kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

ওষুধ রপ্তানির ১৭ শতাংশই প্রতিবেশী মিয়ানমারে

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ওষুধ রপ্তানির ১৭ শতাংশই প্রতিবেশী মিয়ানমারে

দেশের চাহিদা মিটিয়ে চলতি অর্থবছরের বাংলাদেশ থেকে মোট ১১২টি দেশে ৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার বা ৮৪৭ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক কোটি ৬৩ লাখ ডলারের ওষুধ রপ্তানি হয়েছে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে। যদিও তা দেশটির ওষুধের বাজারের মাত্র ২ শতাংশ। তবে রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যেও ওষুধ রপ্তানির ওপর ভর করে দুই বছর পর রপ্তানি আবারও চাঙ্গা হয়েছে দেশটিতে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মিয়ানমারে ওষুধ রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইপিবি) সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে ওষুধশিল্পের জন্য রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ কোটি ২১ লাখ ডলার। এর মধ্যে মার্চ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল আট কোটি ২৯ লাখ ডলার। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ওষুধ রপ্তানি হয়েছে ৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের। প্রবৃদ্ধি ৩০ শতাংশের বেশি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ বিশ্বের ১১২টি দেশে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রপ্তানি হয়েছে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে। অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে প্রতিবেশী দেশটিতে ওষুধ রপ্তানি হয়েছে এক কোটি ৬৩ লাখ ডলার বা ১৪০ কোটি টাকার, যা মোট ওষুধ রপ্তানির প্রায় ১৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মিয়ানমারে ওষুধ রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার ৩০.১৫ শতাংশ। এর পরই আছে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কায় ওষুধ রপ্তানি হয়েছে এক কোটি ৩২ লাখ ডলারের।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের মংডু সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশ দুটিতে আস্থার সংকট দেখা দেয়। এরই প্রভাব পড়ে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে। রপ্তানিতে ৩৫ শতাংশ ধস নামে। তবে সে সংকটময় অবস্থা কিছুটা কাটতে শুরু করেছে চলতি অর্থবছরে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মিয়ানমারে মোট রপ্তানি হয়েছে দুই কোটি ১৩ লাখ ডলারের। এর মধ্যে ওষুধ রপ্তানি ছিল এক কোটি ৫৪ লাখ ডলার। অথচ এই অর্থবছরের তিন মাস বাকি থাকতেই গত অর্থবছরের রপ্তানি ছাড়িয়ে গেছে মিয়ানমারে। এ সময় রপ্তানি হয়েছে দুই কোটি ৪৬ লাখ ডলার। যার ৬৬ শতাংশই ওষুধ।

তবে চলতি বছরের ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি মিয়ানমারের নেপিডোতে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্ট মিয়ানমার সামিট’ থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, মিয়ানমারের ওষুধের বাজার বর্তমানে প্রায় ৬০ কোটি ডলারের, যা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে। সে হিসাবে মিয়ানমারের ওষুধের বাজারে বাংলাদেশের হিস্সা মাত্র ২ শতাংশের কিছু বেশি।

উদ্যোগ নিলেই বিপুল সম্ভাবনার মিয়ানমারে বাংলাদেশি ওষুধ রপ্তানি কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বাংলাদেশ-মিয়ানমার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এস এম নূরুল হক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রপ্তানির বেশির ভাগই বিমানযোগে ইয়াঙ্গুনে যায়। রপ্তানির পথ সুগম হলে মিয়ানমারে ওষুধ রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি উদ্যোগে মিয়ানমারের চিকিৎসকদের একটি বড় প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশে এনে অন্তত ২০টি কমপ্লায়েন্স ওষুধ কারখানা পরিদর্শন করালে এ দেশের ওষুধের মান সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবে।’

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা গেলে মিয়ানমারে ওষুধ রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন চট্টগ্রামভিত্তিক ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিওন গ্রুপের চেয়ারম্যান রাইসুল উদ্দিন সৈকত। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার এখনো ওষুধশিল্পে আমদানিনির্ভর। মূলত ভারত, চীন থেকে তারা ওষুধ আমদানি করে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমাদের সম্ভাবনা ব্যাপক।’

মন্তব্য