kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

তিন রাজ্যপ্রধানের পদত্যাগ

রাহুল কংগ্রেস সভাপতির পদ ছাড়তে পারেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাহুল কংগ্রেস সভাপতির পদ ছাড়তে পারেন

লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির দায় হিসেবে কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন রাহুল গান্ধী। আজ শনিবার দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব তুলবেন বলে জানিয়েছে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম। এরই মধ্যে তিন রাজ্যের তিন কংগ্রেসপ্রধান পদত্যাগ করেছেন।

কংগ্রেসের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, আজ শনিবার ভারতীয় সময় সকাল ১১টায় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শুরু হবে। সেখানে রাহুল ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও ইউপিএ চেয়ারম্যান সোনিয়া গান্ধীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ওই সভায় রাহুল গান্ধী পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। তবে রাহুল সরে দাঁড়ালে কংগ্রেসের হাল কে ধরবে, সে আলোচনা ভারতের রাজনীতিতে এখনো শুরু হয়নি।

এ ছাড়া টানা দ্বিতীয়বারের মতো লোকসভা নির্বাচনে কেন কংগ্রেসের ভরাডুবি হলো, সে বিষয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন।

এবারের নির্বাচনে ৫২টি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে তিন শতাধিক আসন পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। এর মধ্যে ‘বাপ-দাদার’ আসন হিসেবে পরিচিত উত্তর প্রদেশের আমেথি আসনেও জিততে পারেননি রাহুল গান্ধী। উত্তর প্রদেশের ৮০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেসের একটি আসনই জুটেছে; সেটি সোনিয়া গান্ধীর।

এরই মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের কংগ্রেসপ্রধান ও সাবেক অভিনেতা রাজ বাবর। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে এক টুইটার বার্তায় তিনি লেখেন, ‘উত্তর প্রদেশের ফলাফল কংগ্রেসের জন্য খুবই হতাশাজনক। আমি মনে করি, আমি নিজের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করতে পারিনি।’

রাজ বাবরের পাশাপাশি পদত্যাগ করেছেন কংগ্রেসের কর্ণাটকপ্রধান এইচ কে পাটেল ও ওড়িশার প্রধান নীরাঞ্জন পাটনায়েক।

এবার সরকার গঠন করতেই হবে—এমন চাপ কংগ্রেসের ওপর খুব একটা ছিল না। কিন্তু ২০১৪ সালের চেয়ে আরো ভালো ফল হবে অনেকের প্রত্যাশা ছিল। এ অবস্থায় ৫২ আসন পাওয়ায় দলের মধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আমেথিতে রাহুলের পরাজয় কংগ্রেসের জন্য ভয়ানক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, আমেথি কংগ্রসের ‘বাপ-দাদার’ আসন হিসেবে পরিচিত। দ্বিতীয়ত, সেখানে এমন একজন প্রার্থী হারলেন, যাঁকে কংগ্রেসের উত্তরসূরি ভাবা হয়। এ অবস্থায় পূর্বসূরিদের হিসেবে নিজেকে রাহুল ‘অযোগ্য’ ভাবতেই পারেন।

রাহুলের প্রপিতামহ জওয়াহেরলাল নেহরু ছিলেন ভারতের প্রথম এবং সবচেয়ে বেশি সময় সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী। রাহুলের দাদি ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। আর সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তাঁর বাবা রাজীব গান্ধী।

এবারের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রাহুলের ভাবমূর্তির একটা লড়াইও ছিল। সেই লড়াইয়ে রাহুল হেরে গেছেন। তবে রাহুল সরে দাঁড়ালেই সব সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করেন কংগ্রেসের প্রবীণ রাজনীতিবিদ মণি শঙ্কর আইয়ার। বিবিসিকে তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী বৈঠকে ‘কংগ্রেস তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন করবে না। এমনকি রাহুলের পদত্যাগের সিদ্ধান্তও মেনে নেবে না।’ তিনি মনে করেন, ‘নেতৃত্বই ভরাডুবির মূল কারণ নয়। এর পেছনে আরো অনেক কারণ রয়েছে। সেগুলো নিয়েই এখন কাজ করতে হবে।’

লখনৌর কংগ্রেস নেতা ব্রিজেন্দ্র কুমার সিং বলেন, রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন নেই। বরং দলের প্রচারণা দুর্বল ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি নিয়ে গিয়েছিলাম, জনগণ তা গ্রহণ করেনি।’ সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, বিবিসি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা