kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

রিজার্ভের অর্থ চুরির মামলা

আদালতের বাইরে সমঝোতা চায় আরসিবিসি

সজীব হোম রায়   

১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আদালতের বাইরে সমঝোতা চায় আরসিবিসি

আদালতের বাইরে রিজার্ভের অর্থ চুরির মামলা মীমাংসা করতে চায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি)। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সমঝোতার প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিলিপাইনের ব্যাংকটি। তবে এ ক্ষেত্রে তারা একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। সে শর্ত হলো, অর্থ উদ্ধারে যে মামলা করা হয়েছে তা যেন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সম্প্রতি শর্তের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছে ফিলিপাইনের ব্যাংকটি। প্রত্যাহার করে নয় বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মামলা চলমান রেখে আলোচনা করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ নিয়ে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) উপদেষ্টা দেবপ্রসাদ দেবনাথ বলেন, ‘আমরা আলোচনা করব। তবে মামলার ভবিষ্যৎ দেখে সিদ্ধান্ত নেব। আর মামলা চলমান রেখেই সব করতে হবে। টাকা যে উপায়ে পাওয়া যায় সে উপায়ই আমরা অবলম্বন করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘সমঝোতায় পৌঁছাতে হলেও কয়েকটি ধাপ পার হতে হবে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের (ফেড) সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি আছে। তাই এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তা ছাড়া এফবিআই একটি ক্রিমিনাল কেস করেছে। সেটাও আমাদের দেখতে হবে। তাই যা-ই করা হোক না কেন মামলা চলমান রেখে করা হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রিজার্ভের খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের করা মামলার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে আরসিবিসিকে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তখন ভেবে দেখার কথা জানিয়েছিল আরসিবিসি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ব্যাংকটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হয়েছে, আদালতের বাইরে সমঝোতা করতে রাজি আছে আরসিবিসি। তবে সে জন্য আরসিবিসিকে প্রধান আসামি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে যে মামলা করেছে তা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। আর সমঝোতার অংশ হিসেবে আরসিবিসি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে তাদের করা মানহানির মামলাও প্রত্যাহার করে নেবে।

আরসিবিসির এ সমঝোতা প্রস্তাবে আলোচনায় রাজি থাকলেও মামলা প্রত্যাহার করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। বিষয়টি স্পষ্টভাবে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, মামলা চলমান রেখেই আলোচনা হবে। পরিস্থিতি বুঝে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ইকুয়েডরের হ্যাকিংয়ের মামলার রেফারেন্স উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মতোই ২০১৫ সালে ইকুয়েডরে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ চুরির ঘটনা ঘটেছিল। ওয়েলস ফার্গু নামের আমেরিকান একটি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকাটা হংকংয়ে চলে গিয়েছিল। অর্থ উদ্ধারে ইকুয়েডর মামলা করার পর আদালতের মাধ্যমে তা বাইরে মিটমাট হয়েছিল। রিজাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে একই রকম পদক্ষেপ নিতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব দেয়নি আরসিবিসি। আরসিবিসির জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০১ মিলিয়ন বা ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। ফিলিপাইনের ক্যাসিনোর মাধ্যমে চুরি যাওয়া অর্থের আট কোটি ১০ লাখ ডলার রিজাল ব্যাংকে যায়। অর্থ উদ্ধারে তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে মামলা দায়ের করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ৬ মার্চ মানহানির অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা করে আরসিবিসি।

মন্তব্য