kalerkantho

এবার নাম বদলাতে চায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক

► একই নামে আরো দুই ব্যাংক থাকায় পরিবর্তনের আবেদন
► ‘এনআরবি’ শব্দটি ব্যাংকটির নামের সঙ্গে থাকা যৌক্তিক মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

জিয়াদুল ইসলাম   

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার নাম বদলাতে চায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক

ব্যবসা-বাণিজ্যে সুবিধা করতে না পেরে ‘এনআরবি’ শব্দই ছেঁটে ফেলতে চায় প্রবাসীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। বাজারে একই নামে আরো দুটি ব্যাংক থাকায় ‘এনআরবি’ শব্দ বাদ দিয়ে ‘গ্লোবাল ব্যাংক অব বাংলাদেশ’ নামে কার্যক্রম চালাতে চাচ্ছে তারা। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নাম পরিবর্তনের আবেদনও করেছে ব্যাংকটি। তবে নাম পরিবর্তনের আবেদনে ‘এনআরবি’ শব্দটি বাদ দেওয়াকে যৌক্তিক বলে মনে করছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ এর মাধ্যমে অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এনআরবি ব্যাংকগুলোকে পৃথক করা হয়ে থাকে। এর আগে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের জন্য আলোচিত ফারমার্স ব্যাংক এ বছরই তাদের নাম পরিবর্তন করে পদ্মা ব্যাংক নামে কার্যক্রম শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্যাংকটি তাদের নাম পরিবর্তন করার যে আবেদন করেছে সেটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। যেহেতু ব্যাংকটি ‘এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক’ নামে ব্যবসার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিল সেহেতু এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি সৈয়দ হাবিব হাসনাত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে তিনটি এনআরবি ব্যাংক রয়েছে। মানুষের মধ্যে এটা নিয়ে প্রায়ই কনফিউশন হয়। অনেকেই এনআরবি ব্যাংক বলতে একটি ব্যাংক বুঝে থাকে। এ ধরনের কনফিউশনের কারণে আমরা গ্রাহক হারাচ্ছি। তাই ব্যাংকের নাম থেকে এনআরবি শব্দ পরিবর্তনের কথা ভাবা হয় এবং সে অনুযায়ী নাম পরিবর্তন চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করা হয়েছে।’ যেসব শর্ত ও উদ্দেশ্যে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে সেটি পরিপালনে ব্যর্থ হয়েই নাম পরিবর্তন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে এমনটি নয়। আমাদের কিন্তু এতটা শাখা নেই। আমাদের বিদেশে যারা কাজ করছে তারা বিভিন্ন দেশে ও জায়গায় করছে। এ ছাড়া অন্যান্য আর্থিক সূচকেও ভালো করছি।’

জানা যায়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গঠনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান এবং তাদের দেশে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (এনআরবি) ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং এসংক্রান্ত পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এর আওতায় অনুমোদিত অন্য দুটির মতো এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের নামের সঙ্গেও এনআরবি শব্দটি যুক্ত করে দেওয়া হয়, যার দ্বারা ব্যাংকটিকে অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে পৃথক করা হয়েছে। নীতিমালায় এনআরবি শব্দ যুক্ত করে বিশেষ কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যাংকের ৫০ শতাংশ শেয়ার নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিদের কাছ থেকে এবং বাকি ৫০ শতাংশ শেয়ার পাবলিক অফারিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত হবে। ব্যাংকের সব উদ্যোক্তা নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি হতে হবে। কোনো উদ্যোক্তার ধারণকৃত শেয়ার শুধু নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিদের নিকট হস্তান্তর করতে পারবে এবং এনআরবি উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রথম পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৩২৯তম সভায় এনআরবি ব্যাংক স্থাপনে আরো কিছু শর্তারোপ করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) ইস্যুর তারিখে ৪০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে আনতে হবে।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের নাম পরিবর্তন নিয়ে সম্প্রতি গভর্নরের কাছে উপস্থাপিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের নাম থেকে ‘এনআরবি’ বাদ দেওয়া হলে ব্যাংকটি যে পৃথক নীতিমালার আওতায় বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত তা দৃষ্টিগোচর হবে না। ‘এনআরবি’ শব্দটি বাদ দেওয়া হলে মার্কেটেও ভ্রান্ত বার্তা বহন করতে পারে। এ ছাড়া ‘এনআরবি’ ব্যাংকগুলোর দেশে ও বিদেশে তাদের প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম দিয়ে নিজেদের পৃথকভাবে উপস্থাপন ও ব্র্যান্ডিং করার বেশি সুযোগ রয়েছে। এনআরবি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত ‘এনআরবি’ শব্দটি ব্যাংকটির নামের সঙ্গে থাকাটা যৌক্তিক বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মন্তব্য