থেকেই এটা কমার দিকে থাকলেও পরে এর মাত্রা বেড়েছে অনেক বেশি। ওই ঘটনার পর অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শ্রমিকরা। কোন পর্যায়ের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি কাজ হারিয়েছে—এ বিষয়ে ড. সেলিম রায়হান বলেন, বিশেষ করে এন্ট্রি লেবেলে শ্রমিকরা বেশি কাজ হারিয়েছে। কেননা নারী শ্রমিকদের একটু কম দক্ষতাসম্পন্ন কাজগুলোতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, কারখানাগুলোতে দক্ষতাভিত্তিক কাজগুলোতে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ এমনিতেই কম। এতে সুপারভাইজার পর্যায়ে বা এর চেয়ে বড় পদগুলোতে তাদের অংশগ্রহণ একেবারেই কম। এ ছাড়া প্রযুক্তি এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যেসব কারখানায় কোনো কাজ ৪০-৫০ জন শ্রমিক করত, সেটি এখন একটি মেশিনেই হয়ে যাচ্ছে।

ড. রায়হান আরো বলেন, কারখানাগুলোতে কর্মপরিবেশের উন্নয়ন হলেও শ্রমিকদের সচেতনতার জায়গাটিতে উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে কারখানাগুলোর অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল, সেটা তেমন একটা হয়নি বললেই চলে। কিছু কিছু কারখানায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও বেশির ভাগই এর আওতার বাইরে।

মন্তব্য