kalerkantho

সোমবার । ২০ মে ২০১৯। ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৪ রমজান ১৪৪০

কুয়েট থেকে চায়না

হুয়াওয়ের ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ যেন এক স্বপ্নিল সফর

মো. রাকিবুল হাসান ও নুঝাত নাওয়ার, কুয়েট   

৩১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হুয়াওয়ের ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ যেন এক স্বপ্নিল সফর

চীন সফরে কুয়েট সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা

কুয়েট থেকে আমরা গত বছর বিশেষ প্রশিক্ষণ আর ভ্রমণের জন্য চায়না যাওয়ার সুযোগ পেলাম। এ সফরের সার্বিক সহায়তা করে দিল হুয়াওয়ের ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’। যাওয়ার ঠিক দুই দিন আগে হুয়াওয়ে বাংলাদেশের ঢাকা অফিসে বর্ণাঢ্য আয়োজনের সঙ্গে চমৎকার খাওয়াদাওয়ার মধ্যে শেষ হলো গালা রাউন্ড। সেখানে হুয়াওয়ে বাংলাদেশের সিইও ঝাং জেংজুন দারুণ সব কথা বলে আমাদের উদ্বুদ্ধ করলেন। অবশেষে চীনে আমাদের ৪০ জনের ফাইনাল গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি হলো। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হুয়াওয়ের গ্লোবাল সিএসআরের প্রধান হলি রানাইভোজানানি। টিম বাংলাদেশ থেকে আমরা গান পরিবেশন করেছিলাম—‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল...।’ বেইজিংয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমাদের স্বাগত জানায় বেইজিং হুয়াওয়ে কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

গুয়াংজুতে ট্রানজিট করে পৌঁছে গেলাম বেইজিং। ফ্লাইট থেকে নেমে দেখলাম, শেনজেনে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল হুয়াওয়ের অভিজ্ঞ গাইড ঝ্যাং পিং। শেনজেনে আমাদের সঙ্গে আরো তিনটি দেশ যুক্ত হলো—তুর্কি, ক্যামেরুন আর চাদ। একসঙ্গে ৪০ জন হলাম আমরা। শেনজেনে আমরা হুয়াওয়ের নিজস্ব ফাইভ স্টার হোটেল অ্যাম্বার প্লাজাতে চেক-ইন করলাম। ফ্রেশ হয়েই বের হলাম খাওয়াদাওয়ার জন্য—একটু দূরেই নামকরা একটি রেস্টুরেন্ট। খাবারের কত কী বাহার! সবার হাতে চপস্টিক, সবাই যেন এটা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে ব্যস্ত। কিভাবে সম্ভব এটা দিয়ে খাবার ওঠানো? আমাদের কষ্ট দেখেই বোধ হয় পিং চামচের ব্যবস্থা করলেন। চারদিকে সবই চায়নিজ, তারা কী বলে কিচ্ছু বুঝি না আর আমরাও মজা করতে থাকি। আস্তে আস্তে আমাদের নিজেদের মাঝে ভালো একটা বন্ধন তৈরি হতে থাকে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী পরের দিন গেলাম দ্য গ্রেট ওয়াল এবং দ্য ফরবিডেন সিটি। গ্রেট ওয়ালে ওঠার সিঁড়িগুলো কেমন যেন—কোনোটা একটু বেশি উঁচু, আবার কোনোটা একটু বেশি নিচু। একটু ওপরে উঠে পাশে তাকালে কেমন যেন ভয় লাগে! আবার ওঠার রাস্তাটাও সরু—সেখানে অনেক মানুষের সমাগম। ওঠার পথেই বিশ্রাম নেওয়ার স্থান আর সেখানে জানালা দিয়ে শীতল হাওয়া—প্রাণটা যেন জুড়িয়ে যায়! সময়ের অভাবে একেবারে চূড়া পর্যন্ত না উঠলেও বেশ উঁচু পর্যন্তই উঠেছিলাম আমরা কয়েকজন। অন্য বিদেশিরা ছবি তুলতে এলো আমাদের সঙ্গে। আমরাও শুরু করলাম অন্যদের সঙ্গে। অচেনা হলেও নতুন একটা বন্ধুসুলভ পরিবেশ! প্রযুক্তির প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের সংস্কৃতিগত মেলবন্ধন ঘটানোও এই প্রগ্রামের একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল। শেনজেনে পৌঁছানোর পরদিন আমাদের পরিকল্পনা ছিল ইলেকট্রনিকস মার্কেট এবং কালচারাল ভিলেজে ভ্রমণ। ইলেকট্রনিকস মার্কেট ঘুরে আমরা গেলাম কালচারাল ভিলেজে। পুরো এলাকাটা অনেক সুন্দর আর সাজানো-গোছানো। চীন বিচিত্র সংস্কৃতি, প্রাচীন ঐতিহ্যসমৃদ্ধ একটি দেশ আর সেই কালচারাল ভিলেজে মোটামুটি তার সবই আছে মিনিয়েচাররূপে। বিকেলে ওখানে একটা শো ছিল—ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের। দারুণ পারফরম্যান্স ছিল। আমরা খুব উপভোগ করেছিলাম।

 

 

মন্তব্য