kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বিশেষজ্ঞ মত

মোদি সরকার চাইলে সাহসী উদ্যোগ নিতে পারবে

এম হুমায়ুন কবির

২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মোদি সরকার চাইলে সাহসী উদ্যোগ নিতে পারবে

নরেন্দ্র মোদিকে আবারও ক্ষমতায় আনা ভারতের জনগণের সিদ্ধান্ত। ভারতের জনগণ মোদির বক্তব্য, এজেন্ডা, পথ ও রূপকল্প দেখে আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে ব্যাপকভাবে সমর্থন জানিয়েছে। ভারতের জনগণ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার প্রতিই আমাদের সবার সম্মান জানানো উচিত। আর আমরা নিশ্চয়ই তা করব।

অন্যদিকে ভবিষ্যৎ কী হবে সেটা বলা মুশকিল। তবে এটুকু বলা যায়, ভারতে এখন প্রধান অগ্রাধিকার পাবে উন্নয়ন। এ ছাড়া প্রাধান্য পাবে এ ধরনের রাজনীতি যেখানে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠী বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতীয় যারা আছে তারাই প্রাধান্য পাবে। এটি মোটামুটি প্রতীয়মান। আগামী দিনগুলোয় এটি আমরা দেখতে পারি।

আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের হেরফের হওয়ার আশঙ্কা এ মুহূর্তে নেই বলেই আমি মনে করি। কারণ ১০ বছর ধরে কংগ্রেস ও বিজেপি—দুই সরকারই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মোটামুটি একই ধরনের নীতি বজায় রেখেছে। আমার ধারণা, আগামী দিনগুলোতেও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক একই থাকবে। তবে মোদি সরকার যেহেতু শক্তিশালী অবস্থানে থেকে সরকার গঠন করছে, কিছু কিছু অনিষ্পন্ন বিষয় আছে যেগুলোর ব্যাপারে সাহসী উদ্যোগ তারা ইচ্ছা করলেই নিতে পারবে। সেটি নিলেই তারা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরো উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

আর আঞ্চলিকভাবে আমরা ‘মাসকুলার ফরেন পলিসি’ (আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি) দেখতে পারি, যার খানিকটা গত কয়েক মাসে আমরা দেখেছি। তবে আমি মনে করি, ভারত যদি নিজেকে উন্নত রাষ্ট্র ও এ অঞ্চলের নেতৃত্বদানকারী রাষ্ট্র হিসেবে তৈরি বা নিজেকে উপস্থাপন করতে চায়, সে ক্ষেত্রে সবাইকে নিয়ে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পারলে এ কাজটি শোভন হবে।

ভারতের জনগণ যেহেতু বিজেপিকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছে কাজেই বিজেপি সরকার সেই সমর্থনের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ, সবার সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষিণ এশিয়া গড়ায় ভূমিকা রাখবে এমনটাই তারা চাইবে। একই সঙ্গে সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস উপযোগী ভারত-দক্ষিণ এশিয়া, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যদি আমরা ধরে রাখতে পারি তাহলে আমি মনে করি, আপাতদৃষ্টিতে যে অনিশ্চয়তা বা যে ধরনের অস্বস্তি মানুষের মধ্যে আছে সেটি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

এম হুমায়ুন কবির : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট

শ্রুত লিখন : মেহেদী হাসান

মন্তব্য