kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

সাইবার চুরিতে কৌশল পাল্টাচ্ছে হ্যাকাররা

নতুন প্রতিরক্ষা হাতিয়ার গড়ে তোলার পরামর্শ সুইফটের

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাইবার চুরিতে কৌশল পাল্টাচ্ছে হ্যাকাররা

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা বিশ্বজুড়ে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে তাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে সচেতনতা বেড়েছে। সাইবার হামলা ঠেকানোর প্রস্তুতিও প্রতিষ্ঠানগুলো নিচ্ছে। এতে হ্যাকাররাও বসে নেই, নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করে তারা সাইবার চুরি চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি বৈশ্বিক আর্থিক লেনদেন প্ল্যাটফর্ম সুইফট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন কথা বলা হয়েছে। ‘থ্রি ইয়ার্স অন ফ্রম বাংলাদেশ : ট্যাকলিং দ্য অ্যাডভারসারিজ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, হ্যাকাররা কৌশল পাল্টানোর ফলে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সাইবার হামলা মোকাবেলা করতে হচ্ছে বিশ্ব অর্থব্যবস্থাকে। সাইবার হামলাকারীরা কৌশল বদলাচ্ছে একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তালমিলিয়ে হামলার ধরনও শক্তিশালী করছে। গত ১৫ মাসে সুইফটের অনুসন্ধানে এসব তথ্য বের হয়ে এসেছে।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে হ্যাকাররা। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংক করপোরেশনের (আরসিবিসি) জুপিটার মাকাতি শাখার মাধ্যমে চলে যায় জুয়ার আসরে। বাকি অর্থ শ্রীলঙ্কায় পাঠিয়ে দেওয়া হলেও সেই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক ফেরত পায়। সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে এ অর্থ নেওয়া হয়।

হ্যাকাররা বর্তমানে অল্প অর্থ চুরির চেষ্টা চালাচ্ছে বেশি। যাতে আর্থিক নির্বাহী ও তাদের রাডারকে সহজে ফাঁকি দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা যায়। বর্তমানে তারা ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার থেকে শুরু করে ২০ লাখ ডলার পরিমাণ অর্থ বেশি চুরির চেষ্টা করছে। সুইফটের মতে, প্রতারণাপূর্ণ চুরির ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ যত বেশি ঝুঁকিও তত বেশি। চুরি হওয়া অর্থের ৮৩ শতাংশই চলে যায় বেনিফিশিয়ারি হিসাবের মাধ্যমে। যার শিকার এশিয়া প্যাসিফিক, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার মতো অঞ্চল। অর্থ চুরির ৭০ শতাংশ ঘটনা হয় ডলারের মাধ্যমে। তবে ইউরোপীয় মুদ্রার ব্যবহারও বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশ কিছু পরামর্শ দেয় সুইফট। পরামর্শগুলো হচ্ছে—সাইবার চুরি প্রতিহত করতে উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন প্রতিরক্ষা হাতিয়ার গড়ে তুলতে হবে। তথ্য বেশি বেশি শেয়ার করতে হবে। কারণ তথ্য বেশি শেয়ার হলে সবাই সচেতন হবে এবং হামলা ঠেকাতে অন্যরা প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা মান গ্রহণ করতে হবে।

বিশ্বে ১১ হাজার ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো সুইফটের মাধ্যমে আন্ত ব্যাংক আর্থিক লেনদেনের সুবিধা নিয়ে থাকে। এটি সদস্য ব্যাংকগুলোকে ওয়্যার-ট্রান্সফার অর্ডারের সুবিধাও দেয়। এখানেও একটা সমস্যা আছে। যদি কোনো ব্যাংকের ওয়্যার-ট্রান্সফার অর্ডারটি বাতিল হয়ে যায়; সেই সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা এর চেয়ে কম অঙ্কের ভুয়া অর্ডার দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে। গত কয়েক বছর হ্যাকাররা এই কাজটি করত সাধারণত ছুটির দিনে কিংবা ব্যাংক আওয়ারের বাইরের সময়টুকুতে। এ জন্য তারা ‘হিউম্যান ডিটেকশন’ পদ্ধতি পর্যন্ত বাইপাস করে ফেলত! তবে আশার কথাও শুনিয়েছে সুইফট। তারা জানায়, গত বছর হ্যাকারদের এসব আক্রমণের মাত্র ১ শতাংশ সফল হয়েছে। তার মানে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে; কিন্তু সতর্ক থাকার বিকল্প নেই।

মন্তব্য