kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

দেশি ফ্যাশনে বর্ণিল বৈশাখ

ফারজানা লাবনী   

১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দেশি ফ্যাশনে বর্ণিল বৈশাখ

দেশীয় সংস্কৃতি উদ্‌যাপন মানে ঐতিহ্যবাহী ফ্যাশন ও পোশাকের সমাহার। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশীয় সংস্কৃতি উদ্‌যাপন মানে ঐতিহ্যবাহী ফ্যাশন ও পোশাকের সমারোহ। তাই বর্ষবরণকে ঘিরে বরাবরের মতোই ক্রেতাদের দৃষ্টি থাকে দেশীয় পোশাকের প্রতি। সবচেয়ে বড় এ উৎসবের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোর পোশাক বিক্রি বাড়ে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, পাঞ্জাবি। ছোটদের রকমারি পোশাক বিক্রিও কম নয়! বাণিজ্যের এ রমরমা মৌসুমের জন্য দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো সারা বছরই প্রস্তুতি নিয়ে থাকে।

সরেজমিনে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, রাপা প্লাজা, ধানমণ্ডি জেনেটিক প্লাজা, আড়ং, মিরপুর শপিং কমপ্লেক্স, মিরপুর এলাকার বিভিন্ন বাজার, নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, ফার্মগেট এলাকার বিভিন্ন দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বৈশাখের প্রচণ্ড গরমের কারণে সুতির কাপড়ের চাহিদা বেশি থাকে। তাই বাংলা বর্ষবরণের উৎসবের জন্য দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোর তৈরি পোশাকে সুতির কাপড়ের ব্যবহার বেশি। এসব ফ্যাশন হাউসগুলোর মধ্যে আড়ং, সাদাকালো, রং বাংলাদেশ, নিপুণ, অঞ্জনস, কে-ক্র্যাফট, বিবিয়ানা, অন্য মেলা, দেশাই, যাত্রা, লিরিভি, নাবিলা, ফড়িং, স্টিচ, শৈশবসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের পোশাকের চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া ইয়েলো, ইকসটাসি, সেইলর, আর্টিসান, ভাসাবি, বাংলার মেলা, নাগরদোলা ইত্যাদি ফ্যাশন হাউসের বৈশাখী পোশাক ভালো বিক্রি হচ্ছে।

বৈশাখী শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা বা তারও বেশি দামে, ছেলেদের ফতুয়া ৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা, মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ ১২০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা বা এরও বেশি দামে, পাঞ্জাবি ৭০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা, ছোটদের পোশাক ৩০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকায়। দেশি ফ্যাশন হাউস জামদানিপল্লী ও আড়ংয়ে জামদানি শাড়ি কিনছে অনেকে। এসব শাড়ি নকশার নামেই পরিচিত।

জামদানিপল্লী থেকে গৃহিণী সাবিনা ইয়াসমিন শাড়ি কেনার পর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লাল জমিনে সাদা সুতা আর সোনালি জরির সূক্ষ্ম কাজের জামদানি শাড়িটির দাম ৭ হাজার ৪০০ টাকা। বৈশাখের উৎসবের জন্য এটি। এ শাড়িটি ঈদেও পরতে পারব।’

তবে বয়সে তরুণীরা ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে শাড়ি কিনছেন বেশি। মিরপুর আড়ং থেকে সবুজ জমিনের ওপর লাল, সাদা, কালো কাজের তাঁতের শাড়ি কেনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আরিফা চুমকি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবছর বৈশাখের উৎসবের জন্য আড়ং থেকে শাড়ি কিনি। শাড়ি কিনব বলে বাসা থেকে টাকা নিয়েছি। শাড়িটি নিয়েছে ২ হাজার ৩২৪ টাকা।’

বনানী অঞ্জনস-এ পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছেন সাজিদা ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বৈশাখের আগে দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোর কালেকশন অনেক বেশি থাকে। আমি এখান থেকে আমার সাত বছরের মেয়ের জন্য এক হাজার ৭০০ টাকায় সালোয়ার-কামিজ ওড়না, আমার স্বামীর জন্য তিন হাজার ২০০ টাকায় পাঞ্জাবি কিনেছি।’

লালমাটিয়া আড়ংয়ে চার বন্ধু একসঙ্গে এসে পাঞ্জাবি কিনেছেন। তাঁদের একজন ব্যবসায়ী আফিস রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছাত্রজীবন শেষ করেছি গত তিন বছর আগে। কিন্তু এখনো পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন করে চলেছি। ভোরে চলে যাই রমনায়। আমরা কয়েক বন্ধু মিলে আড়ং থেকে পাঞ্জাবি কিনেছি। চারটি পাঞ্জাবি নিয়েছে ১১ হাজার টাকা।’

লাল-সাদা পহেলা বৈশাখের প্রতীকী রং ধরা হয়। তাই বৈশাখ উদ্‌যাপনে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন দেশি পোশাকে লাল-সাদার দাপট থাকে বেশি। এবারে বৈশাখী পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে খানিকটা ভিন্নতা দেখা যায়। পোশাক উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেন, পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনের দুই মাস শেষ হওয়ার আগেই সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। অনেকে পহেলা বৈশাখের জন্য কেনা পোশাকটি ঈদ উৎসবেও পরতে আগ্রহী। তাই সাদা-লালের সঙ্গে অন্য রং মেশানো পোশাক কিনছেন অনেকে। ক্রেতার চাহিদা বিবেচনায় অন্য রং মেশানোয় এবারের বৈশাখী পোশাকে এসেছে নতুনত্ব। পুরনো ডিজাইনের পোশাকও হয়ে উঠেছে আরো আকর্ষণীয়।

দেশি ফ্যাশন হাউসগুলোর সংগঠন ফ্যাশন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সভাপতি এবং সাদাকালো ফ্যাশন হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহারুল হক আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ক্রেতার পছন্দ প্রাধান্য দিয়ে বৈশাখী পোশাকের চিরচেনা লাল-সাদায় এবারে অন্য রং মেশানো হয়েছে। এর মূল কারণ বৈশাখের মাসদেড়েক পরেই রোজার ঈদ। অধিকাংশ ক্রেতা চাইছেন বৈশাখের জন্য কেনা পোশাকটি প্রয়োজন হলে ঈদেও পরবেন। এ ক্ষেত্রে রঙে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ছাড়া অনেক ফ্যাশন হাউসের পক্ষে বৈশাখের পোশাক তৈরিতে বড় বিনিয়োগের পর অল্প সময়ের ব্যবধানে ঈদের জন্য আবারও পুঁজি বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে না। আবার পুঁজি থাকলেও সম্ভব নয়। কারণ একটি উৎসব সামনে রেখে নতুন পোশাক তৈরি করে বাজারে আনার প্রস্তুতিতে প্রায় ছয় মাস লেগে যায়।’

রং বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের বৈশাখে আমাদের ব্র্যান্ডের পোশাক বানানোর থিম চাকমাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য আলাম, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর রেখা চিত্র এবং নকশিকাঁথা। এসব ভালো চলছে।’

দোকানে দোকানে ঘুরে পোশাক কেনাকাটার পাশাপাশি এবারে অনলাইনেও ক্রেতারা ভালোই কিনছে। নামিদামি অনেক ফ্যাশন হাউস থেকে অনলাইনে ক্রেতাদের পণ্য কেনার সুযোগ দিতে নিজস্ব ওয়েবসাইট খুঁলেছে। এ ছাড়া অনেক উদ্যোক্তা নিজের বানানো পণ্য অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা রেখেছেন। তরুণ-তরুণীদের অনেকে অনলাইন থেকে পণ্য পছন্দ করে তার ঠিকানা দিয়ে রাখছে। নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য হাতে পাওয়ার পর দাম দিয়ে দিচ্ছে।

মন্তব্য