kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

আবারও পতনের বৃত্তে পুঁজিবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবারও পতনের বৃত্তে পুঁজিবাজার

পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের পর শেয়ার কেনার চাপে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক বাড়লেও তা স্থায়ী হয়নি। পরদিন গতকাল মঙ্গলবার আবারও বড় দরপতন হয়েছে। শেয়ার বিক্রির চাপে বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ার দাম কমার পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে। এই দরপতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বিনিয়োগকারীরা।

পুঁজিবাজারে অব্যাহত পতন ঠেকাতে নানামুখী উদ্যোগও কাজে আসছে না। বড় বড় বিনিয়োগকারীর নিষ্ক্রিয়তা আর অনাস্থায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করায় বাজারে পতন ঘটছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মন্দ আইপিও ছাড়াও আরো কিছু কারণে অনাস্থা থেকে শেয়ার বিক্রি বাড়ছে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও নিষ্ক্রিয় রয়েছে। তারা হাত গুটিয়ে থাকায় ক্রমাগত নিচে নামছে।

দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিম্নমুখী অবস্থায় চলা পুঁজিবাজারের পতন চরম আকার ধারণ করেছে। সূচক কমার সঙ্গে লেনদেনও নেমেছে তলানিতে। করণীয় নির্ধারণ নিয়ে পুঁজিবাজারের স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠক, ব্রোকারদের বৈঠক ও সর্বশেষ অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরও কাজ হচ্ছে না। আস্থার সংকটে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছে।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের অধিবেশন শেষে সোমবার পুঁজিবাজার নিয়ে বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের জরুরি বৈঠকের পরদিনই এই পতন ঘটল। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার ভালো অবস্থানেই আছে, খারাপ কিছুই হয়নি। সূচকের ওঠানামা স্বাভাবিক চরিত্র, বিশ্বের উন্নত দেশেও এমনটা হয়ে থাকে।’

মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৯৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা আর সূচক কমেছে ৬২ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৫১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা আর সূচক বেড়েছিল ২ পয়েন্ট। সেই হিসাবে সূচক ও লেনদেন উভয়ই হ্রাস পেয়েছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর থেকে শেয়ার বিক্রির চাপে সূচক কমতে থাকে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ বাড়লে সূচকের পতনও ত্বরান্বিত হয়। এতে দিন শেষে সূচকে বড় পতনের মধ্যে লেনদেন শেষ হয়েছে। দিন শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ২৬০ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ২০ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮৭২ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে এক হাজর ২১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৪টির, কমেছে ২৬৭টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১ কম্পানির শেয়ার দাম।

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে ফরচুন সুজ। কম্পানিটির লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুন্নু সিরামিকসের লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা আর তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলসের লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ : পুঁজিবাজারে বড় দরপতনের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ করেছে বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য