kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

চীনের ডিজিটাল অর্থনীতি ৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলার

বাণিজ্য ডেস্ক   

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বস্তা পণ্য উৎপাদনে বিশ্ববাজারে খ্যাতি রয়েছে চীনের। কয়েক দশকের সেই ঐতিহ্য থেকে এবার বেরিয়ে আসতে চায় দেশটি। স্বল্পমূল্যের শিল্প থেকে উচ্চমূল্যের শিল্পে স্থানান্তর করা হচ্ছে কারখানাগুলো। দেশটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিপুল কর্মসংস্থান তৈরিতে জোর দেওয়া হবে ডিজিটাল অর্থনীতিতে। উচ্চমূল্যের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে যা মূল ভূমিকা রাখবে। এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ চীনের ডিজিটাল অর্থনীতি ৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের।

দেশটির ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি) জানায়, প্রথাগত খাতগুলোকে ডিজিটাইজেশনে রূপান্তর করা হবে। যাতে আরো বেশি শ্রমিক চাকরিতে যোগ দিতে পারে। বর্তমান বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী বিপুল বিনিয়োগ করা হবে বিগ ডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবট, ড্রোনসহ এ ধরনের উচ্চমূল্যের শিল্পে। যা হবে আগামী দিনের কর্মসংস্থানের চালিকাশক্তি।

সাম্প্রতিক চীনের নীতিনির্ধারকরা দেশটির দীর্ঘ মেয়াদে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন। যা থেকে বোঝা যাচ্ছে, বেইজিং বাণিজ্য ও অন্যান্য বহির্মুখী নিয়ামকগুলোর ওপর কম নির্ভর করতে চায়। এনডিআরসি জানায়, ডিজিটাল রূপান্তরের পাশাপাশি কর্মীদের মানগত উন্নয়নও করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে চীনের মধ্যমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা মন্থর। এতে অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেশটির লাখ লাখ চাকরির ক্ষেত্র। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অভিযোগ করেছে, তাদের অগ্রযাত্রা রুখতে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যকে ব্যবহার করছে।

রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা সংস্থাটি জানায়, চীন এখন থেকে ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ক্লাউড কম্পিউটিং প্রভৃতি শিল্পের ওপর জোর দেবে। যা থেকে উচ্চপর্যায়ের বিপুলসংখ্যক চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হবে। নিজেদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে উদ্ভাবন জোরদার করতে বিদেশি মেধাবীদেরও আকর্ষণ করা হবে।

চায়না একাডেমি অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস টেকনোলজির মতে, গত বছর চীনের ডিজিটাল অর্থনীতি ১৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান (৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলার), যা দেশটির জিডিপির এক-তৃতীয়াংশের সমান। চীনের কোটি কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিনোদন, গেম এবং কেনাকাটায় মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে। চীনের শহুরে মানুষেরা এখন নগদ অর্থ ছাড়া কেনাকাটায় অভ্যস্ত। তারা ‘ওইচ্যাট’ এবং ‘আলিপে’র মতো মোবাইল পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করে।

এনডিআরসি জানায়, প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন নতুন শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অর্থায়ন সহযোগিতা দেবে সরকার।

মন্তব্য