kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

যেভাবে চাকরি পেলাম

চাকরি না পেয়ে খানিকটা হতাশ ছিলাম

মোতাকাব্বির খান প্রবাস, ফুড ইন্সপেক্টর, খাদ্য অধিদপ্তর   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ১২:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেভাবে চাকরি পেলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ঠিক করেছিলাম বিসিএস ক্যাডার হবো। এখনো এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য চেষ্টা করছি। স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে চাকরির পড়াশোনা শুরু করি। শুরু থেকেই বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা এবং মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স নিয়মিত পড়তাম। নিয়মিত শোনা হতো টেলিভিশনের খবর। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নোট করতাম। ধীরে ধীরে পড়াশোনার গতি বাড়াই। চাকরি সহায়ক বইপত্র, পরিচিত লেখকের মৌলিক বই সংগ্রহ করে পড়তে শুরু করি। বাংলা ও ইংরেজির জন্য সংগ্রহ করি বেসিক কিছু বই। অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের পাশাপাশি প্রচলিত চাকরি সহায়ক বই থেকেও গণিতের সমাধান করেছি। মানসিক দক্ষতা, তথ্য-প্রযুক্তির বই সংগ্রহ করে সেখান থেকেও প্রস্তুতি নিয়েছি।

বন্ধুরা মিলে সপ্তাহে দুই দিন গ্রুপ স্টাডি করতাম। যে বিষয়গুলো একেবারেই নতুন ও অজানা লাগত সেগুলো চর্চা করতাম। যে সবচেয়ে বেশি জানত সে ওই বিষয়ে আলোচনা করত। আর অন্যরা তা নোট নিতাম। পড়াশোনার নির্দিষ্ট কোনো রুটিন ছিল না। তবে প্রতিদিন গড়ে সাত-আট ঘণ্টা পড়তাম। যেদিন সকালে পড়তে পারতাম না, সেদিন রাতে পড়তাম। রাতে পড়ার অভ্যাসটা অবশ্য ছোটবেলা থেকেই।

আমার প্রথম চাকরির আবেদন ছিল এনবিআরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে। ভাইভা ভালো দিয়েও চাকরি হয়নি। চাকরি না পেয়ে খানিকটা হতাশ ছিলাম। হতাশা কাটানোর জন্য প্রিয়জনদের সঙ্গে বেশি কথা বলতাম। হলের বড় ভাইদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছি। এ ছাড়া ফেসবুকে চাকরিবিষয়ক বিভিন্ন গ্রুপের পোস্ট পড়তাম। সেসব অভিজ্ঞতা পরে কাজে লেগেছিল।

এনবিআরের নিয়োগ পরীক্ষার পর পর্যায়ক্রমে ৩৫তম বিসিএস, ৩৬তম বিসিএস, সোনালী, অগ্রণী, জনতা, কৃষি ব্যাংকসহ আটটি পরীক্ষা দিয়েছি। তবে ব্যাংকের চাকরির প্রতি আমার তেমন আগ্রহ ছিল না। কোনো বেসরকারি ব্যাংকে আবেদন করিনি।

৩৫তম বিসিএসের বাছাই পরীক্ষায় পাস করতে পারিনি। ৩৬তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় পাস করি। ভাইভা দেওয়ার পর মনে হয়েছিল, চাকরি হবে; কিন্তু যখন ফল প্রকাশ হলো মন খারাপ হয়েছিল। আমি কোনো ক্যাডার পাইনি। পরবর্তী সময়ে নন-ক্যাডারে ফুড ইন্সপেক্টর পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। তবে এখনো যোগদান করিনি। ২৪ জানুয়ারি খাদ্য অধিদপ্তরে ফুড ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগদান করতে যাচ্ছি।

আমি এখনো স্বপ্ন দেখি, বিসিএস ক্যাডার হব। ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা দিয়েছি। ৪০তম বিসিএসেও আবেদন করেছি। বিসিএসের জন্য এখনো নিজেকে তৈরি করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা