kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

১৮% কম্পানির শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে

৬৩ কম্পানির শেয়ারের দাম ১০ টাকার নিচে ♦ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমেছে বেশি

রফিকুল ইসলাম   

১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৮% কম্পানির শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে

নিরাপদ বিনিয়োগের সুনাম থাকলেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমছেই। অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় ইস্যু করা এসব ইউনিটের শেয়ারের দাম চার-পাঁচ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। বাজেট সামনে রেখে এবং ব্যাংক খাতে কয়েকটি সিদ্ধান্তে সৃষ্ট মন্দাবস্থায় কম্পানির শেয়ারের দাম কমছে আর কমতে কমতে ৬৩ কম্পানির শেয়ারের দাম ফেস ভ্যালুর নিচে নেমেছে।

২০১০ সালে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শেয়ারের দাম একদম তলানিতে। প্রতিদিনই শেয়ার বিক্রির চাপ থাকলেও ক্রেতা কম। যদিও সম্প্রতি কম্পানিটির শেয়ারের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, শেয়ারের দাম গতকাল রবিবার পর্যন্ত ছিল ২ দশমিক ৮ টাকা। সূত্র বলছে, মন্দাবস্থায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর মধ্যে আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমান্বয়ে সূচকের পতন ও লেনদেন কমাও ভাবিয়ে তুলেছে তাদের। অনেকে শেয়ার বিক্রি করছে আবার কেউ কেউ শেয়ার ধরে রেখে বাজার পর্যবেক্ষণ করছে। ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট পুঁজিবাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারে আস্থাহীনতায় কেনার চাপ কমেছে, বিপরীতে নতুন তালিকাভুক্ত কম্পানির শেয়ার লক-ফ্রি হওয়ায় শেয়ারের জোগান বেড়েছে কিন্তু চাহিদা বাড়েনি। প্রাইভেট প্লেসমেন্টেও অনেকের মূলধন আটকে যাওয়ায় মূল মার্কেটে শেয়ার কেনা কমেছে।

সূত্র জানায়, বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার মিথস্ক্রিয়ায় দাম নির্ধারিত হয়, এতে জোগান কম থাকলেও চাহিদা বাড়লে দাম বাড়ে আর চাহিদা কমলে দাম কমে। পুঁজিবাজারে শেয়ারের জোগান থাকলেও চাহিদা পর্যাপ্ত না থাকায় বাজার নিম্নমুখী হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে প্রায় সব কম্পানির শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যেও কিছু কম্পানির শেয়ারের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তালিকাভুক্ত কম্পানির মধ্যে ৬৩টির শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে নেমেছে অর্থাৎ প্রায় ১৭.৯৪ শতাংশ কম্পানির শেয়ারের দাম এখন ১০ টাকার কম। মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ পুঁজিবাজারে ৩৫১ কম্পানির শেয়ার লেনদেন হচ্ছে।

সূত্র জানায়, শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজারে আসতে ইচ্ছুক কম্পানিকে বুক বিল্ডিং ও ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আবেদন করতে হয়। কোনো কম্পানি অভিহিত মূল্য ১০ টাকার চেয়ে বেশি বা প্রিমিয়াম চাইলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আর অভিহিত মূল্য ১০ টাকাতেই শেয়ার ইস্যু করলে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আসে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অভিহিত মূল্যের কমে শেয়ারে সবচেয়ে এগিয়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও বস্ত্র খাত। এই দুই খাতের ৪৬টি কম্পানির শেয়ার এখন ১০ টাকা নিচে লেনদেন হচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাংক, প্রকৌশল, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ওষুধ ও রসায়ন, ট্রাভেল ও বিনোদন এবং বিবিধ খাতেরও কয়েকটি কম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্যের নিচে।

অভিহিত মূল্যের নিচে রয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৩৩ কম্পানি, বস্ত্র খাতের ১৩টি, তিনটি ব্যাংক, প্রকৌশল খাতের দুই কম্পানি, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ছয়টি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের একটি, ওষুধ ও রসায়ন খাতের দুটি ও বিবিধ খাতের দুটি কম্পানির শেয়ার এখন ১০ টাকার কম।

ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, বাজারে ফান্ড সরবরাহ কমেছে। ব্যাংকে তারল্য সংকটে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে পর্যাপ্ত ফান্ড নেই। আস্থাহীনতায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করলেও সাপোর্ট দেওয়ার মতো কোনো ফান্ড আসছে না, যাতে বাজার ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে। প্রতিদিনই পুঁজিবাজার থেকে অর্থ বেরিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে ক্রমাগত পতন হলেও কোনো সাপোর্ট নেই। ফান্ডের অপর্যাপ্ততায় কমেই চলছে বাজার। বড় বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার না কিনে হাত গুটিয়ে রয়েছে। অনেকটা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে বাজার।’ বাজারের পতন ঠেকাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিস লিমিটেডের এমডি মোস্তাক আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারের এমন অবস্থায় কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। বাজারের অস্বাভাবিক আচরণেও বড় কোনো সাপোর্ট আসছে না। প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার কিনছে না।’

মন্তব্য