kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

তিস্তা চুক্তি

অঙ্গীকার পূরণে মোদির সামনে নতুন সুযোগ

মেহেদী হাসান   

২৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অঙ্গীকার পূরণে মোদির সামনে নতুন সুযোগ

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের জয় যেন তিস্তা চুক্তি সইয়ের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সুযোগ এনে দিয়েছে। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের অঙ্গীকার করেও গত দুই বছরে তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি মোদি।

 এবার তিনি আরো শক্তিশালী সরকার গঠন করতে চলেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নরেন্দ্র মোদি তাঁর শক্তিশালী নেতৃত্ব দিয়ে স্থলসীমান্তের মতো তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিরও সমাধান করতে পারেন। বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়েও ভারতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছিল। কিন্তু মোদি ২০১৪ সালের মে মাসে ক্ষমতায় আসার পর নিজ নেতৃত্ব গুণে সেই বাধা দূর করেছেন। এরপর সর্বসম্মতভাবে ভারতের পার্লামেন্ট তা গ্রহণ করেছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারতে যে শক্তিশালী সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে তারা একটি সাহসী উদ্যোগ নিলেও অনিষ্পন্ন অনেক ইস্যুর সমাধান হবে।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মোদি সরকার চাইলে তিস্তা চুক্তি নিয়ে জটিলতা কাটাতে উদ্যোগ নিতে পারে।

ঝুলে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, বন্ধুত্বের মাধ্যমে সব কিছু অর্জন করা যাবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাত দশকের পুরনো স্থলসীমান্ত সমস্যার ঐতিহাসিক সমাধানে নরেন্দ্র মোদি সময় নিয়েছিলেন প্রায় এক বছর। এর পরই তিনি ঢাকায় আসেন। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে তাঁর ওই সফরের সময় দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা ও ফেনী নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে সব পক্ষকে নিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা স্থান পেয়েছিল।

এরপর ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কেবল আমার সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তিস্তার পানিবণ্টনের দ্রুত সমাধান খুঁজে পেতে পারে এবং তা করবে।’

নরেন্দ্র মোদির সেই প্রকাশ্য ও জোরালো আশ্বাস বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। মোদি সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে গত বছরের ২৮ মে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছে প্রশ্ন ছিল, তিস্তা চুক্তি সই করতে না পারাটা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম ব্যর্থতা কি না? জবাবে সুষমা স্বরাজ বলেছিলেন, ‘সরকারের মেয়াদ শেষ হতে পুরো এক বছর বাকি। এখনই আপনারা ব্যর্থ বলে দিলেন? একটু ধৈর্য ধরুন। আমরা চেষ্টা করছি।’

সুষমা স্বরাজের কথায় মোদি সরকারের শেষ এক বছরে তিস্তা চুক্তি সই করার চেষ্টার কথা যেমন ছিল, তেমনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মত ছাড়া তা হবে না সেই বার্তাও ছিল স্পষ্ট। বাস্তবতা হলো, মোদি সরকারের শেষ বছরেও তিস্তা চুক্তি সই হয়নি। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে কথা হয়। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির খসড়া ২০১১ সালে দুই দেশ চূড়ান্ত করেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আপত্তিতে এত দিনেও তা সই করা সম্ভব হয়নি। ভারতে নির্বাচনের আগে জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ ছিল—সে বিষয়েও বাংলাদেশ অবগত। নির্বাচনের পর এখন ভারতের নতুন সরকার পশ্চিমবঙ্গের আপত্তি নিরসনের উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত চুক্তিটি সই করলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন বার্তা দেবে। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরের পর ফিরতি সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে আসার কথা। সেই সফরে তিস্তা চুক্তি সই করা সম্ভব হলে তাও হবে দুই দেশের বড় অর্জন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা