kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

আন্দোলনের উপকার

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আন্দোলনের উপকার

ফেসবুকে ওর সঙ্গে পরিচয়। আজ প্রথম ডেটিং। ভেবেছিলাম, অনেক টাকা খসিয়ে দেবে। কিন্তু না, লুবনা দামি কোনো রেস্টুরেন্টে বসার বদলে নিজ থেকেই ধানমণ্ডি লেকে দেখা করার কথা বলল। শুনে আমি আবেগে কেঁদে ফেলেছিলাম। যদিও লুবনাকে বুঝতে দিইনি। তবু সিকিউরিটি মানি হিসেবে হাজার পাঁচেক টাকা সঙ্গে করে নিলাম। বলা যায় না, লাগতে পারে।

বিকেল ৫টায় ডেটিং, তাই ৪টায় নিজের গাড়ি নিয়ে বের হলাম। আজ আবার পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট। রাস্তায় কোনো পাবলিক বাস নেই। প্রায় ফাঁকা রাস্তা, তাই প্রাইভেট কার আধাঘণ্টার মধ্যে ধানমণ্ডি এলাকায় ঢুকে পড়ল। সেখানে এসেই দেখি জ্যাম। ঠিক সে সময় কিছু আন্দোলনরত শ্রমিক এসে আমার মুখে পোড়া মবিল মাখিয়ে দিল।

আমি হতভম্ব। আয়নায় তাকিয়ে দেখি, পুরো ভূতের মতো লাগছে। কী করব ঠিক বুঝতে পারছি না। এত কাছে এসে লুবনার সঙ্গে দেখা না করে যাব, সেটা কী করে হয়। ঠিক করলাম, যা আছে কপালে, এই অবস্থায়ই যাব।

ধানমণ্ডি লেকের পাশে গাড়ি থেকে নেমে হাতমুখ ধুতে গেলাম। হঠাৎ শুনি, ঝোপের আড়াল থেকে এক মাস্তান টাইপ লোক মোবাইলে কোনো একজনকে বলছে, ‘শোন লাবনী, গাধাটা এলেই আমাদের ইশারা করবি। আমরা যার যার পজিশনে আছি। ইশারা করলেই একসঙ্গে অ্যাটাক করব। ফেসবুকে প্রেম করা ওকে জন্মের মতো শিখিয়ে দেব।’

কথাটা শুনেই ঘাবড়ে গেলাম। যদিও আমার গার্লফ্রেন্ডের নাম লুবনা, আর ও কথা বলেছে লাবনীর সঙ্গে। তবু কোনো এক সংশয়ে আমি কালি না তুলে উঠে এলাম। কিছুটা এগোতেই দেখলাম, লুবনা বেঞ্চিতে বসে আছে। সেদিকে এগিয়ে যাওয়ার আগে আশপাশে নজর দিলাম, যাতে কোনো গুপ্তবাহিনী থাকলে চোখে পড়ে। অতঃপর পা বাড়ালাম। আমাকে কাছাকাছি আসতে দেখে লুবনা মোবাইলের লাইন কেটে দিল। হঠাৎ দেখি, সেই সুঠামদেহী লোকটাসহ আরো কয়েকজন এগিয়ে আসছে। আমার গলা শুকিয়ে কাঠ। ভাবছি, তেলে মুখ ঢাকা সত্ত্বেও লুবনা আমাকে চিনে ফেলল না তো!

লুবনার কাছাকাছি যেতেই আমাকে দেখে ফিক করে হেসে ফেলল। হাসির উত্তর না দিয়ে তাকে ক্রস করে চলে এলাম। এবার লুবনাও কিছুটা কনফিউসড। আমি অনেকটা এগিয়ে গিয়ে একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়লাম। তাকালাম লুবনার দিকে। ছেলেগুলো লুবনার সঙ্গে হালকা কথা বলে আবার যার যার পজিশনে চলে গেল। তখন বুঝতে বাকি রইল না যে আমি ট্র্যাপে পড়ছি। সেখানে আর অপেক্ষা না করে দ্রুত কেটে পড়লাম। বেঁচে গেলাম ধোলাইয়ের হাত থেকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা