kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

বিএমবিএর সেমিনারে স্বপন কুমার বালা

পুঁজিবাজারে প্রাইভেট প্লেসমেন্ট অরাজকতায় ২০১০ সালে ধস

► আইপিও আনার আগে উদ্যোক্তাদের সম্পর্কে জানতে হবে
► এজিএমে কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগ করলে কমিশন ব্যবস্থা নেবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রাইভেট প্লেসমেন্টের অরাজকতায় ২০১০ সালে পুঁজিবাজার ধস হয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা। তিনি বলেন, ‘এই অরাজকতা নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। কিন্তু ওই সময় প্লেসমেন্টে শেয়ার বিক্রি নিয়ে নানা অরাজকতা হয়েছে। টাকা দিয়ে প্লেসমেন্টের শেয়ার পাওয়া যায়নি, যে পরিমাণ দেওয়ার কথা ছিল, তাও দেওয়া হয়নি।’

‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ পালন উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। স্বপন কুমার বালা কমিশনারের দায়িত্ব পালনের আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জেও দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজধানীর ৭১ হোটেলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) সেমিনারের আয়োজন করে। সংগঠনটির সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ।

স্বপন কুমার বালা বলেন, ‘দেশে ৫৫-৬০টি মার্চেন্ট ব্যাংক বা ইস্যু ম্যানেজার থাকলেও হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ইস্যু আনছে। আইপিও আনা বাধ্যতামূলক তবুও আনতে পারছে না। না আনতে পারার পেছনে মার্চেন্ট ব্যাংকের অভিজ্ঞতার অভাবকে দায়ী করেন তিনি। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যের ওপর একটা কম্পানির ভালো-মন্দ নির্ভর করে। বিনিয়োগের আগে তাদের সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। কারণ উদ্যোক্তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে একটি গ্রুপের সবচেয়ে ভালো কম্পানিটিও পুঁজিবাজারে এসে খারাপ হয়ে যায়। আর দুর্বল কম্পানিগুলোও ভালো হয়ে যায়।

প্রাইমারি মার্কেট প্রসঙ্গে স্বপন কুমার বালা বলেন, ‘পুঁজিবাজারে প্রাইমারি মার্কেট এখনো লাভজনক। এখানে অবিশ্বাস্য ক্যাপিটাল গেইন করা যায়, যা একটি কম্পানির লেনদেনের প্রথম দিনেই অর্জন করা যায়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত তিন মাস সময় লাগে। এটাকে কমিয়ে আনার জন্য কমিশন কাজ করছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএসইসির কমিশনার বলেন, বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) কথা বলা শেয়ারহোল্ডারের মৌলিক অধিকার। যদি এটা সম্ভব না হয়, তাহলে শেয়ারহোল্ডারদের আদায় করে নিতে হবে। তাও না পারলে কমিশনে অভিযোগ করতে হবে। এর আলোকে কমিশন ব্যবস্থা নেবে। বিএমবিএ সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশে প্রায় ৬০টি মার্চেন্ট ব্যাংক আছে। আর আরজেএসসিতে প্রায় আড়াই লাখ কম্পানির রেজিস্ট্রেশন নেওয়া আছে। কিন্তু তার পরেও বছরে মাত্র ১০-১২টি কম্পানি পুঁজিবাজারে আসে। এ ক্ষেত্রে একটি কম্পানির শেয়ারবাজারে আসতে তিন-চার বছর সময় লাগে।’

মন্তব্য