kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

উদ্যোক্তা

নিজের অলংকার বানাতে গিয়ে গড়লেন কম্পানি

বাণিজ্য ডেস্ক   

৩১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজের অলংকার বানাতে গিয়ে গড়লেন কম্পানি

আদিনা কামখাচি, প্রতিষ্ঠাতা, আদিনাস জুয়েলস

মাত্র চার বছর আগে তিনি ছিলেন একজন কলেজছাত্রী। আর এখন মিলিয়ন ডলার কম্পানির মালিক। নিজের জীবনের গল্প জানাতে গিয়ে ২২ বছর বয়সী আদিনা কামখাচি বলেন, দামি অলংকার কেনার সাধ্য আমার ছিল না, আবার কম দামি অলংকারও এমন পেতাম না, যা দীর্ঘদিন থাকবে। সে জন্যই সিদ্ধান্ত নিলাম নিজের অলংকার নিজেই তৈরি করব।

আদিনা’স জুয়েলসের প্রতিষ্ঠাতা আদিনা কামখাচি বলেন, সে সময় ব্রুকলিন কলেজে ভর্তি হয়েছি মাত্র। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন ক্লাস হতো। ফলে হাতে কিছু সময় থাকত। তাই বাড়তি কিছু করতে চাইলাম। মায়ের সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁর উৎসাহে কাজে নেমে পড়লাম। তখন আমার কাছে জমা ছিল এক হাজার ডলার। ওই অর্থ দিয়ে গুটি, মুক্তা, পাথর, চামড়া, হার ইত্যাদি কিনলাম। নিজের বাড়িতেই ডাইনিং টেবিলে অলংকার বানানো শুরু করলাম। দাদির সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিষ্ঠানের নাম দিলাম আদিনা’স জুয়েলস।

বেশ কিছু পণ্য তৈরি করে আদিনা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে অলংকার বিক্রি করতে লাগলেন। কিন্তু তিন মাসের মাথায় মনে হলো ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে আরো ভালো মাধ্যম দরকার। এরপর স্থানীয় এক বস্ত্র বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে কয়েকটি অলংকার তাঁর কাছে রাখলেন। তাতে বিক্রি ভালোই হচ্ছিল, কিন্তু দোকানটি মৌসুমি হওয়ায় অফ মৌসুমে ক্রেতা কম আসায় অলংকার বিক্রিও কমে যায়। এবার আদিনার মা-বাবা পরামর্শ দিলেন পার্লারে পণ্য রাখার জন্য। কারণ সেখানে ক্রেতা সমাগম সব সময় থাকে। বুদ্ধিটি কাজে দিল। ভালোই বিক্রি হতে লাগল। ফলে চার বছরের ব্যবধানে আদিনা’স জুয়েলস একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। যার বার্ষিক রাজস্ব আসে কয়েক মিলিয়ন ডলার। ইনস্টাগ্রামে কম্পানির ফলোয়ার দাঁড়িয়েছে কয়েক লাখ। ব্রুকলিনে কম্পানির একটি স্টোরও খোলা হয়েছে। এ ছাড়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৬০০ ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

এ বিশাল সাফল্যের পরও আদিনার মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাঁর তৈরি নেকলেস, ধুল, রিং এবং ব্রেসলেট ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও সেটি সব শ্রেণির মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি চাই যারা ধনী পরিবারের নয়, তারাও যেন সুন্দর অলংকার কিনতে পারে। সেই ব্যবস্থাই আমি করতে চেয়েছি। কম্পানির অনেক পণ্যের ডিজাইন আদিনা নিজেই করেন। তবে কিছু পণ্য এখন ইউরোপেও তৈরি হয়। যেমন ইউরোপে তৈরি তাঁর ১৪ ক্যারেট গোল্ড-প্লেটেড পণ্যের দাম ৫০ থেকে ২৫০ ডলার পর্যন্ত।’

আদিনার মা-বাবা অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। বাবা আসেন সিরিয়া থেকে আর মা ইসরায়েল। দুজনই আলাদা কম্পানিতে চাকরি করেন। আদিনা বলেন, ‘আমরা দুই ভাই-বোন। মা-বাবা চেয়েছেন আমরা আত্মনির্ভরশীল হই এবং নিজেদের কাজ নিজেরা করি। বিশেষ করে আমার মা আমাকে বেশি উৎসাহী করেছিলেন।’ বলেছিলেন, ‘আদিনা অন্যের জন্য কাজ করো না, নিজের বস নিজে হও এবং নিজের চেকটি নিজেই লেখ।’ আদিনা বলেন, ‘সব কৃতিত্ব আমার মা-বাবার। যাঁরা আমাদের এভাবে মানুষ করেছেন। আমার যখন ব্যাবসায়িক পরামর্শের প্রয়োজন হয় তখন গভীর রাতেও বাবাকে ডাকলে তিনি আমাকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য চলে আসেন।’ সিএনএন মানি।

 

মন্তব্য