kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

আগস্টে চার হাজার ২১ কোটি টাকা ঋণ সঞ্চয়পত্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আগস্টে চার হাজার ২১ কোটি টাকা ঋণ সঞ্চয়পত্রে

অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে সঞ্চয়পত্রসহ সব ধরনের জাতীয় সঞ্চয় স্কিম থেকে সরকারের নিট ঋণ এসেছে চার হাজার ২১ কোটি টাকা। এর আগের মাস জুলাইয়ে এ খাতের নিট ঋণ ছিল পাঁচ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। সে হিসেবে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছে ৯ হাজার ৫৭ কোটি টাকা।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য মতে, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ১৪ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ব্যাংক, সঞ্চয় ব্যুরো ও ডাকঘরগুলোর মাধ্যমে। এর মধ্য থেকে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের মূল ও মুনাফা বাবদ পাঁচ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা পরিশোধ শেষে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। আলোচ্য দুই মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ সঞ্চয়পত্রের মূল পরিশোধ করা হয়েছে দুই হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে তিন হাজার ৬০৬ কোটি টাকা।

অন্যান্য সময়ে পরিবার সঞ্চয়পত্র থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ এলেও চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণ এসেছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র থেকে। আলোচ্য দুই মাসে এই স্কিম থেকে নিট ঋণ এসেছে দুই হাজার ৮১৬ কোটি টাকা।

জানা গেছে, জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসসহ অন্যান্য আঞ্চলিক অফিস এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ডাকঘরগুলোতে পরিবার সঞ্চয়পত্র না থাকায় অনেক গ্রাহকই পরিবার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারেনি। এদের মধ্য থেকে অনেকেই তুলনামূলক কম সুদে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেন।

আলোচ্য দুই মাসে পরিবার সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছে দুই হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। অথচ গত বছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসে পরিবার সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছিল তিন হাজার ৩৬ কোটি টাকা। যেখানে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ এসেছিল দুই হাজার ২২৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়াও পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছে এক হাজার ২৬০ কোটি টাকা। পেনশনার সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছে ৫৭৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া ডাকঘর সঞ্চয়ী ব্যাংকের মেয়াদি হিসাব থেকে নিট ঋণ এসেছে এক হাজার ৩১৮ কোটি টাকা।

বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ হয়েছিল ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, যা ঘাটতি বাজেট অর্থায়নে সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা (সংশোধিত) থেকে দুই হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি।

ওই অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে জাতীয় সঞ্চয় স্কিমসহ সব ধরনের সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৪ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ২৬ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমানতের সুদহার কম থাকায় সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছেন সঞ্চয়ীরা। তিন-চার বছর আগে ব্যাংকগুলোতে যখন আমানতের সুদহার তুলনামূলক ভালো ছিল তখন গোটা অর্থবছরেও সঞ্চয়পত্রের নিট ঋণ এক হাজার কোটি টাকাও ছাড়াত না।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরের সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছিল মাত্র ৭৭৩ কোটি টাকা। তবে ওই অর্থবছরের পর থেকেই আমানতের সুদহার কমতে থাকে এবং সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকে।

এখন পর্যন্ত এক অর্থবছরের সঞ্চয়পত্রে রেকর্ড নিট ঋণ এসেছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ঋণ এসেছিল ৫২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা।

২০১৫ সালের মে মাসে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়। এর পরও এর প্রতিটি স্কিমের মুনাফার হার ১১ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এ বছর জুন-জুলাই মাসে এই সুদহার কমিয়ে আনবেন বলে গত ৮ জুন বাজেট প্রস্তাব পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু শেষমেশ সেই কথার বাস্তবায়ন হয়নি।

বর্তমানে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ১১.৭৬ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১১.৫২ শতাংশ, পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে ১১.২৮ শতাংশ এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে ১১.০৪ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে গত ২০ জুন ব্যাংক পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) প্রতিনিধিরা এক বৈঠকে আমানতের সুদের হার কমিয়ে সর্বনিম্ন ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেন, যা গতকাল ১ জুলাই থেকেই কার্যকর করেছে অধিকাংশ ব্যাংক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা