kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও পাবেন স্বল্প সুদের গৃহঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও পাবেন স্বল্প সুদের গৃহঋণ

দেশের ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভর্তুকিতে গৃহনির্মাণ ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিচারকদের পর এবার নতুন করে এ সুবিধা পাবেন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মকর্তারাও এ সুবিধা ভোগ করবেন। অর্থাৎ মাত্র ৫ শতাংশ সুদে তাঁরাও গৃহনির্মাণের জন্য ঋণ নিতে পারবেন। এ জন্য নীতিমালা তৈরি করবে অর্থ বিভাগ।

গতকাল মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সরকারি ব্যাংক, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিজীবীদের স্বল্প সুদে গৃহনির্মাণ ঋণের সুবিধা দেয় সরকার। চলতি মাসে এ সুবিধার আওতায় আসেন বিচারকরা। এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের স্বল্প সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের ঢালাওভাবে এ ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে না। পদস্থ কর্মকর্তারা এর আওতায় আসবেন। বিষয়গুলো নিয়ে মঙ্গলবার অর্থসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গৃহনির্মাণ ঋণের সুবিধা পেলেও স্বল্প সুদে বা ভর্তুকিতে ঋণ সুবিধা পান না। অথচ শিক্ষকদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। এটি বাস্তবায়ন করলে বাজেটেও খুব একটা চাপ পড়বে না। তবে অর্থ বিভাগের হিসাব বলছে, সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহনির্মাণ ঋণের সুবিধা দেওয়ার কারণে এ খাতে এক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন পড়বে। ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর পাশাপাশি প্রায় দেড় হাজার বিচারক এর আওতায় আছেন। এবার নতুন করে যোগ হচ্ছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ হাজার শিক্ষক। ফলে ভর্তুকির অঙ্কটা বেড়ে দেড় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে।

বৈঠকে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের মতোই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ঋণের ক্ষেত্রেও সিলিং থাকবে। অর্থাৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ঋণের পরিমাণ অঞ্চল বা এলকা ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। এতে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৭৫ লাখ টাকা ও সর্বনিম্ন ঋণ ২০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। ঢাকা মহানগরী, সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে। জেলা সদরে এর পরিমাণ হবে ৬০ লাখ টাকা। আর দেশের অন্যান্য এলাকায় ৫০ লাখ টাকা। ঋণের সুদ গড়ে ১০ শতাংশ ধরা হবে। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে সুদ নেওয়া হবে ৫ শতাংশ। সুদের বাকি অংশ সরকার ভর্তুকি দেবে। ঋণ নেওয়ার বিষয়গুলো বিএইচবিএফসির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আর ঋণ পাওয়া যাবে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে পৃথক একটি নীতিমালা করতে হবে। আর এ কাজটি করবে অর্থ বিভাগ।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গত ১০ বছরে সময়ে সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নানা সুবিধা দিয়েছে সরকার। ২০০৯ সালের পর ২০১৫ সালে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন অনুসারে প্রায় ৯৫ শতাংশ বেতন বাড়িয়েছে সরকার। এর পর গত বছরের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিজীবীদের স্বল্প সুদে গৃহনির্মাণ ঋণের সুবিধা দেওয়া হয়। এবার বিচারকদের পাশাপাশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও গৃহনির্মাণ ঋণের সুবিধার আওতায় এলেন।

মন্তব্য