kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

সামাজিক দায়বদ্ধতা

দরিদ্র জন্মান্ধ শিশুকে চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছে ব্যাংক এশিয়া

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দরিদ্র জন্মান্ধ শিশুকে চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছে ব্যাংক এশিয়া

সমাজের প্রতিটি শিশুর নিজের দৃষ্টিশক্তিতে পথচলার অধিকার রয়েছে—বিষয়টিকে সামনে রেখে ব্যাংক এশিয়া সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ২০০৫ সাল থেকে দেশের সামর্থ্যহীন পরিবারের জন্মান্ধ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের সামর্থ্যহীন পরিবারের জন্মান্ধ শিশুদের (০-৮ বছর) সম্পূর্ণ বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। জন্মান্ধের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে অপারেশন, ওষুধপত্র এবং আনুষঙ্গিক খরচ ব্যাংক এশিয়া বহন করে থাকে। এ কাজে ব্যাংক এশিয়ার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে বাংলাদেশ আই হাসপাতাল।

প্রতিষ্ঠানটি রোগীদের অত্যাধুনিক সেবাদানের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। ব্যাংক এশিয়ার সহযোগিতায় এ পর্যন্ত দেশের নানা প্রান্তের এক হাজার ১৬৪ জন জন্মান্ধ শিশু তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছে। বর্তমানে আহাদ, আমীর হামজা ও খাদিজা নামের তিন জন্মান্ধ শিশুর চিকিৎসা চলছে বাংলাদেশ আই হাসপাতালে। ব্যাংক এশিয়া সামর্থ্যহীন পরিবারের জন্মান্ধ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার চিকিৎসায় সহায়তাদানে সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ তার পরিবার বা নিকটাত্মীয় জন্মান্ধ শিশুর চিকিৎসায় সহায়তার ব্যাপারে ব্যাংক এশিয়ার নিকটবর্তী শাখায় যোগাযোগ করে এসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পেতে পারে।

যথাযথ স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে সাধারণত দরিদ্র পরিবারে জন্মান্ধ শিশুর জন্মহার অপেক্ষাকৃত বেশি। পরিবারের সামর্থ্যহীনতার কারণে এসব জন্মান্ধ শিশু আজীবন অন্ধত্ব বয়ে বেড়ায়। অথচ সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা পেলে এসব শিশু খুব সহজেই জন্মান্ধ থেকে মুক্তি পেতে পারে। নিজস্ব দৃষ্টিশক্তিতে পথ চলে নিজেকে, সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে থাকার পরিবর্তে নিজ কর্মে সমাজকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যার অন্যতম উদাহরণ কক্সবাজারের লোহাগড়া উপজেলার জন্মান্ধ শিশু সাজ্জাদ হোসেন। ২০০৫ সালে ব্যাংক এশিয়ার চিকিৎসা সহায়তায় সাজ্জাদ হোসেন জন্মান্ধতা থেকে মুক্তি পায়। শিক্ষাজীবনে এসএসসি এবং এইচএসসিতে ভালো ফলাফলের জন্য ব্যাংক এশিয়ার বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কক্সবাজার সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সম্মান শ্রেণিতে পড়ছে। জন্মান্ধ শিশুর সফলতার এ রকম আরো অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

মন্তব্য