kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত স্বাক্ষর করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসে আলাপ-আলোচনা শেষ করে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষর করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বৈঠক করেন ঢাকায় সফররত শ্রীলঙ্কার ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড মিনিস্টার মালিক সামারাবিক্রমার সঙ্গে। পরে তিনি ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো সম্ভব উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ পণ্য, সেবা এবং বিনিয়োগ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত এফটিএ স্বাক্ষর করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ এখন এটি আরো বিচার-বিশ্লেষণ করছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় তিন কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে চার কোটি ৭৮ ডলার মূল্যের পণ্য। এফটিএ স্বাক্ষর হলে উভয় দেশের বাণিজ্য বাড়বে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় নির্মাণসামগ্রী, ওষুধ, কাগজ রপ্তানি করতে চায়। এগুলোর প্রচুর চাহিদা রয়েছে শ্রীলঙ্কায়। বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা শ্রীলঙ্কায় সিমেন্ট ও কাগজ উৎপাদনের কারখানা করতে আগ্রহী। তা ছাড়া এ দেশে জুয়েলারি শিল্প বিকাশের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে পর্যটক বিনিময় করা সম্ভব।

শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কা বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো পরীক্ষা করে দেখবে। শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করে মূল্য সংযোজনের পর তা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানি উদ্যোগ নিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উৎপাদনকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিবহন চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান ঢাকা-কলম্বো-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এপ্রিল মাস থেকে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট সরাসরি পরিচালনা করা হবে। তা ছাড়া রিজেন্ট এয়ারওয়েজকে শ্রীলঙ্কায় ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ব্যবসায়ীদের উৎসাহী করা হবে। বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, নির্মাণসামগ্রী, তৈরি পোশাক আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বাণিজ্য বাড়বে। উভয় দেশের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষর হলে বাণিজ্য আরো সহজ হবে। শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের বিষয় যাচাই করে দেখবে। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বসু, শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মো. সফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ক্রিসান্তে ডি সিলভা, শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিদলে শ্রীলঙ্কার বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্টের পরিচালক মানগলা ইয়াপাসহ ছয়জন নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য