kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

এক সপ্তাহে কেজিতে বেড়েছে হাজার টাকা

ইলিশের দাম নাগালের বাইরে

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ   

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইলিশের দাম নাগালের বাইরে

মাওয়া মত্স্য আড়তে ইলিশ বেচাকেনা চলছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বৈশাখ উপলক্ষে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশ মাছের দাম বেড়েছে কেজিতে এক হাজার টাকা। মাসের ব্যবধানে এ দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ইলিশের গায়ে লেগেছে বৈশাখের হাওয়া। উৎসবের আগে সম্প্রতি উপজেলার মাওয়া মত্স্য আড়তে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পদ্মা নদীর সুস্বাদু ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে ইলিশের দাম জনসাধারণের সামর্থ্যের বাইরে। এক হালি বড় আকারের ইলিশ ১৫-২০ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ ১০-১২ হাজার টাকা ও ছোট আকারের ইলিশ দুই-তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে মাওয়া মত্স্য আড়তে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে অন্যান্য মাছের চেয়ে ইলিশ মাছের আড়তগুলোতে ক্রেতাদের ইলিশ কেনার প্রতিযোগিতা ছিল বেশি। আড়তদার এক হালি ইলিশের দাম হাঁকার পরে শুরু হয়ে যায় ক্রেতাদের দাম বলার পালা। একেক ক্রেতা আড়তদারের দামের ওপর দাম বাড়িয়ে ইলিশের দাম বলে যাচ্ছে। ক্রেতারাও প্রতিযোগিতামূলকভাবে দাম বৃদ্ধি করে চলছে। ক্রেতাদের প্রতিযোগিতা দেখে মনে হচ্ছিল এ মাছ আর পাওয়া যাবে না। তাই দাম যাই হোক—ইলিশ নিতেই হবে। এ প্রতিযোগিতায় মাছের দাম অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঢাকা থেকে আগত ক্রেতা রফিক ইসলাম খান জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পদ্মা নদীর সুস্বাদু ইলিশ কেনার জন্য আসছি মাওয়া মত্স্য আড়তে। যাতে পদ্মা নদীর ইলিশ কিনে পরিবারের সকলে মিলে পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন করতে পারি। কিন্তু ইলিশের এত দাম কল্পনা করতে পারিনি। আমি প্রায়ই আসি এখানে মাছ কিনতে। গত মাসেও আসছিলাম, আমি এক হালি ইলিশ সে সময়ে আট হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলাম, সে রকমের ইলিশ এখন কিনেছি ১৩ হাজার টাকা দিয়ে। এদিকে আরেক ক্রেতা সুমন মাদবর বলেন, দাম বাড়ার তেমন কোনো কারণ দেখছি না। শুধু পহেলা বৈশাখের জন্য এভাবে ইলিশের দাম বাড়তে পারে ভাবতেই পারছি না। আমরা ক্রেতারাও উন্মাদ হয়ে ইলিশ কিনছি চওড়া দামে। যে ইলিশ ১০ দিন আগে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি সে ইলিশ এখন ১০ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে জেলেরা।

মাওয়া মত্স্য আড়তের নিয়মিত মাছ বিক্রেতা স্বপন দাস জানান, পদ্মায় ইলিশ ধরতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সরবরাহ কম। তাই সরবরাহের তুলনায় ক্রেতা বেশি থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। সেই সঙ্গে পহেলা বৈশাখের জন্য ইলিশের ক্রেতা বেড়ে গেছে। তাই ইলিশের গায়ে বৈশাখের হাওয়া লাগায় এ দাম আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বৈশাখের পরে ইলিশের দাম আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে তিনি দাবি করেন।

পদ্মায় ইলিশ শিকারি রুহুল আমিন দেওয়ান জানান, আমাদের এখানে প্রায় ৪০টির মতো ইলিশ ধরার নৌকা রয়েছে। কিন্তু জাটকা ধরা নিষেধ থাকায় জেলেরা ঠিকমতো জাল ফেলছে না পদ্মায়। তবে যাদের বড় ইলিশ ধরার জাল রয়েছে শুধু তারাই পদ্মায় ইলিশ ধরছে। কিন্তু জাল ফেলে বড় আকারের তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। একদিকে নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে কম, অন্যদিকে পহেলা বৈশাখের কারণে ইলিশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ইলিশের দাম বেড়ে গেছে।

মন্তব্য